সফলভাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শেষে লেবানন হতে দেশে ফিরেছে নৌবাহিনী জাহাজ ‘ওসমান’ ও ‘মধুমতি’

কুমিল্লাওয়েব ডটকম, চট্টগ্রাম :–

দীর্ঘ চার বছর ভূ-মধ্যসাগরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় লেবাননে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরেছে নৌবাহিনী জাহাজ ‘ওসমান’ ও ‘মধুমতি’। আজ ১১ আগস্ট ২০১৪ তারিখ জাহাজ দুইটি চট্টগ্রামস্থ নেভাল জেটিতে আগমন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ¯¦াগত জানান সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশান্স) রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি। এসময় চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডারগণসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও আগত জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফল এর আওতায় ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টি ন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সে অংশগ্রহণের উদ্দেশে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ওসমান ও মধুমতি লেবানন গমন করে। যোগদানের পর থেকে জাহাজ দুটি লেবাননের ভু-খন্ডে অবৈধ অˉ¿ এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে লেবানীজ জলসীমায় মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফ্ট এর উপর নজরদারী, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানীজ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। লেবাননে অবˉ’ানকালীন সময়ে গত চার বছরে জাহাজ দুটিতে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১২৮০ জন সদস্য অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও শৃংখলার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন।

জাহাজ দুটি মেরিটাইম টাষ্কফোর্সের আওতাধীন অন্যান্য দেশের জাহাজসমূহের সাথে নিয়মিত সামরিক মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। যা বিশে¡র উন্নত দেশের নৌবাহিনী স¤পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি জাহাজে অবˉ’ানরত কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গত চার বছর জাহাজ দুইটি ভু-মধ্যসাগরে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে টহলদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে। এছাড়াও বৈদেশিক মূদ্রা উপার্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখেছে। উল্লেখ্য, উক্ত সময়ে জাহাজ দুটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রায় ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ৫২ হাজার ৯২৬ মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দীর্ঘদিন অপারেশনাল কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যজনক অবদানের ¯¦ীকৃতি ¯¦রুপ শীঘ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা ওসমান’ কে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করবেন বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে বানৌজা ওসমান ও মধুমতি গত ১৫ জুন ২০১৪ তারিখ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং প্রায় ৭ হাজার ন্যটিক্যাল মাইল সমুদ্রপথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে পৌছায়। জাহাজ দুটিতে মোট ৩২০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক রয়েছেন। এর আগে গত ১৩ জুন ওসমান ও মধুমতির প্রতিˉ’াপক হিসেবে যুদ্ধজাহাজ আলী হায়দার ও নির্মূলকে লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত করা হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply