সুস্থ ন্যান্সি যেকোনো সময় হাসপাতাল ছাড়ছেন

ঢাকা :–

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি এখন অনেকটাই সুস্থ। দুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর সোমবার সকালে ন্যান্সিকে আইসিইউ থেকে কেবিনে আনা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার হাসপাতালে ছাড়তে পারেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে কেবিনে আছেন ন্যান্সি। হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর ডা. আলী আবরার জানান, ন্যান্সি এখন অনেকটা ভালো। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেয়া হয়েছে। তবে এখনই পুরোপুরি সুস্থ বলা যাবে না। সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে কিছু দিন সময় লাগবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় উঠতে চান ন্যান্সি। সোমবার তার মেয়েকে হাসপাতালে আনেন স্বামী। তবে পরিবার থেকে ন্যান্সির অসুস্থ্যতা নিয়ে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করা হলেও তার আত্মহত্যার ঘটনাটি শোবিজ জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভদ্র নম্র ও কোমল স্বভাবের সুরেলা কণ্ঠের অধিকারী ন্যান্সির আত্মহত্যার কারণ শিল্পী জগতে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
আত্মহত্যার নেপথ্যে: জানা গেছে, শুক্রবার নেত্রকোনায় নিজ বাসায় ঘুমে বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার পেছনে কাজ করেছে ন্যান্সির দ্বিতীয় স্বামীর মানসিক নির্যাতন। ন্যান্সি সুখের আশায় প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ময়মনসিংহ পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিমুজ্জামান জায়েদকে বিয়ে করেন দু’বছর আগে। ইতোমধ্যে তার কোল জুড়ে এসেছে একটি মেয়ে নাম নায়লা (৮মাস)। প্রথম স্বামীর ঔরসে রোদেলা নামে ৫ বছরের আরেকটি মেয়ে আছে। এই মেয়েটি ন্যান্সির সাথে থাকে। গান গাওয়া, স্টেজ শো এবং দেশ বিদেশে প্রোগ্রামের ব্যাপারে আপত্তি করেন স্বামী জায়েদ। বিয়ের সময় ন্যান্সির পেশাগত কাজে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিলেও জায়েদ তার বাবা মার পরামর্শে ন্যান্সিসে গান থেকে দুরে রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি ন্যান্সি মেনে নিতে পারেননি। তাছাড়া প্রথম স্বামীর মেয়ে রোদেলাকে নিয়েও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শ্বাশুড়ি রোদেলাকে মেনে নিতে পারেনি। দু’বছর আগে বিয়ে করে স্বামীর সাথে ময়মনসিংহে থাকা শুরু করেন ন্যান্সি। এসময় ন্যান্সি তার নিজের টাকায় স্বামীর বাড়িতে টাইলস লাগান এবং এসি সংযোগ দেন। শ্বশুড় আগে চাকরি করলেও এখন তাবলিগের সাথে জড়িত। যে কারনে বউমার গান গাওয়া বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেন ছেলেকে। জায়েদও বাবা মার চাপে ন্যান্সিকে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে ঘর সংসার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এজন্য ন্যান্সি চার মাস আগে ময়মনসিংহে শ্বশুড় বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে বাস করতে থাকেন। কিন্তু কিছুদিন আগে মা মারা যাবার পর ন্যান্সি আরো একা হয়ে পড়েন। এদিকে মায়ের মৃত্যুর দু;মাস পরই বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ফলে একেবারেই অসহায় পড়েন ন্যান্সি। সম্প্রতি নানামুখী চাপে ন্যান্সি গানে ঠিকমত সময় দিতে পারতেন না। কোন অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রামে গানের জন্য স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে হতো। ফলে জীবনের সাধনা গান নিয়ে চরম বাধার মুখে পড়েন ন্যান্সি। এজন্য মাঝে মাঝে নেত্রকোনায় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে একাকি সময় কাটাতেন। বৃহ:বার দু মেয়েকে নিয়ে নেত্রকোনার বাড়িতে উঠেন ন্যান্সি। খবর পেয়ে স্বামী জায়েদও হাজির হন বাসায়। সেখানে শ্বশুর বাড়িতে যাবার জন্য জায়েদ ন্যান্সিকে চাপ দেন। কিন্তু গান ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করলে এক পর্যায়ে জায়েদ ঝগড়া করে ৮ মাস বয়সী মেয়ে নায়লাকে নিয়ে ময়মনসিংহে চলে আসেন। এসময় রাগে ক্ষোভে ৬০টি ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ন্যান্সি। জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ায় আপাতত আশংকামুক্ত হলেও সংসার ও গান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মুখে ন্যান্সির আগামী জীবন। গত দুদিনে স্বামী জায়েদ হাসপাতালে ঘোরাফেরা করলেও মেয়ে নায়লাকে কাছে আনেননি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় উঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন ন্যান্সি। এক্ষেত্রে মেয়েকে ফিরে পেতে আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারেন এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে ন্যান্সির এই পারিবারিক জটিলতার বিষয়টি গানের জগতের অনেকে জানতে পেরে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সম্ভাবনাময় এই শিল্পীর প্রতি। শিল্পী ওয়াহিদ, নাজনীন ও মনির খান দু:সময়ে ন্যান্সির পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর অসংখ্য ভক্ত চান ন্যান্সি আবার ফিরে আসুক গানের জগতে। কারণ দেশকে অনেক কিছু দেয়ার আছে ন্যান্সির।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply