কুবিতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ১ মাস পর পালিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

কামরুল হাসান, কুবি :—

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ১ মাস পর পালিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। যার কারনে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। শিক্ষার্থীদের দাবী, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সকল আয়োজনই এ ভাবে ঢিমে তালে নাম কা ওয়াস্তে পালন করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের দাবী তারা সর্বাত্বক সফলতা ও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য গত ২৮মে ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ঐ দিন উপাচার্যের নেতৃত্বে কেক কেটে ক্ষুদ্র পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। ঐ দিন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা যায়। উদ্বুত পরিস্থিতিতে উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী আশরাফ অল্প কিছু দিনের মধ্যে বৃহৎ পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালনের ঘোষনা দেন।

এদিকে উপাচার্যের পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ২২জুন রোববার বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বিকাল ২.৩০ মিনিটে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, ৩টায় স্বরনিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাগত ভাষন এবং বিকাল ৩টা থেকে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড “সোল্স” এর পরিবেষনায় মনোজ্ঞ কনসার্ট।

সরজমিনে ক্যাম্পাসে শিক্ষাথীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই আয়োজনে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী। তারা দেরীতে অনুষ্ঠান আয়েজন করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যার্থতাকে এ জন্য দায়ী করেন।

অসন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াছ হোসেন সবুজ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন আমাদের কাছে অত্যন্ত আনেন্দের। কিন্তু তা দিবসের দিনই পালন করা উচিত। না হয় এর আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। যেহেতু দেরীতে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিবসটিকে মোটামুটি বৃহৎ পরিসরে পালন করছে সে জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও সাধারন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আগামীতে অবশ্যই বিভিন্ন দিবস-অনুষ্ঠান পালনে প্রশাসনকে পূর্ব থেকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছি।”

তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “কিছু স্বীমাবদ্ধতার কারনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেরীতে দিবসটি পালন করছে। তা আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। এছাড়া আমি মনে করি প্রতিষ্ঠার মাত্র ৮ বছরেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপ লাভ করেছে। আগামীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপ দেয়ার জন্য আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টিও কামনা করেন।

উল্লেখ্য ২০০৬ সালের ২৮মে ৫০ একর জায়গা নিয়ে প্রাকৃতিক লীলাভুমি কুমিল্লার কোটবাড়ী অঞ্চলে ৭টি বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ১৭ টি বিভাগে ৪১৮৬ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি সামনে এগিয়ে চলছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply