পাঁচ লাখ গ্যালন ক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চ জলাধারের সুফল পাচ্ছেনা কচুয়াবাসী

কিশোর কুমার, কচুয়া প্রতিনিধি :–

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কচুয়া পৌর সদরে নির্মিত ৫ লাখ গ্যালন ক্ষমতা সম্পন্ন সু-উচ্চ জলাধারের বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছে না কচুয়া পৌরবাসী। দিনের পর দিন এ সমস্যা প্রকট হয়ে উঠলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রকাশ, ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকারের বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে জনকল্যানকর এরুপ ৫টি সুউচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হয় । তন্মধ্যে কচুয়া পৌরসভায় সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সার্বিক সহযোগীতায় এ সু-উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হয়। এদিকে সুউচ্চ জলাধারে উত্তোলণ পদ্ধতি থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। এই প্রকল্পে গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলণের পর এক্টিভেটেড কার্বন ভেসেল ও মাল্টিমিডিয়া প্রেসার ভেসেলের মাধ্যমে বিশুদ্ব হয়ে সঞ্চালন লাইনে প্রবেশ করে। ওই দুটি ভেসেলে নিয়মিত পানি বিশুদ্ধকরণ করার জন্য ম্যাটেরিয়ালস্ (কাঁচামাল) ব্যবহার করার কথা থকলেও তা শুধু এখন নিয়মেরই কথা। কারন ২০০৬ সালের পর ওই দুটি ভেসেলে এক্টিভেটেড কার্বনসহ কোন প্রকার কাঁচামালের ব্যবহার করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন যাবৎ পানি সঞ্চালন লাইন পরিস্কার না করায় স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। তাছাড়া সঞ্চালন লাইন দিয়ে বিশুদ্ধহীন ও জীবানুযুক্ত পানি প্রতিনিয়ত সরবরাহ হচ্ছে। ফলে সঞ্চালন লাইন দিয়ে ময়লা ও লাল আয়রন মিশ্রিত পানি সরবরাহ হয়ে আসছে ।এছাড়া সঞ্চালন লাইনের স্থানে স্থানে ফুটো হয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কিউসেক পানি অপচয় হচ্ছে। সূত্রমতে- কচুয়া পৌরসভাধীন ২০৭টি পরিবারে প্রতিদিন ১ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। যার জন্য প্রতি পরিবারকে মাসিক ৪’শত টাকা হারে বছরের প্রায় ৫ হাজার টাকার বিল গুণতে হয়। তথাপিও স্বচ্ছ সুপেয় পানির সুবিধা পায়নি ওইসব পরিবারগুলো। অথচ এ প্রকল্পটি তত্ত্বাবধানের জন্য একজন সহকারী প্রকৌশলীসহ আরো ৪জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। এসব কর্মচারীরা সরকারের বেতন সুবিধা ভোগ করে আসছে দিনের পর দিন। অথচ কাজের নামে জনগণের সাথে প্রহসন হচ্ছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- এসকল কর্মকর্তা, কর্মচারী সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজ পেলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সুপেয় পানি প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর সচিব ফখরুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বলেন- যে প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ ও লাইন ওয়াশ করার কথা, তা মানা হচ্ছে না। অপরদিকে পৌর মেয়র অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply