কুবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন,কুমিল্লা :–

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে ৩ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা ও লোক প্রশাসন বিভাগের ৫ম ব্যাচের ছাত্র রেজা এলাহীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাত পৌণে ১২টা থেকে গভীর রাত ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত কুবি শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হামলা-পাল্টা হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সোমবার সকাল ১০টায় কুবি প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস গ্রুপ সেখানে অবস্থা করছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও কুবি বাসগুলো ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছে না।
ক্যাম্পাস সুত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুম সমর্থিত মাসুম গ্র“প ও ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াছ হোসেন সবুজ সমর্থিত ইলিয়াছ গ্র“পের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এদিকে গুলি বিনিময়ের কথা অস্বীকার করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী কুবির শিক্ষার্থীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনতাইসহ বিভিন্ন ভাবে শিক্ষার্থীদের মারধর করে আসছে। গতকাল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে তার জবাব দিতে গেলে এলাকাবাসীর সাথে সামান্য সংঘর্ষ হয়। এতে কোন প্রকার গুলি বিনিময় হয়নি।”
এছাড়া ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ ইলিয়াছ গ্রুপের প্রধান ইলিয়াছ হোসেন সবুজ জানান, ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ৩ মাসের জন্য মাসুমকে আহবায়ক করে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ৪৮ জনের মধ্যে ৩৭ জন এমবিএ, মাস্টার্স শেষ করে কুবি ছেড়ে কর্মজীবন শুরু করে দিয়েছে। আহবায়ক মাসুমের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে। সে বর্তমানে বিবাহিত। এ সব বিষয় নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছি। এরই জের ধরে “বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে মাসুম গ্রুপের কেডাররা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে হামলা চালিয়ে ছাত্রদের মারধর করে। এসময় তারা ৫টি রুমে ভাংচুর করে। এসময় আমার সমর্থিত ১০ জন আহত হয়। এ সময় মাসুম তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রাত পৌণে ১২টা ধীরেন্দ্রনাথ হলে হামলা চালিয়ে কক্ষে থাকা ল্যপটপ, মডেম, মোবাইল, ক্যামেরা, নগদ অর্থ লুটপাট করেছে। এ সময় মাসুম বাহিনী প্রায় শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষক করেন।
এ বিষয়ে কুবি ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুম অভিযোগ স্বীকার করে বলেন- ইলিয়াসের বক্তব্য মিথ্যা। সে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারী। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হয়েছিল। যদিও খেলোয়াড় কোটা বলে কোন কোটা নেই। সে সদর দক্ষিণের পেরুল ইউনিয়ন ছাত্রদলেল সভাপতি এবং বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত কুবি ছাত্রদলের সভাপতি। সে কিভাবে ছাত্রলীগ নেতা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ আইনুল হক জানান, “আমি রাতে ফোন পেয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল পরিদর্শন করেছি। এসময় কিছু ভাংচুরের আলামত দেখতে পেয়েছি। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নিব। বিশ্ববিদ্যালয়েল রেজিষ্ট্রার মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা পাল্টা হামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিবো।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদরুল যুগান্তরকে জানান, ক্যাম্পাস এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। রাতের সংঘর্ষের ব্যাপারে তিনি বলেন- ছাত্রলীগের মাসুম ও ইলিয়াস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কয়েকটি শব্দ শুনেছি। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply