দেবিদ্বারে বিজিবি সদস্য শহীদ মিজানের পরিবারের কান্না এখনো থামেনি

স্টাফ রিপোর্টারঃ—

বান্দরবান- মায়ানমার সীমান্তে নিহত বিজিবি সদস্য নায়েক সুবেদার মিজানের পরিবারে কান্না এখনো থামেনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে মিজানের স্ত্রী ও ৪ কন্যা এখন দিশেহারা। বাকরুদ্ধ গোটা পরিবার। শান্তনা দেয়ার ভাষাও যেন কারো নেই। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বেলানগর  গ্রামের দিকে এখন দৃষ্টি সবার। সোমবার দুপুরে তার দাফন সম্পন্ন হলেও মঙ্গলবার ভোর থেকে শত শত লোক ভীড় জমায় মিজানের গ্রামের বাড়িতে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মিজানুর রহমানের পিতা আবদুল হাফিজ সেনাবাহিনীতে ল্যান্স কর্পোরাল পদে কর্মরত ছিলেন। পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আবদুল হাফিজ শহীদ হলেও পাক বাহিনী তার লাশ ফেরত দেয়নি। কঠিন জীবন সংগ্রাম করে রাবিয়া বেগম একমাত্র ছেলে মিজানকে লেখা পড়া করিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। । মিজানুর রহমান ১৯৮৮ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। কিন্তু কখনো সে ভাবেনি স্বামীর ন্যায় ছেলেও দেশের জন্য জীবন যাবে।  মিজানের চাচা অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবুল কাসেম জানান, মিজানের বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে জীবন দিলেও তার স্ত্রী  রাবিয়া বর্তমানে সাধারন মুক্তিযোদ্ধার কোঠায় মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী দফতরে বছরের পর বছর ঘুরেও সে যোগ্য সন্মান পায়নি। মিজানের পরিবারের ভাগ্যে কি রয়েছে তাও অনিশ্চিত। স্থানীয় লোকজন  মিজানের নামে গ্রামে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ, মিজানের বাবার নামে নামকরণ করা রাস্তার পাকাকরণ এবং অসহায় মিজানের পরিবারের যথাযথ পূর্নবাসন দাবি করেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply