বছরের প্রথম প্রান্তিকে রবি’র রাজস্ব ও লভ্যাংশে কার্যকর অগ্রগতি

ঢাকা :–
মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব ও লভ্যাংশের দিক দিয়ে শক্তিশালী  প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রাজস্ব, ইবিআইটিডিএ (আর্নিং বিফোর ইন্টারেস্ট ট্যাক্স, ডেপ্রিসিয়েশন ও অ্যামোরটাইজেশন) এবং  পিএটি’র (প্রফিট আফটার ট্যাক্স) মন্দা কাটিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে রবি।
দ্বিতীয়  প্রজন্মের (টুজি) নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধি ও ৩.৫জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে বিনিয়োগ করার পরেও রাজস্ব বৃদ্ধি ও ব্যয় সঙ্কোচনের কারণে ইবিআইটিডিএ ও পিএটি ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে কার্যকর অগ্রগতি হয়েছে।
২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল:
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতি পাওয়ায় রবি এই অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যে রাজস্ব ছিল ১১ বিলিয়ন তা ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭ বিলিয়নে।
২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ ছিল ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন যা ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়নে। আকর্ষণীয় প্যাকেজ ও বিস্তৃত ৩.৫জি নেটওয়ার্কের কারণে রবি’র জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়েস ও ইন্টারনেট থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে পারিপার্শ্বিক চ্যালেঞ্জের কারণে পিএটি-তে মন্দাবস্থা ছিল। ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ৩.৫জি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেয়া ও স্পেকট্রাম ফি’র কারণে অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন চার্জ বৃদ্ধি পাওয়া পরেও ইবিআইটিডিএ বৃদ্ধি পাওয়ায় পিএটি’ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ৭ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে- আগে ছিল ২ কোটি ২৩ লাখ যা বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৩৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনায় দেয়া গ্রাহকের সংজ্ঞা অনুযায়ী ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের গ্রাহক সংখ্যা গণনা করেছে রবি।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ- ১০ বিলিয়ন ৮০ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ বিলিয়ন ৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ইবিআইটিডিএ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক প্রান্তিক থেকে অন্য প্রান্তিকে প্যাট ব্যাপক পরিমাণ বাড়লেও নেটওয়ার্ক স্থাপনে বিনিয়োগ ও স্পেকট্রাম বা লাইসেন্স ফি’তে অ্যামোর্টাইজেশনের কারণে ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় তা এখনো ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষে সেই বৃদ্ধি ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ।
মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগ:
২০১৩ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি ও সংশ্লিষ্ট মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) কমলেও ভয়েস সার্ভিস ও ইন্টারনেট সংযোগে মূলধনী ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।
২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে ক্যাপেক্স বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন (৬৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) যা পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় ২১ শতাংশ কম। বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে ভয়েস ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে প্রতিনিয়ত টুজি নেটওয়ার্কের উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং আগামী প্রান্তিকগুলোতে ৩.৫জি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেয়ার দিকে দৃষ্টি দিয়েছে রবি।
বক্তব্য:
রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে বলেন, “সূচকগুলোর অগ্রগতিতে স্থিতিশীল পারিপার্শ্বিক অবস্থা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ৩.৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা অনুপ্রাণিত; তাই বাংলাদেশ সরকারের স্বপ্ন অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাশ্রয়ী মূল্যে দেশজুড়ে ইন্টারেনট সেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গ্রাহকদের জন্য বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ভয়েস ও ইন্টারনেট প্যাকেজ এনেছে রবি। গ্রাহক বৃদ্ধির ব্যাপারটি মাথায় রেখে গ্রাহক যেন সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা গ্রহণ করতে পারে, এ জন্য সমন্বিত ইন্টারনেট ট্যারিফসহ প্রযুক্তি পণ্যের অফার ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রবি।”
বর্তমানে বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ১ হাজার ৪০টি স্থানে রবির ৩.৫জি নেটয়ার্ক বিস্তৃত রয়েছে। এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “৩.৫জি নেটয়ার্ক ছড়িয়ে দেয়ার কারণে গত প্রান্তিকের তুলনায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
সিওও বলেন, প্রতিটি নতুন সংযোগে সিমের ওপর আরোপিত কর ও বৈষম্যমূলক কর্পোরেট কর টেলিযোগাযোগ শিল্পে এখনো একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে সরকারী কোষাগারে ৪৩০ কোটি টাকার বেশি জমা দিয়েছে রবি যা কোম্পানির মোট রাজস্বের ৩৮ শতাংশ।
রবি সম্পর্কে:
রবি আজিয়াটা লিমিটেড মালয়েশিয়ার আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও জাপানের এনটিটি ডোকোমো’র যৌথ উদ্যেগে পরিচালিত। ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ২ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক নিয়ে রাজস্ব বিবেচনায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। দেশজুড়ে রবি’র বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে রবি সেবার আওতায় এনেছে। সারা দেশে রবি’র ৯ হাজার ৪৫০টি স্থানে টুজি নেটওয়ার্ক ও ১ হাজার ৪০০টি স্থানে ৩.৫জি নেটওয়ার্ক রয়েছে। ২০৭টি দেশে ৫০০টি’র বেশি অপারেটরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক রোমিং সেবা প্রদান করছে রবি। রবিই প্রথম বাংলাদেশে জিপিআরএস ও ৩.৫জি সেবা চালু করেছে। দেশে অনেক ডিজিটাল সেবা প্রথম বারের মত চালু করেছে রবি এবং দেশের গ্রাম ও মফস্বল শহরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে রবি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply