হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী তালগাছ ও পাকা তাল

মোঃ জামাল উদ্দিন দুলাল,দেবিদ্বার :–
ঐ দেখা যায় তাল গাছ ওই আমাদের গাও, ঐ খানেতে বাস করে কানাবগীর ছায়, বইয়ের পাতায় কবিতা থাকলেও বাস্তবে আজ কোন মিল নেই , কয়েক বছর আগেও কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ছিল চোখে পড়ার মতো সারিবদ্ধ তালগাছের বাগান। কেউ কেউ রাস্তা বা বিলের পাড়ে এ গাছ লাগাত, আবার প্রাকৃতিক ভাবেও তাল বাগানের সৃষ্টি হতো। প্রখর রোদে ক্লান্ত পথিক ক্ষণিক আশ্রয় নিত তালগাছের ছায়ায়। গামছা বিছিয়ে বসত তাস-লুডু খেলার আড্ডা। তাল পাকার মৌসুমে (ভাদ্র মাসে) পাড়ার দামাল ছেলেদের যাতায়াত বেড়ে যেত এসব বাগানে। তাল পড়ার ধুম শব্দে ছুটে আসত কিশোর-কিশোরীরা। শেষ রাতে দূর-দূরান্ত থেকে এসব বাগানে দল বেঁধে আসত তাল কুড়ানিয়ার দল। বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাল দেখে খুশি হতো। গৃহিণীদের মাঝে চলত তালপিঠা বানানোর ধুম। এসব তাল দিয়ে তৈরি হতো বিভিন্ন মজার মজার পিঠা। কলাপাতার পিঠে, তেলপিঠা,তালের কেক,তালের ভরা প্রভৃতি। এসব পিঠা বানিয়ে পাঠানো হতো আত্মীয়-স্বজনসহ জামাই-মেয়ের বাড়ি। এটা ছিল বাঙালি সংস্কৃতির একটা প্রচলিত রেওয়াজ। এর ব্যতিক্রম হলে অভিমানে ফেটে পড়ত জামাই-মেয়ে। এছাড়া তালের রস গরম করে সংরক্ষণ করত গৃহিণীরা এবং পরে তা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করত মেহমান দারিতে। এছাড়া কচি তালের ডাব ও তালের আঁটির তালকুর ছিল শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের লোভনীয় খাবার। গরমের দিনে তাল পাখার জুড়ি ছিল না। গরমে হাঁপিয়ে ওঠা জীবনে কখনও শান্তি এনে দেয় হাতের তৈরি তালপাখা। এছাড়া ঘর নির্মাণ কাজে তালগাছের জুড়ি নেই। দেবিদ্বার উপজেলার বারেরা গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি একটি ঘর তৈরি করছেন, কিন্তু ঘরের তীর দেওয়ার জন্য পরিপক্ষ তালগাছ মিলছে না। হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন এক স-মিল থেকে আরেক স-মিল, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম। যদিও কাজের উপযোগী ২/১টি গাছ মিলছে, তার দাম আকাশছোঁয়া। একই কথা জানালেন কাঠমিস্ত্রিরী মোঃ কামরুল ইসলাম কুটু মিয়া অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, যেভাবে তালগাছ নিধন হচ্ছে, সে অনুপাতে রোপিত হচ্ছে না। বর্তমানে বেপরোয়াভাবে গাছ কাটার ফলে তাল বাগান বিলীন হতে চলেছে। ফলে আগামী ২/১ যুগ পরই পড়বে তার বৈরী প্রভাব। মানুষ ঘর নির্মাণ কাজে হয়ে পড়বে দিশেহারা। হারিয়ে যাবে তালপিঠার পুরনো ঐতিহ্য।

Check Also

নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারে দেওয়া খাদ্য পাচ্ছে দেবিদ্বারের ১ হাজার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারনে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ...

Leave a Reply