কুমিল্লায় ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

মো: শাকিল মোল্লা, কুমিল্লা :–

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার রূপাবেরী গ্রামের রবিবার যুক্তিখোলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দানবীর ও সমাজ সেবক হারুনুর রশিদ এর হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা হত্যাকান্ডে জড়িতরা প্রাকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করার অভিযোগ তুলেন এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা হাজী আব্দুল মজিদ, মা মোসা: জপুরা বেগম, আবু তাহের, ছবির আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আবু ইউসফ, নাবু সর্দার, আলী আশ্রাফ, প্রফেসর আলম হোসেন, হারুনুর রশিদ, ডা: রফিকুল ইসলাম, নুরুল রহমান, ছাবির আলী, আহছান উল্যাহ, মাও: আ: মান্নান, স্বপন, অহিদুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, লেয়াকত উল্যাহ, আলী আহম্মদ, শহিদ, আলম, রাসেল, সাইফুল সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জায়গা সম্পত্তির বিরুধকে কেন্দ্র করে নাঙ্গলকোট উপজেলার রূপাবেরী গ্রামের যুক্তিখোলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দানবীর ও সমাজ সেবক হারুনুর রশিদ এর সাথে একই গ্রামের আ: রহিম এর পুত্র ফরিদ আহম্মেদ দুলাল এর দ্বন্দ্ব চলছিল। তার জের ধরে ফরিদ আহম্মেদ দুলাল গত বছরের ১৬ আগষ্ট অভিযুক্ত অন্যান্য আসামীদের নিয়ে হারুনুর রশিদকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৮ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৩০৪। মামলার অন্যান্য আসামীরা হল একই গ্রামের মৃত: আলী আকবরের পুত্র মো: আবু হাতের (৫০), আব্দুর রহিম এর পুত্র কবির আহম্মেদ হৃদয় (২৮), আবু তাহের এর পুত্র মহিন উদ্দিন মানিক (২৯), সাইফুল ইসলাম (২৫), আব্দুর রহিম এর পুত্র বিল্লাল হোসেন রিপন (৩৫), তাজুল ইসলাম এর পুত্র আতর ইসলাম (৩৬), মৃত: আব্দুল করিম এর পুত্র আব্দুর রহিম (৬০), মৃত: কালা মিয়ার পুত্র রুহুল আমীন (৩৪), খোকন (৪০), মৃত: সুরুজ মিয়ার স্ত্রী সেনোয়ারা বেগম (৪৫), আব্দর রহিম এর স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫৫), মৃত: আলী আকবর এর পুত্র আবুল কাশেম (৪৮), মৃত: আলী আকবর এর পুত্র আলী মিয়া (৫২), মৃত: জয়নাল আবেদিন এর পুত্র রাসেল (২৩)। মামলা দায়েরর পর থেকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে ওই প্রভাবশালী গ্রুপ। বর্তমানে উক্ত আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কোন ভূমিকা পালন করছে না।
নিহত হারুনুর রশিদ এর স্ত্রী পেয়ারা বেগম জানান, আমি চৌদ্দগ্রাম স্কুলে লেখা-পড়া করার সময় থেকে ফরিদ আহম্মেদ দুলাল আমাকে বিভিন্ন ভাবে উদ্যক্ত করার চেষ্টা করত। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে আমার বিয়ে হয়ে যাবার পর সে বিভিন্ন সময় আমার ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। দাম্পত্য জীবনে আমার চারটি সন্তান নিয়ে আমি স্বামীর সংসারে সুখেই কাটাচ্ছিলাম। পূর্ব ঘটনার জেরধরে গত বছর আমার স্বামীকে ফরিদ আহম্মেদ দুলাল সহ তার সহযোগীরা মিলে আমার স্বামীকে খুন করে। আমি আমার স্বামী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
নিহতের মা জপুরা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিল প্রবাস থেকে ফিরে যুক্তিখোলা বাজারে ব্যবসা করেছে। সে কারো সাথে কোনদিন ঝগড়া-বিবাদে জড়িত হয়নি। যারা আমার ছেলেকে আমার সামনে খুন করেছে আমি তাদের ফাঁসি দাবী করছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply