নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনে আয় বাড়লেও বাড়েনি যাত্রী সেবার মান

মোঃ আলাউদ্দিন, নাঙ্গলকোট :–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনটি বিভিন্ন অবহেলায় বেহালদশা হয়ে পড়েছে। এ রেলওয়ে স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ৪টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ ১৫-২০টি ট্রেন চলাচলা করে। ট্রেনের টিকিট স্বল্পতা ছাড়া হকার ও দোকান বরাদ্দের হিড়িক চলছে প্লাট ফর্মের উপর, ছিনতাইকারী ও পকেট মারদের উপদ্রব বেড়েই চলেছে। এ স্টেশন থেকে সরকার প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা আয় করলেও স্টেশনটির উন্নয়ন ও সাধারণ যাত্রী সেবার মান এখনও বাড়েনি। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত শত বছরের পুরাতন অবকাঠামো জীর্ণ অবস্থায় বিরাজ করছে স্টেশনটি। কয়েক উপজেলার রেল যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্রস্থল এই স্টেশটির বিভিন্ন অব্যবস্থা, অনিয়ম, নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে যাত্রী সাধারণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে এই স্টেশনে নেই কোন পানির ব্যবস্থা, নেই কোনো বিশ্রামাগার। প্লাট ফর্মে নামমাত্র কয়েকটি চেয়ার দিয়ে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা যাত্রী সংখ্যার তুলনায় খুবই নগন্য। ফলে সাধারণ যাত্রীদের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে চেয়ারগুলো যাত্রীদের চেয়ে টিকেট কালোবাজারি, চোরকারবারি, ছিনতাইকারী, টোকাই ও ভাসমান পতিতাদের দখলেই বেশি থাকে। এতে করে ট্রেনের যাত্রীরা আরও বেশি হয়রানির শিকার হয়। এছাড়াও প্লাট ফর্মে মোবাইল ফোনসহ নানা ধরনের চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এদিকে পুরো স্টেশনে টিন শেড নাকায় যাত্রীদের রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ট্রেনে উঠা নামা করতে হয়। ফলে সাধারণ যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ এ ষ্টেশন থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি টাকার উপর আয় করছে। দিন দিন আয়ের পরিমান বাড়লেও যাত্রী সাধারণের চলাচলের কোনো সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছেনা। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নাঙ্গলকোট রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার আনোয়ার হোসেন আমাদের প্রতিনিধিকে মো: আলাউদ্দিনকে জানান, সমস্যাগুলো উল্লেখ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। আশাকরি অতিদ্রুত এ ষ্টেশনের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply