বিজিবি’র নায়েক সুবেদার মিজানের পূর্ণ রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দাফন সম্পূর্ন : সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শামিমা

এম.এ হোসাইন :–
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) হাতে নিহত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান (৪৩) এর পূর্ণ রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দাফন সোমবার বিকালে তার গ্রামের বাড়িতে সম্পূর্ন করা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুতে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শামিমা আক্তার পারুল।
গতকাল সোমবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়িতে মিজানের প্রথম নামাজে জানাজা, গার্ড অফ অনার ও সরকারী আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১.০৫ মিনিটে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছয়গরিয়া নামক স্থানে তার মরদেহ নিয়ে হেলিকপ্টারটি অবতরন করেন। এ সময় বিজিবি’র সরাইল রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিছুর রহমান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বিজিবি’র কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিল্লুল হক, ১০ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল শহিদুর রহমান, কুমিল্লা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, চান্দিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তপন বক্সী, দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হোসেন, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালে আহমদ, চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা, দেবিদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান, চান্দিনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম মোরশেদ, বিবিজির পদস্থ কর্মকর্তা, নিহত বিজিবি সদস্যের পরিবারের লোকজন, পুলিশ ও বিভিন্ন প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিজিবির একটি এ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ তার দেবিদ্বারের ভেলানগর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলে সেখানে বৃদ্ধা মা রাবিয়া, স্ত্রী শামিমা আক্তার পারুল ও ৪ সন্তান সহ আত্বীয়-স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণ হয়।  মরদেহ দেখতে আগে থেকেই মিজানের বাড়িতে ছুটে আসে হাজার হাজার নারী-পুরুষ।
দুপর ২.৩০ টায় বাড়ির পাশের ইদগাহ ময়দানে বিজিবির পক্ষ থেকে কফিনে পুস্পস্তবক অর্পন এবং নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় লাশ দাফন করা হয়।
শহীদ মিজানের জানাজায় অংশ গ্রহন করে বক্তব্য রাখেন ও শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দেন বিজিবি কর্মকর্তাগণ সহ দেবিদ্বারের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহিদ, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন, চাচা আবুল কাশেম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
এ ব্যাপারে বিজিবির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিছুর রহমান বলেন, শহীদ মিজানের পরিবারকে বিজিবির পক্ষ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্থ ওই পরিবারকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে  কুমিল্লার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের পুনর্বাসনের সার্বিক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
জানাযায়, নিহত মিজানের পুত্র সন্তান নেই। ৪ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ফাতেমা আক্তার দশম শ্রেনীতে, দ্বিতীয় মেয়ে হালিমা আক্তার স্থানীয় ভৈষেরকোট দাখিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে ও তৃতীয় মেয়ে সিমু ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ছোট্ট অবুঝ মেয়ে হাবিবা আক্তারের বয়স ৪ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তান ও বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে নিয়ে মিজানের স্ত্রী শামীমা আক্তার পারুল এখন দিশেহারা। ৭১ সালে দেশের জন্য শহীদ হলো স্বামী এবং আজ দেশের সীমান্ত রক্ষায় ছেলে মিজান শহীদ হওয়ায় আফসোছ নেই মা রাবিয়ার। কিন্তু মিজানের ৪ মেয়ের ভবিষৎ এর কথা চিন্তা করে নির্বাক সে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মিজানুর রহমানের পিতা আবদুল হাফিজ সেনাবাহিনীতে ল্যান্স কর্পোরাল পদে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধে আবদুল হাফিজ শহীদ হন। মিজানুর রহমান ১৯৮৮ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। গত ২ মাস আগে লালমনিরহাট থেকে তাকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বদলী করা হয়। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নের পানছড়ির বিজিবি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলাগুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের (৪৩) নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পায় এবং শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিহত হওয়ার খবর পায়। শনিবার বিকেলে মিজানের মরদেহ বিজিবি’র নিকট হস্তান্তর করে বিজিপি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply