না ফেরার দেশে চলে গেলেন আনসার আহমেদ

দেলোয়ার হোসেন জাকির, কুমিল্লা :–

কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনসার আহাম্মেদ ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন ) মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার সমরিতা হাসপাতালে তিনি মারা যান। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আনসার আহাম্মেদের বড় ছেলে আঞ্জাম আনসার বাজু বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন।
আনসার আহাম্মেদের মরদেহ আগামি শুক্রবার পর্যন্ত সমরিতা হাসপাতালের হীমঘরে রাখা হবে। বাজু জানান, বড় ভোন রিফাত আনসার সুমি ও ছোট ভাই সেজান আনসার অভি আমেরিকা প্রবাসী। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে এরা দেশে ফিরবেন। ২৭ জুন শুক্রবার বাদ জুম্মা আনসার আহাম্মেদের জন্মস্থান নিজ বাড়ি কুমিল্লার মোগলটুলীতে জানাযা ও দাফনের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিৎ করেন।
ব্রেন স্ট্রোকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় সাবেক সংসদ সদস্য আনসার আহমেদকে সোমবার সকালে ঢাকার সমরিতা হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ৬৬ বছর বয়সী বিশিষ্ট রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আহমেদ ব্রেন স্ট্রোকে অসুস্থ্য হয়ে ছয় মাস আগে ঢাকা বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ৬ মাসের চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতী হলেও ২৩ জুন সোমবার সকালে পুনঃরায় ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দিতে ঢাকার সমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আনসার আহমেদকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
ব্রেন স্ট্রোক ছাড়াও এর আগে আনসার আহমেদের ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছিল। এছাড়াও তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্তছিলেন।
বিশিষ্ট এ রাজনীতিক বেশ কয়েক বছর ধরে নিজেকে রাজনীতি থেকে কিছুটা গুটিয়ে রাখেন। জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে যান আনসার আহমেদ। কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম মুসলমান চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কংগ্রেস সংগঠক, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্রয়াত হাজী তারু মিয়ার তৃতীয় ছেলে আনসার আহাম্মেদ। ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন আনসার আহমেদ।
পারিবারিক সূত্র ও তার ছোট ভাই সমাজ কর্মী জহির আহাম্মেদ জানান, বাবার পথ ধরেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হন আনসার আহমেদ। ১৯৬৫ সালের দিকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন আনসার আহমেদ। এর পরে ছাত্রলীগে যোগদান ১৯৬৯ সালে। ওই বছরই ছাত্রলীগের বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই সময়েই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ’৬৯-এ ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। সক্রিয় ভূমিকা রাখেন ’৭০ এর নির্বাচনেও। পরবর্তীতে ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে সেখানেও রাখেন অনবদ্য ভূমিকা। যুদ্ধ কালিন সময়ে ভারতের মেলাঘরে অবস্থিত ইয়ূথ ক্যাম্পের পলিটেক্যাল মটিভেটরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ওই সময়েই আনসার আহমেদ নিজের তত্ত্বাবধানে সাপ্তাহিক প্রতিনিধি নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশ পুনর্গঠনের কাজেও যোগদেন তিনি। তাঁর সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক দুলাল জানান স্বাধীনতার পরপরই দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে আনসার আহমেদকে। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের একটি অংশ জাসদ গঠন করলে আনসার আহমেদ তখন জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন পর এরশাদ ক্ষমতায় আসলে জাতীয় পার্টিতে যোগদেন তিনি। এরশাদের সাথে স্বল্প সময়ে কাছাকাছি গিয়ে ’৮৬ এবং ’৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply