হাইড্রোগ্রাফিক উপাত্তের সর্বোচ্চ ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপের মধ্য দিয়ে বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস পালিত

চট্টগ্রাম :–

হাইড্রোগ্রাফিক উপাত্তের সর্বোচ্চ ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (২১-০৬-২০১৪) বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে ‘ষ্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার এন্ড ট্যাকটিস (এসএমডব্লিউটি)’ অডিটরিয়ামে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। উক্ত সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মেরিটাইম সংস্থার প্রতিনিধি, ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্ব সর্বসাধারণের নিকট যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) এবং তার সদস্য দেশসমুহে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ÒHydrography-much more than just nautical chartsÓ| হাইড্রোগ্রাফিক উপাত্তের সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রতিফলক হিসাবে ইতিপূর্বে শুধুমাত্র নেভিগেশানাল চার্টকে বুঝানো হতো যা নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সমুদ্র পথে পরিবহন, মৎস্য সম্পদ আহরণ, সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, উপকূলীয় ব্যবস্থা সংরক্ষণ, সমুদ্রসীমা নির্ধারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকান্ডের পরিধির প্রসার চার্ট বহির্ভূত সামুদ্রিক অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। উল্লেখ্য, আইএইচও এর একটি সক্রিয় সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত দেশের জলসীমায় সকল ধরণের হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকান্ড অত্যন্ত সুনামের সাথে সম্পন্ন করে থাকে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির চেয়ারম্যান ও সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশান্স) রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফি পরিদপ্তরের পরিচালক, ক্যাপ্টেন এস মাহমুদুল হাসান, এওডব্লিউসি, পিএসসি, প্রধান বক্তা হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপˉ’াপন করেন। এতে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় যেমন সমুদ্র পথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, সমুদ্র বিজ্ঞান ও গবেষণা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্ব উপˉ’াপন করা হয়।

সমগ্র বিশ্বের প্রায় ৭১% এলাকা সাগর ও মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০% সমুদ্র পথে পরিচালিত হচ্ছে। সমুদ্র পাড়ি দেয়ার সময় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে যাত্রা পথের অজানা বিভিন্ন বাধা যেমন ডুবোচরের উপতি, ডুবন্ত জাহাজ ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ নেভিগেশানাল চার্ট এবং সহায়ক পাবলিকেশান্স প্রদানের মাধ্যমে সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ছাড়া সমুদ্রে বিভিন্ন কর্মকান্ড যেমন তেল/গ্যাস অনুসন্ধান, ড্রেজিং কর্মকান্ড, ˉ’াপনা নির্মাণ, সমুদ্র পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, একুয়াকালচার, খনিজ অনুসন্ধান, জ্বালানী, বায়োমেডিসিন এবং ওশানোগ্রাফিক গবেষণা কার্য পরিচালনার জন্য হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম।

বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও তার হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা সারা বিশ্বে প্রশংসিত। বাংলাদেশের প্রকাশিত হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট ও পাবলিকেশান্সসমূহ আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় তা সারা বিশ্বের নাবিকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং সমুদ্র পথে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতিমধ্যে মায়ানমারের সাথে আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বিশাল সমুদ্র এলাকা আমাদের হস্তগত হয়েছে। ভবিষ্যতে সমুদ্র এলাকায় বিভিন্ন ধরণের গবেষণা ছাড়াও সমুদ্র সম্পদ আহরণে অনেক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply