২০ দলীয় জোটের আন্দোলন হুমকি-ধামকিতেই সীমাবদ্ধ

—এস.এম সাজু আহমেদ

বর্তমান ২০ দলীয় জোট এবং ১৪ দলীয় মহাজোট দেশের রাজনীতির অঙ্গণে প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোট। এ দুটি জোট রাজনীতিতে প্রধান প্রতিপক্ষ এবং প্রধান শত্রু্ও বটে। গত ৫ জানুয়ারী ১৮ দলীয় জোটকে বাদ দিয়েই ১৪ দলীয় মহাজোট এককভাবে নির্বাচন করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করে দেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এছাড়া বর্তমানে দেশের বিরোধীদল হিসেবে জাতীয় সংসদে আসন করে নিয়েছে জাতীয় পার্টি।

তবে আজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোট অথবা বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলকে নিয়ে কোন আলোচনা নয়, আজ সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা সাবেক বিরোধীদল এবং বর্তমান প্রধান বিরোধীজোট বিশ দলীয় নেতাদের আন্দোলনের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি, হুঁশিয়ারী এবং কঠোর হুঁশিয়ারী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
20 dal jot
গত ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট (বর্তমান ২০ দলীয় জোট) প্রধfন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা এবং জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ক্ষমতাসীন আ্ওয়ামীলীগ সরকারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে নামতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোটের হুমকি ধামকি অনেকটা যেন শুধু এরকম হুঁশিয়ারিতেই সীমাবদ্ধ। হুমকি কঠোর তবে এই হুমকির আন্দোলন বাস্তবায়ন করা যেন অনেকটা ফ্রিজে রাখা পানির মতই ঠান্ডা।

দশম নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান বিশ দলীয় জোট, সরকার বিরোধী নানা রকম হুমকি দিলেও দাবি আদায়ে এখনো রাজনীতির মাঠে নেমে সেসকল দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে আন্দালন করতে দেখা যায়নি। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই বিরোধীজোট এখন অনেকটা যেন তাদের আন্দোলনের খেই হারিয়ে ফেলেছে।

এদিকে গত জুলাই মাস অর্থ্যাৎ রমজান মাসের প্রথম থেকেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাসসহ জোটের শরীক দলের শীর্ষ নেতারা ঈদুল ফিতরের পরপরই সরকারেকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে নির্বাচন দিতে বাধ্য করার কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়েছিলেন। তবে সেকল হুঁশিয়ারী্ও যেন একেবারেই শুধু হুঁশিয়ারীতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

রমজানের মাঝামাঝিতে বেশ কয়েকটি ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই জালিম ও অত্যাচারী সরকারকে বিদায় করার জন্য ঈদের পর আমরা আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করবো। আমার বিশ্বাস, এই কর্মসূচির মাধ্যমেই জালিম সরকারকে বিদায় করতে পারবো। খালেদা জিয়া সরকারকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, বন্দুকের জোর দেখাবেন না। বন্দুকের জোরে কেউ ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। এই বন্দুকই একদিন আপনাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। অন্য আরো এক ইফতার মাহফিলে বলেছিলেন, দেশ আজ মহাসংকটের মধ্যে আছে। বর্তমান সরকার পদে পদে দেশের সর্বনাশ করছে। এর থেকে দেশকে উদ্ধার করতে সবকিছু ভুলে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে বিদায় করতে হবে।

বিশ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া্ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রমজান এবং রমজান পরবর্তী বেশ কয়েকটি বক্তব্যে বলেছিলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানো হবে। ঈদ পরবর্তী আবার গত ১৬ ই আগষ্ঠ বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দেশ আজ গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য শেখ মুজিব বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর শেখ হাসিনা বিনা নির্বাচনে ক্ষমতায় গিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চান। তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো হবে। তিনি সরকার পতন আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়াও বিশ দলীয় জোটের শীর্ষ মহলের নেতারা্ও ক্ষমতাসীন আ্ওয়ামী সরকারকে যেকোন মূল্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে টেনে হিচঢ়ে নামানোর মত কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়ে আসছেন। তবে বিএনপির এইসকল আন্দোলনের বাণী এখনো পুরোপুরি শুধু মাত্র কঠোর হুঁশিয়ারীর বাণীতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, এখনো কোন আন্দোলনের কার্য্যক্রম বাস্তবায়ন করার তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এখন গত কয়েকদিন হলো কিছু ঠান্ডা কর্মসূচি পালন করতে শুরু করেছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে চলতি মাসের ১৬ তারিখ রাজধানীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক কর্মসূচি পালনে করে। এছাড়া গতকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে রাজাধানীর সোহরা্ওয়াদী উদ্দ্যানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বর্তমান প্রধান বিরোধী জোট বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

======================================

লেখক: এস.এম সাজু আহমেদ (সাংবাদিক ও কলাম লেখক)
প্রয়োজনে: ০১৯১৭-৫২০৮৯৭
Mail-smshaju7@gmail.com

Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply