ঘাতক স্বামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : বন্ধুদের দিয়ে ধর্ষণের পর চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় স্ত্রী সালমাকে

নাজমুল করিম ফারুক :–

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বন্ধুদের দিয়ে ধর্ষণের পর চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নববধু সালমাকে। ঘাতক স্বামী উপজেলার গাজীপুর গ্রামের ওয়াছেক মিয়ার ছেলে ইউসুফ মিয়া (২২) আজ সোমবার আদালতে দেয়া জনাববন্দিতে তা স্বীকার করেন।
আদালতে দেয়া জবানবন্দির সূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে তিতাস উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের মোঃ মেহরাজ মিয়ার মেয়ে সালমা আক্তারের বিয়ে হয় একই উপজেলার গাজীপুর গ্রামের পাতলা পট্টির মোঃ ওয়াছেক মিয়ার ছেলে মোঃ ইউসুফ মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে স্বামী ইউসুফ মিয়াকে ১ লাখ টাকা নগদ ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার দেয়ার কথা থাকলেও তখন ৫০ হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার দেয়া হয়। বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য স্বামী ইউসুফ মিয়া সালমাকে বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। বিশ দিন বাবার বাড়ীতে থাকার পর একমাত্র বড় ভাই বিদেশ থেকে টাকা পাঠায়। স্বামী ইউসুফ আলী গত শুক্রবার শশুর বাড়ী থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও সালমাকে নিয়ে নিজের বাড়ী গাজীপুরে আসে। নববধু বাবার বাড়ী থেকে ৫০ হাজার টাকা আনার পরও স্বামীর লোভ পড়ে সালমার কাছে থাকা দুই ভরি স্বর্ণালংকারের উপর। গত শনিবার স্বামী ইউসুফ মিয়া উক্ত স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে চাইলে সালমা তাতে বাঁধা দেয়। আর এর জের ধরে ইউসুফ মিয়া শনিবার রাতে তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশার পর কৌশলে ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। এসময় বাহিরে উৎপেতে থাকা দুই বন্ধু সালমাকে প্রথমে মুখের ভেতর রুমাল দিয়ে উড়না দিয়ে মুখ বেঁধে গ্রামের পার্শ্ববর্তী ফসলী জমির পুকুর পাড়ে নিয়ে যায় এবং স্বামীর সামনেই পর্যায়ক্রমে দুই বন্ধু সালমাকে ধর্ষণের পর বিবস্ত্র অবস্থায় কুপিয়ে পুকুর পাড়ে ফেলে যায়। এসময় সালমা বাঁচার জন্য অনেক আকুতি মিনতি করলেও পাষাণ্ড স্বামী ও বন্ধুদের মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে তারা নিজ নিজ বাড়ীতে চলে আসে। রবিবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে ছালমার বিবস্ত্র লাশের খোঁজ মেলে। ঘটনাস্থলে পৌছে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী ইউসুফ মিয়াকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেহরাজ মিয়া বাদী হয়ে রোববার দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে তিতাস থানার ওসি তারেক মোঃ আবদুল হান্নান জানান, নববধূর স্বামী ইউসুফ মিয়াকে সন্দেহ হলে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং আজ সোমবার কুমিল্লায় আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের নিকট জবানবন্দিতে স্বীকার করে সে ও তার দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে। তিনি আরো জানান, অপর দুই আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে খুবই শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply