অন্ধকার পল্লীতে আলোর মশাল জ্বেলেছে মুরাদনগরের ভবানীপুর দাখিল মাদরাসা

মো: হাবিবুর রহমান,মুরাদনগর :—
প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় এবার নিয়ে ১১ বার শতভাগ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবানীপুর দাখিল মাদরাসা। ওই অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে এ মাদরাসা। নানা সমস্যা ও শিক্ষকদের দৈন্যদশার মধ্যেও অল্প সময়ের মধ্যে এটি আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গোটা উপজেলাকে গৌরবান্বিত করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করবে, এমন ছাপ কেবল শিক্ষকদের চোখেমুখেই নয়, শিক্ষার্থীরাও মনোবলের দিক দিয়ে বেশ চাঙ্গা ভাব নিয়েই ফলাফল ঘোষণার দিন মাদরাসায় এসেছিল। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে শিক্ষকদের কদমবুচি করে নেয়। তারপর সবাই মিলে শিক্ষা জীবনের অন্যতম পরীক্ষা দাখিলে ভাল ফলাফল অর্জনের খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠে। এ বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় ভবানীপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। তার মধ্যে ৩জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারের ফলাফল নিয়ে এ যাবত ১১ বার শতভাগ পাশের কৃতিত্ব ধরে রেখেছে কুমিল্লার পল্লী এলাকার এ মাদরাসাটি। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত রিফাত হোসাইন, রুবেল মিয়া ও ইমরান হোসাইন জানান, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এখন আর আগের মতো নেই। আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা মাদরাসা শিক্ষার মাধ্যমে সত্যের সন্ধানে এগিয়ে যেতে চাই। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সত্যিকারের আলোকিত মানুষ হয়ে দ্বীনের খেদমত করতে চাই। ইসলামী শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে চাই। এক নজরে দাখিল পরীক্ষায় ২০০৮ সালে ৭টি জিপিএ-৫, ২০০৯ সালে ৪টি জিপিএ-৫, ২০১০ সালে ৭টি জিপিএ-৫, ২০১১ সালে ৪টি জিপিএ-৫, ২০১২ সালে ৭টি জিপিএ-৫, ২০১৪ সালে ৩টি জিপিএ-৫, ২০১৩ সালের জেডিসি পলীক্ষায় ১০টি জিপিএ-৫ ও ৪টি ট্যালেন্টপুলসহ ৫টি বৃত্তি লাভ করেছে। জেডিসি ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ২০১০ সাল থেকে শতভাগের গৌরবময় ফল অর্জন করে যাচ্ছে। মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু মুছা জানান, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সেমিষ্টার পদ্ধতি, মাসিক পরীক্ষা ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনেক বেশী সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। সর্বোপরি মাদরাসার পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের পরিশ্রম ও বাড়তি নজরদারি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কঠোর অধ্যবসায়ের কারণে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও শতভাগ পাসের মধ্য দিয়ে সাফল্য এসেছে। ভবানীপুর মাদরাসার এ সাফল্যে শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবক সবাই খুশি হলেও তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১৪ বছর সময়ে ১১ বার শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তুু মাদরাসাটি এমপিওভূক্ত হওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের নজরে আসছে না। দীর্ঘদিন যাবত মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি চেষ্টা করে যাচ্ছে। কমিটির সভাপতি হাজী নোয়াজ আলী জানান, লেখা-পড়ার মানের দিক থেকে মুরাদনগর উপজেলার ভবানীপুর দাখিল মাদরাসাটি বরাবরই ভাল অবস্থানে রয়েছে। এমপিওভূক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শিক্ষকদের কেউ কেউ মাদরাসার ক্লাশ শেষে বাড়ি বাড়ি প্রাইভেট পড়িয়ে, মক্তবে আরবী শিক্ষার খন্ডকালীন দায়িত্ব পালন করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছে। ম্যানেজিং কমিটিও ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এভাবে আর কতদিন? আমরা আশাবাদী, সহসা সরকার ভবানীপুর দাখিল মাদরাসাকে এমপিওভূক্তকরণে উদ্যোগী হবেন। এ ব্যাপারে মোচাগড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান মাষ্টার জানান, এ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে দেশ ও জাতির আথর্-সামাজিক উন্নতির লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাই জরুরী ভিত্তিতে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত ভবানীপুর মাদরাসাটিকে এমপিওভূক্ত করার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মুরাদনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালে এটি বোর্ডের অনুমতি ও ২০০৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply