‘মিনি কক্সবাজার’ নামে খ্যাত কুন্ডা-পুটিয়া ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড়

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :–

সামনে আকাশী বিল । বিশাল হাওর। সড়কের দুই পাশে পানি আর পানি। দেখতে চমৎকার পরিবেশ। তাই এলাকাবাসী নাম দিয়েছে মিনি কক্সবাজার। ঈদকে ঘিরে মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাত ধরন্তী-পুটিয়া ঘাটে হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারনায় মূখরিত হয়ে উঠেছে এ স্থানটি। ঈদের নামাজরে পর পরই শুরু করে মানুষের আসা-যাওয়া। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সব বয়সের মানুষ আসতে থাকে ধরন্তী-পুটিয়া ঘাট। গত দুই দিন ধরে বাধঁ ভাঙ্গা জোয়ারের মত হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে এখানে। তবে শিশু,কিশোর ও নারীর সংখ্যা অনেক বেশী। স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও নাসিরনগর-সরাইল উপজেলায় সরকারি-বেসরকারিভাবে কোথাও গড়ে উঠেনি কোন বিনোদন কেন্দ্র । বিনোদন কেন্দ্র গড়ে না উঠায় ঈদ উৎসব ও পূজা পারণে এলে কর্মস্থল থেকে ছুটিতে আসা বিনোদন প্রেমিরা এটকু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে এই খানেই ভিড় করেন। এবারের ঈদ উৎসবেও এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নাসিরনগর-সরাইল উপজেলার মানুষ ছাড়াও আশে-পাশের উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুরা ঘুরতে এসেছেন । কেউবা এসেছে কার,মাইক্রোবাস,মিনিবাস,অটোরিকশা,ভ্যান,মোটর সাইকেলে করে,আবার কেউবা এসেছে পাঁয়ে হেঁটে । এ যেন ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। এ সবই শুধু একটু আনন্দ উপভোগ করার জন্য। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার খোকন নন্দী স্ত্রী ফিনু রানী দাস,ঔষধ কোম্পানীর কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন,ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সহকারী জোনাল ইনর্চাজ সরাইলের বাসিন্দা দুলাল সূত্রধর জানান, নাসিরনগর-সরাইলে কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় সবাই আমরা বিল আকাশীর বুকে এসেছি। উন্মুক্ত পরিবেশ আমাদের আনন্দ দিয়েছে। নাসিরনগর-সরাইল সড়কে ধরন্তী-পুটিয়া নামক স্থানে মনোরম পরিবেশে নির্মিত এই বিনোদন স্থানটি। উত্তরাঞ্চলের সৌর্ন্দয পিপাসু কয়েক লাখ মানুষের কাছে সেরা স্থান হিসেবে খ্যাত ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করে করেছে।
Nasirnagar Picture(MINI-COXBAZAR--IDUL FITOR)-1 লাখাই-নাসিরনগর-সরাইল সড়ক বিল আকাশীর বুক দিয়ে নির্মাণ হওয়ায় হাওর বেষ্টিত কুন্ডা-পুটিয়া খেয়াঘাট এখন আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে । একে ঘিরে অসংখ্য প্রকৃতি প্রেমিক উপভোগ করছে হাওরের মনোরম পরিবেশ । এ বিল ৬ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে আর ৬ মাস শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করে। শুষ্ক মৌসুমে বিল আকাশী সবুজের সমারোহ আর বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানিতে থৈ থৈ করে । এসময় মনে হবে এ যেন বিল নয় বিশাল এক সমুদ্র । দুই পাশে পানি আর পানি। তীরের ন্যায় সড়কের গোড়ায় এসে আছরে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। শো শো বাতাস সব মিলিয়ে মন উত্তাল করার মত পরিবেশ। হাওরের জলে সাঁতার কেঁটে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে প্রাণ জুড়ান সৌন্দর্য পিয়সী মানুষ। মাঝে মাঝে রাস্তায় ছোট বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পা ভিজে যায়। এ মনোরম দৃশ্য দেখতে ব্রাক্ষণবাড়ীয়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক দুর দুরান্ত থেকে প্রতিদিন বিনোদন পিপাসুরা ভিড় জমায়। ভ্রমন পিয়াসী মানুষ অবসরে নির্মল আনন্দ খুজে বেড়ায়। আর এই টানেই শত শত মানুষের ঢল নামে বিল আকাশীর বুকে। বর্ষার মৌসুমে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে এখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসে রিক্সা,মোটর সাইকেল, সি.এন.জি,মাইক্রোবাস,ইঞ্জিল চালিত নৌকায় আবার কেউ বা আসে পায়ে হেঁটে। বিল আাকাশী, বিল শাপলা,বিল উরল নামে হাওর বেষ্টিতর মধ্যে দিয়ে নির্মিত হয়েছে লাখাই-নাসিরনগর-সরাইল সড়ক । অথচ একসময় বর্ষাকালে বিল আকাশী ছিল অথই সমুদ্্েরর মত। এখন বদলে গেছে এর দশপট। বর্ষার মৌসুমে রাস্তার দ্ইু পাশে থৈ থৈ পানি মাঝে পিচঢালা পথ। দেখে মনে হবে এ পথটি যেন পানিতে ভাসছে। দুরে-দুরে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট গ্রাম যা দেখতে অনেকটা দ্বীপের মত আর বিকেলে স্নিদ্ধ বাতাস, দলায়িত ঢেউ,নৌকায় ঘোরাঘুরি আর শেষ বিকেলের সূর্যান্ত এ যেন এক অপরুপ দৃশ্য, যা দেখতে ভালই লাগে । ফলে দর্শকদের ভিড়ে বিল আকাশী মুখরিত হয়ে উঠে। ১ কিলোমিটার রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার সরকারী ছুটিতে লোক সমাগম হয় বেশী। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরাই আসে বেশী । অনেকের মতে এটি প্রেম নিবেদনের নিরাপদ স্থান। রাস্তার দু”পাশে ব্লকের উপর জোড়ায়-জোড়ায় বসে আবার কোথাও দলবেধেঁ ছেলে-মেয়েরা বসে গল্প গুজব করে। আবার কেউ কেউ লাফিয়ে পানিতে পড়ে সাতার কাঁটে। কেউ নৌকায় অনেক দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করে। অনেকে স্থানটিকে স্বল্প¬-স্থায়ী হানিমুনের জন্য বেছে নেয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঢেউয়ের তুলনায় এখানের ঢেউ ছোট। বিকাল শেষে যখন গোধূলী আসে, পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্তমিত হতে থাকে তখন সমস্ত আকাশ লাল হয়ে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। এজন্য অনেক ভ্রমন পিপাসু স্থানটিকে বলছেন মিনি কক্সবাজার । এখানে সংসদ সদস্য, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ অনেক বরণ্যে ব্যক্তিবর্গ আসেন । আনন্দ ভ্রমনের এমন সুযোগ এর আগে আর মেলেনি এ অঞ্চলের মানুষের । কিন্তু এখানে টয়লেট নেই,বসার ব্যবস্থাও এখনও করা হয়নি। তাড়াছা নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে পিকনিক পাটির আগমনে এলাকাটি থাকে উৎসব মুখর । আষাঢ়-আশ্বিন মাস পর্যন্ত মানুষের সমাগম ঘটে বেশী। এ হাওর বিলে বর্ষা মৌসুমে পাওয়া যায় মিটা পানির স্বাদের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ । বিশিষ্ট জনদের মতে এ হাওর অঞ্চল দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক লাভবান হতে পারে । এর জন্য সম্বনিত প্রয়াস প্রয়োজন। বর্ষা ও শীত মৌসুমে এ হাওরের অনন্য অপূর্ব রুপকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন সরকারী পৃষ্ঠ-পোষকতা। এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা হলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় হবে অপর দিকে মৎস্য চাষের পাশাপাশি কম খরচে স্বল্প সময়ে পর্যটকরা এখানে যাতায়াত করতে পারবে ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply