২ ডা টাহা, ১ টি চাকরী এবং ৩ টি বাস্তবতা

এস.এম সাজু আহমেদ :–
আজ শিরোনাম শুরু করেছি আমাদের সকলেরই জানা সংখ্যার জগতের প্রথম তিনটি সংখ্যা ১, ২ এবং ৩ সংখ্যা দিয়ে। সংখ্যাগুলোর যদিও আমরা কোন গুরুত্ব দেই না কারণ সংখ্যাগুলো একেবারেই ছোট সংখ্যা, তবে আমাদের মনে রাখা উচিত এই সংখ্যা তিনটিই হলো সংখ্যার জগতে প্রথম তিনটি সংখ্যা। তবে আজ আমি সংখ্যার মাহাত্ত্ব অথবা সংখ্যতত্ত্ব বিশ্লেষন করতে চাই না। আজ এই সংখ্যাগুলো নিয়ে জীবনের বাস্তব কিছু কথা তুলে ধরতে চাই, চাই সংখ্যাগুলো থেকে বলতে জীবনের বাস্তব কিছু ঘটনা, বলতে চাই সংখ্যাগুলো থেকে আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া বাস্তব, সত্য, কষ্টদায়ক অথবা আনন্দদায়ক কিছু বাস্তবতা।

আমি প্রথমেই শুরু করছি শিরোনামে শুরু করা ২ সংখ্যা দ্বারা। শিরোনামে লেখা আছে ২ ডা টাহা (টাকা), আসলে ২ টাকা যে কতটা গুরুত্ববহ এবং কতটা প্রয়োজনীয় সেটা আগে কখনো উপলব্ধি করতে পারি নি, কখনো বুঝতে পারিনি ২ টাকার প্রকৃত গুরুত্বটা। তবে সেদিন বাসের মধ্যে বুঝলাম ২ টাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ অথবা কতটা প্রয়োজনীয়। ঘটনাটা হলো গত কয়েকদিন আগে বাসযোগে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল যাচ্ছিলাম একটা ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় কাজে, রাস্তায় ভালোই জ্যাম ছিল সাথে রোদের প্রখরতাটাও মন্দ ছিল না। তো বাসের মধ্যে গড়মে অসত্বিতেই ছিলাম বৈ-কি। যাই হোক সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে প্রায় আধা ঘন্টাখানেক জ্যামে ছিলাম, শুনলাম সামনে রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে তাই জ্যাম ছাড়তে আরো বেশ কিছুক্ষন সময় লাগবে। তাই নিরুপায় হয়ে যদিও বাসের মধ্যে অনেক গড়ম তবুও আমি বাসের মধ্যেই বসে থেকে ঝিমুচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনতে পেলাম ২ ডা টাহা দেন, ২ ডা টাহা দেন, ২ডা টাহা দেন। শুনতে পেলাম একটা ছোট্ট কন্ঠে এই আওয়াজ, দেখতে পেলাম ৮/১০ বছরের একটি মেয়ে শিশু অনেক কাকুতি, মিনুতি করে এভাবে আওয়াজ করছে ২ ডা টাহা দেন, ২ ডা টাহা দেন। বাসের মধ্যে কেউ কেউ মেয়ে শিশুটিকে ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা দিল আবার অনেকে ১ টি টাকাও দিলনা । তবে আমি মেয়েটিকে ২ ডা টাকাই দিলাম । এরপর শিশুটির টাকা সংগ্রহ শেষ হলে বাস থেকে নেমে যাচ্ছে আমিও মেয়ে শিশুটির সাথে সাথে নামলাম। নামার পর আমি শিশুটিকে ডেকে তার নাম জিজ্ঞাসা করলাম শিশুটি প্রথমে তার নাম বলতে চাইলো না তবে আমি আবারো তার নাম জানতে চাওয়ায় শিশুটি তার নাম বলল শিলা। তখন আমি তাকে বললাম আচ্ছা তুমি ভিক্ষা করছ কেন? স্কুলে পড়তে যাওনা? তখন শিলা আমাকে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল “স্যার আমি ইসকুলে যাইনা, খালি ভিক্ষা হরি, ভিক্ষা না হরলে মা খালি মারে ভাত খাইতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর সময়ও মারে”। এরপর মেয়েটিকে আমি বললাম তোমরা কয় ভাই বোন? তোমার বাবা কি করে? মেয়েটি বলল আমার বাবায় মায়রে রাইখা চইলা গেছে। আমার মায় বাসায় বাসায় কাম করে, আর আমার ৩ ডা বোন ও ১ টা ভাই আছে। মেয়েটির কাঁদো কাঁদো স্বরে কথাগুলো শুনে আমি অনেকটা কষ্টই পেলাম। আর মেয়েটিকে কোন কথা জিজ্ঞস না করে মানিব্যাগ থেকে আরো ১০০ টাকা দিয়ে বললাম তুমি এখন যাও। মেয়ে শিশুটি, পথশিশুটি তার আপন খেয়ালে গন্তব্যে চলে গেল।
Child-34
এখন জাতির কাছে নমনীয় স্বরে প্রশ্ন এই সকল ৮/১০ বছরের শিলারা যারা এখনো পৃথিবীর আলো-বাতাসই ঠিক ভাবে বুঝতে পারেনি। অথচ এরা কি জন্মের পর থেকেই ২ডা টাহা দেন এই বুলি মুখস্থ করেছে? এরা কি শুধু ভিক্ষা বৃত্তি করেই যাবে? না-কি সারাটি জীবন টোকাই গিরি করেই এদের জীবন অতিবাহিত করবে? এখন জাতির বিবেকবান মানুষ একটু এদেরকে নিয়ে ভাবলেই এই শিলাদের মত শিশুরা পেতে পারে সুন্দর একটি জীবন, পেতে পারে সত্যিকারের বাঁচার একটি আশা। আমরা সকলেই একটি বাণী জানি সেটা হলো, “শিশুরাই জাতির ভবিস্যৎ” কিন্তু এই শিশুরা যদি কথা বলার পর থেকেই ২ ডা টাহা চাওয়া বুলি মুখস্ত করে তবে কি তাদের জাতির ভবিষ্যৎ বলা যায়? না-কি, কি বলা যায় আমার জানা নেই। এক জরিপে দেখো গেছে সারা বাংলাদেশে প্রায় সোয়া ৪ লাখের মতো এই রকম পথশিশু আছে যার মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই আছে দু-লাখের উপরে যারা এভাবেই ভিক্ষা বৃত্তি এবং টোকাই সেজে জীবন যাপন করছে এবং নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরছে। তো তাই আমাদের জাতির মহান বিবেকবান মানুষদের বলতে চাই যদি সত্যিই শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ হয় তাহলে এই সকল পথশিশুদের বাঁচাতে একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা আশু প্রয়োজন বলেই নি:সন্দেহে বলা যায়।

দ্বিতীয় কথা যার পেটে ক্ষুদা থাকে সেই বোঝে ক্ষুধার কি জ্বালা, ক্ষুধার কি যন্ত্রনা।  কিন্তু যার ক্ষুধা থাকে না তার কাছে খাদ্যকে দেখতেই ভালো লাগে না, খাদ্যকে অনেকটা বিরক্তকর মনে হয়। তো তাই বলা যায় যারা বেকার, যাদের চাকরী নেই তারাই বোঝে একটি চাকরীর কত মূল্য, কত দাম। কথায় আছে চাকরী হলো একটা সোনার হরিণ, অর্থ্যাৎ একটি চাকরী এতটা মহামূল্যবান বলা হয় যে তাকে সোনার হরিণের সাথে তুলনা করা হয়। তবে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরীকে সোনার হরিণ নয় বরং বলা উচিত সোনার বাঘ। কারণ বাঘ যেমন সহজে ধরা যায় না , খুবই ভয়ঙ্কর, মানুষকে যেকোন সময় তার ধারালো নখের সাহায্যে মেরে ফেলতে পারে, নিভিয়ে দিতে পারে একটি জীবন প্রদীপ, হারিয়ে যেতে পারে জীবনের সমস্ত সপ্ন নিমিষেই। তবে সোনার বাঘটিকে ধরতে পারলে অনেক কিছু পাওয়া যায়, জীবন গড়ে ওঠে নতুন রুপে, নতুন আঙ্গিকে। তেমনি ঠিক একটি বাঘের মতো একটি চাকূরীও যেন অনেক অনেক ভয়ঙ্কর এবং অনেক বেশি হিংস্র। কারণ বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাপটে প্রত্যেকটি চাকরী, চাই সেটা ছোট হোক আর বড় হোক প্রত্যেকটি চাকুরীতে ঘুষ নামক এক প্রকার ভয়ঙ্কর বাবাজী পায়ের উপর পা তুলে বসে আছেন আর টাকার থলেটার চেইন খুলে হা করে আছেন এবং মনে মনে বলছেন আস চাকূরীপ্রার্থী তোমার জন্যই বসে আছি আমি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের মতো মধ্যবৃত্ত এবং নিম্নবৃত্ত পরিবারের ছেলে/মেয়েরা মা-বাবার কঠোর পরিশ্রমের টাকা খরচ করে এতকাল পড়ালেখা করেছে, স্কুল কলেজের যাতায়াত থেকে শুরু করে বই, খাতা, কলম এবং স্কুল কলেজের বেতন দিতে দিতে আজ বড় বেশি ক্লান্ত তারা। মা-বাবা কিভাবে আজ একটি চাকুরীর ব্যবস্থা করতে কমপক্ষে ৮/১০ লক্ষ টাকা ম্যানেজ করবেন এবং ভূড়ি ভাসিয়ে রাখা ঘুষ বাবাজীকে দিয়ে একটি চাকুরীর ব্যবস্থা করবে যাহা অনেকটাই দু:সাধ্যই বটে। এবং এটা আমাদের মতো নিম্নবৃত্ত পরিবারের পক্ষে সম্ভব না বলে বলাই যায়। এছাড়া ঘুষ বাবাজীকে টাকাটা দিলেও যে চাকুরীটা হবে তার কোন গ্যারান্টি আছে কি? তিনি টাকাটা নিজের মনে করে খরচ করে চাকুরীটা যে দেবেন এ রকম কোন নিশ্চয়তা আছে কি? তো বৃদ্ধা মা/বাবা গ্রামের সেই ভিটে-মাটি বিক্রি করে এত বিশাল অংকের টাকা ঘুষ বাবাজীকে দেওয়ার পরও তাদের সেই প্রিয় ছেলে/মেয়ের চাকুরীটা যদি না হয় তবে অপকটে চাকুরীটাকে বাঘের চেয়েও হিংস্র এবং মহা মারাত্ত্বক বলাই যেতে পারে। তবে তবুও একটা চাকরী খুবই প্রয়োজন একথা বলতেই হয়।

সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই প্রত্যেক পিতা-মাতার স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তানকে তৈরী করতে হবে মানুষের মত মানুষ রুপে, বানাতে চান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। ত্ররপর সন্তান পৃথিবীতে আসার পর পিতা-মাতা তাদের স্বপ্ন অনুযায়ী চেষ্টা করতে শুরু করেন তাদের প্রিয় সন্তানটিকে অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছানোর জন্য, কিন্তু উচ্চবৃত্ত পরিবারে পক্ষে তার সন্তানকে অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছাতে কোন সমস্যা না হলেও মধ্যবৃত্ত এবং নিম্নবৃত্ত পরিবারে পক্ষে তাদের সন্তাকে সেই স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে কিছুটা অসম্ভবই হয়ে পরে। যদিও কোন কোন পিতা-মাতা তার সন্তানকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন তবে অনেকে তাদের সন্তানকে সেই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না বললেই চলে। তবে পিতা-মাতার শেষ আশা তাদের সন্তান যেন আপাদত ভাল একটা চাকুরী করে এবং একটু সুখে শান্তিতে রাখতে পারে বৃদ্ধা পিতা/মাতাকে, কিন্তু  সেখানেও যদি ঘুষ বাবাজীর হিংস্রতা, অত্যাচার, নির্যাতন এবং ভয়ানক থাবায় অতিষ্ঠ এবং তঠস্থ থাকে তখন মাথার উপর বাজ পড়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে কি?

আজ সারা বাংলাদেশে কত বেকার আছে তার সঠিক হিসেব কারো জানা আছে কি-না আমার জানা নেই তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। আর বেকারত্বের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে ছয় কোটিতে । সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম। এছাড়া আরো বলা হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। দক্ষিণ এশিয়ায় এর চেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত বেকার আছেন কেবল আফগানিস্তানে, ৬৫ শতাংশ। এর বাইরে ভারতে এর হার ৩৩ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তাহলে একবার ভাবুন আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছি? এবং আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়? তো এই সকল শিক্ষিত বেকারের কন্ঠে সুর মিলিয়ে আমিও বর্জ্য কন্ঠে বলতে চাই উচ্চাভিলাসী কোন চাকুরীর প্রযোজন নেই, চাই সম্মানজনক একটা চাকরী। যে চাকুরীর রোজগার থেকে দিতে পারি বৃদ্ধা পিতা- মাতাকে একটু সেবা-শুশ্রসা। আর নিজের জন্য দু-বেলা দু-মুঠো ডাল, ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে এবং একটু শান্তিতে ঘুমাতে।

২ ডা টাহা এবং ১ টি চাকরী প্রসঙ্গের পর এবার ৩ টি বাস্তবতা প্রসঙ্গ, তবে আজ আমি বলব তিনটি বাস্তব জীবনের কথা, বলব বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু সংক্ষিপ্ত অধ্যায়। কারণ এখন অবাস্তব এবং কল্পনাকে ভাবার সময় নেই, চলতে হবে বাস্তবের সাথে, এখন সময় বাস্তব জীবনের বাস্তবতাকে ভাবা, বাস্তবকে কল্পনা করা।  বাস্তব জীবনের কথা বলতে গেলে নিজের কথা বলতে হয় তবে আমি নিজের কথা আজ বলব না অন্য কোন সময় হলে তখন বলা হবে হয়তবা। তবে এতটুকু বলা যায়, একটা চাকরী খুবই প্রয়োজন।

বাস্তব জীবনের গল্পে আমার এক বন্ধুর কথা শেয়ার করলে দেখা যায়। আমার সেই বন্ধুর নাম আতিক মাষ্টার্স শেষ করেছে দু-বছর হয়ে গেল, ছাত্র হিসেবেও খারাপ ছিল না। কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় মাস্টার্স শেষ করে দু-বছর অতিক্রম করলেও এখন পর্যন্ত কোন একটা চাকুরীর ব্যবস্থা হয়নি। বেচারা চাকুরীর পিছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে কত জুতো ক্ষয় করে ফেলল তার হিসেব করা দুরহই বটে, কিন্তু একটা হিসেব আছে আর সেটা হলো এ পর্যন্ত একটা চাকুরীও হয়নি। গত কয়েকদিন আগে শুনলাম একটা প্রাইভেট ব্যাংকে চাকুরীর চেষ্টা করছে তবে সেখানেও সেই মহান দরদী ঘুষ বাবাজী হা করে বসে আছে, অর্থ্যাৎ প্রাইভেট ব্যাংকেও চাকুরীর ব্যবস্থা করতে ঘুষ দিয়ে চাকরী নিতে হবে অন্যথায় চাকরী শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে ।প্রাইভেট ব্যংকে চাকরী, যে চাকুরীর গ্যারান্টি দু-মিনিটও নেই তাও আবার ঘুষ দিতে হবে ৫/৬ লক্ষ টাকা, যাহা কতটা কষ্টের আমাদের মত মধ্যবৃত্ত পরিবারের জন্য একবার ভেবে দেখুন।

আরেকটি সংক্ষিপ্ত বাস্তব গল্প, আমার সম্পর্কের এক ভাই আমার চেয়ে ৪/৫ বছরের বড় হবে এরকম। তারও মাষ্টার্স শেষ হয়েছে ৩/৪ বৎসর আগে, তবে এখন পর্যন্ত হাজারো চেষ্টা করে একটা চাকরী ম্যানেজ করতে পারেনি। ধরা দেয়নি সেই অনেক আকাঙ্খিত চাকরী। সেদিন শুনলাম জেলা জজ কোর্টে একটা ছোট্ট গ্রেডের চাকুরীর জন্য খুব দৌঁড়-ঝাপ দিচ্ছেন, অনেক চেষ্টা করছেন চাকুরীটা ম্যানেজ করার, কিন্তু এখানেও মহান ঘুষ বাবাজীর আবদার টাকা দিতে হবে বিশাল মোটা অংকের, তাহলেই চাকুরীটা হবে নইলে চাকূরীটা হবে না। পরিশেষে নিরুপায় হয়ে ২২ লক্ষ টাকায় চাকুরীটার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেল। তবে পরে ঘটল বিড়াট এক মজার ঘটনা সেই ঘুষ বাবাজীকে ফোন করলেন সরকারী দলের বিশাল বড় এক নেতা এবং বললেন যত টাকা লাগে আমি দেব কিন্তু আমার প্রার্থীর যে কোন উপায়ে  চাকুরীটা হতে হবে। যেই কথা সেই কাজ, নেতার প্রার্থী বলে কথা মোটা অংকের টাকা দিয়ে চাকুরীটা নিয়ে নিল সেই নেতার প্রার্থী। আর আমার ভাইয়াটা যে বেকার ছিল সে বেকারই থেকে গেল। আমি এখানে দুটি বাস্তব গল্প উপস্থাপন করলাম, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটি সেক্টরেই চাকুরীর জন্য দিতে হচ্ছে মোটা অংকের ঘুষ যে টাকাটা হায়নার মত উপর মহলের কর্তারা ভক্ষন করছেন আর ভূড়ি ভাসিয়ে বসে আছেন। তবে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো স্নাতক শেষ করে মাষ্টার্স কমপ্লিট করেও একটি সম্মানজনক চাকরী হচ্ছে না, যাতে বুকের পীড়া অনেক বেশিই যন্ত্রনা দেয়।

পরিশেষে উপর তলায় এসি রুমে বসবাস করা মহান নেতা/নেত্রীদের স্ববিনয়ে বলতে চাই উপর মহলে শীতাতপ নিয়ত্রিত কক্ষে বসে রঙ্গিন গ্লাস দিয়ে আমাদের মতো বস্তিবাসীকে দেখে আর কত উপহাস করবেন? আর কত জ্বালা যন্ত্রনা দিবেন? আর কত অত্যাচার-নির্যাতন করবেন? এর শেষ কোথায়? এর কোন শেষ আছে কি? তবে বাংলার একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, অনেক হয়েছে এবার একটু থামুন, একটু খোলা চোখে নিচতলায় নেমে এসে অসহায় প্রজাদের একটু ভালোবাসার চেষ্টা করুন, ভালোবাসার চেষ্টা করুন বাংলার মাটিকে, ভালোবাসুন দেশ মাতৃকাকে। এছাড়া আমরা জানি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানব সম্পদ, কিন্তু এই মানব সম্পদকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে হবে। করতে হবে একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা, যে কিভাবে মানব সম্পদকে পরিণত করা যায় প্রকৃত সম্পদে। তো তাই আপনাদের নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স আর বাংলার অসহায় মানুষদের অর্থে ভারি না করে সাধারণ মানুষকে আর অত্যাচার যন্ত্রনা না দিয়ে আসুন সবাই মিলে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানব সম্পদকে একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশটাকে মহান ঘুষ বাবাজীদের রাহু থেকে মুক্ত করে সোনার বাংলাকে প্রকৃত সোনার বাংলায় গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

==============================
লেখক: এস.এম সাজু আহমেদ (সাংবাদিক ও কলাম লেখক)
Mail-smshaju7@gmail.com
প্রয়োজনে- ০১৯১৭-৫২০৮৯৭

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply