মুলদ্বন্দ কে হবে ফরাজীকান্দির পীর : মতলবে ঈদ জামাতের ইমামতিকে কেন্দ্র করে হামলা নিহত ১ আহত ৩০

শামসুজ্জামান ডলার,মতলব উত্তর প্রতিনিধি :–

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দিতে ঈদের জামাতের ইমামতিকে কেন্দ্র করে হামলায় নিহত ১ ও আহত হয় ৩০ জন। ফরাজীকান্দি দরবারের পীর শায়খ মানযূর আহমদের মৃত্যুর পর গত বছরে ঈদের জামাতের ইমামতি নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যগনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক মিমাংসা হয়। গত ২৯ জুলাই মঙ্গলবার ঈদুল ফিতরের জামাত নিয়ে সংঘাতের শঙ্কায় পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ফরাজীকান্দি কমপ্লেক্স মসজিদে সকাল ৯ টা ও ১০ টায় পৃথক দুটি ঈদের জামাত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মতে পীরজাদা শায়খ মাশউদ আহমদের ইমামতিতে ৯ টার প্রথম জামাত শেষে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা আমেরিকার প্রবাসী বর্তমান পীর শায়খ মুস্তাক আহমদের লোকজন লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পিছন দিক থেকে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার স্বীকার স্থানীয় তফাদারপাড়া গ্রামের মনু মোল্লার ছেলে দর্জি কারীগর রফিকুল ইসলাম (৩২) কে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। হামলায় গুরুূতর আহত শাখারীপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা নড়ছে। এছাড়া চাঁদপুর সদর ও মতলব সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঠাকুরপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন (৩৭), নয়াকান্দি গ্রামের নজির আহম্মদ (৪৩), শাখারীপাড়া গ্রামের জসিম ভূঁইয়া (৩৫), স্বপন মোল্লা (৩৬), তফাদার পাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ (৫৫), নুর মোহাম্মদ (৬২), ঠাকুরপাড়া গ্রামের শরীফ উল্যাহ (৪২), ফরাজীকান্দি গ্রামের সিরাজ মিয়া (৫৫)। আর তফাদার পাড়া গ্রামের খোরশেদ মাঝি (৫২), ঠাকুরপাড়া গ্রামের সফিক বেপারী (৪৮), তফাদার পাড়া গ্রামের কবির হোসেন (৩৫), ওয়াসিম (৩০), শাখারী আব্দুল গনি (৪৬), হিমেল (২২), হাজিপুর গ্রামের কালু মিয়া (৩২) সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়।

ঈদের দুইটি জামাতের সিদ্ধান্তটি এক মাইকেই এলাকায় প্রচার হওয়ার আমেরিকা প্রবাসী পীর শায়খ মুস্তাক আহমদের সমর্থক ফরাজীকান্দি গ্রাম ও ঐ মাদ্রাসারই লোকজন লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ত্রাস সৃষ্টির জন্য ফরাজীকান্দি মাদরাসা ক্যাম্পাস থেকে শুরুূ করে ফরাজীকান্দি বেড়ি বাঁধ, শাখারীপাড়া ও বাদামতলী হয়ে পুনরায় বেড়িবাঁধের রাস্তায় এসে দোকানপাট এলাকায় আসে। বিক্ষোভ মিছিলটি বেড়িবাঁধের উপর মরহুম পীরের সন্তান পীরজাদা মাসউদ আহমদের সমর্থকদের দোকানে ডুকে বেদর মারধর, লুটপাট ও দোকানপাট ভাংচুর করে বলে আহতরা জানায়। রাত ৯টায় মতলব উত্তর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফরাজীকান্দি দরবারের বর্তমান পীরের ছোট ভাই ও দরবারে তদারককারী মোকাদদাস আহমদের কাছ থেকে এই পক্ষ থেকে কোন ধরনের ঝগড়া হবে না বলে লিখিত নেন। এরপরেও বর্তমান পীরের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে হামলা বলে জানান প্রথম জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লি ফারুক আহমদ, আবদুল বাতেন, ইঞ্জি. রেজাউল করীমসহ বেশ কয়েকজন।
বর্তমান পীরের অনুসারী ফরাজীকান্দি গ্রাম ও কমপ্লেক্সের লোকজনের হামলায় ফরাজীকান্দি বেড়িবাঁধের উপরে পীরজাদা মাসউদ আহমদের সমর্থক জাকির হোসেন, মোস্তফা, ইদ্রিস, মাহবুব সরকার ও মাসুদ হোসেনদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করেন।

বিকাল ৪টায় হামলার শিকার রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর সংবাদে বিক্ষোব্ধ জনতা হামলা চালিয়ে ফরাজীকান্দি গ্রামের ভিতরে চারটি টংদোকান ৩টি খড়ের স্তুপ পুড়িয়ে ফেলে এবং ৮/১০টি বসত ঘরের দরজা জানালা বেড়া ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

নিহত রফিকুল ইসলামের ভাই আবুল হোসেন বাদি হয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় বর্তমান পীরের ভাই মোকাদ্দাস আহমদকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

২০১২সালের ১অক্টোবর ফরাজীকান্দি দরবারের পীর শায়খ মানযূর আহমদের ইন্তেকালের পর থেকেই কে হবে এই দরবারের পীর তা নিয়ে তৈরি হয় এ জটিলতা। তখন আমেরিকা প্রবাসী পীরের ছোট ভাই মোস্তাক আহমদ নিজ থেকেই পীরের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। আর মরহুম পীরের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত পীরজাদা মাসউদ আহমদ সহ তার মা ও বোনের উপর বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার শুরু হয় বলে জানায় পীরজাদার সমর্থকের বেশ কয়েকজন। পীরজাদা মাসউদ এর সম্পত্তিতে অধিকার ফিরিয়ে দিতে কয়েক দফায় গণ্যমান্যদের নিয়ে শালিস দরবার হলেও কোন সমাধান হয়নি।

ফরাজীকান্দি দরবার শরীফের কমপ্লেক্স এলাকায় শতাধিক একর জমি, ২৫ এর অধিক পুকুর, আয়বর্ধক বিভিন্ন খামার, চট্টগ্রামে মাসউদ আহমদ এর নানার দানকৃত পৌনে ১’শ কোটি টাকার জমি, ঢাকায় একাধিক বাড়ী, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চাঁদপুর জেলা শহরে একাধিক জায়গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের জমিজমা রয়েছে।

মরহুমদ পীর শায়খ মানযূর আহমদের মৃত্যুর বর্ষপূর্তি নিয়েও চলে চাচা ভাতিজার দ্বন্দ্ব। চাচায় ইংরেজী মাস ও ভাতিজা আরবী মাস অনুযায়ী পৃথক পৃথক ভাবে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply