মেডিকেল টেকনোলজি ক্যারিয়ার একটি উজ্জল পেশা ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ

—অধ্যাপক ডাঃ এম এ বাসেদ

এসএসসি বা এইচএসসি পাশ এর পর কোন বিষয় ক্যারিয়ার করতে হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সবাই চিন্তায় পড়েন । তাই এ সময়ে বেছে নিতে হবে এমন একটি বিষয়, যেখানে শিক্ষাব্যয় কম হবে এবং  শিক্ষার্থীকে বেকার বসে থাকতে হবে না। আর বর্তমান সময়ে তেমনি একটি সম্ভাবনাময় পেশা হলো মেডিকেল টেকনোলজি। চিকিৎসা সেবায় পেশা গড়া অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে অধিক সম্মানজনক। কারণ এই পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে মানবতাবোধ/ সহম্মির্মতা সহ হাজার বছর ধরে এই পেশার মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধার শীর্ষে অবস্থান। চিকিৎসা সেবায় মূলত ডাক্তারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়; কিন্তু একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। প্রত্যেকটি বিভাগে ডাক্তারদের সহকারী প্রয়োজন হয়। এসব বিশেষজ্ঞ কর্মীরাই  মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট হিসেবে পরিচিত ও সমাদৃত।
চাহিদা ও কাজের ক্ষেত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রতি একজন গ্রাজুয়েট চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় জন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এর প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমানে ২ লাখেরও বেশী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এখনই  প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা বা জেলা  থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত প্রচুর সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ক্লিনিকের সংখ্যাও অনেক আরও রয়েছে প্রায় ১৮০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক, অসংখ্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরী। এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দরকার।  দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪-১৫ হাজার ডিপ্লোমা টেকনোলজিষ্ট কাজ করছেন । দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই পেশাজীবীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাজের ব্যাপক সুযোগ আছে। এখানে কেবলমাত্র দরকার ইংরেজী ভাষার দক্ষতা। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে বিদেশে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের  চাকুরী সুবিধা অনেক ভাল । মনে রাখতে হবে উন্নত দেশগুলিতে চিকিৎসা সেবা জন্য টেকনোলজিষ্টদের সংখা দিন দিন বেরিয়ে চলছে  ।
আয় কেমন? : সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা  টেকনোলজিষ্টদের চাকুরী বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রচুর মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট দরকার । একজন শিক্ষার্থী নূনতম এসএসসি পাশ করার পর মেডিকেল টেকনোলজির যেকোনো বিষয়ে চার বছরের ডিপ্লোমা শেষ করে সে যখন বের হচ্ছে তখন শুরুতে  বেতন পাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।  পরবর্তীতে কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নতুন নতুন চিকিৎসা বিজ্ঞানে যেমন ডায়ালায়েস, এম আর আই, ইনফারটিলিটি, টেষ্টটিউব বেবী, সিটি স্কেন ও উন্নতমানের অপারেশান থিয়েটার (ওটি)  যুক্ত হওয়া ফলে দক্ষ টেকনোলিষ্টদের চাহিদা ও বারছে ।
পড়াশোনা :মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে নূনতম এসএসসি পাশের পর পছন্দের যে কোনো বিষয়ে ভর্তি হতে পারেন । বিষয়গুলো হলো প্যাথলজি, ডেন্টাল, ফার্মেসী, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি,  রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং ও প্যারামেডিকেল। কোর্সগুলি বাংলাদেশ কারিগির  শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। এসএসসি পাশ করার পর চার বছর মেয়াদী মেডিকেল টেকনোলজি প্রযুক্তি বিদ্যা শিক্ষাকোর্স গ্রহণ শেষে ১৮/২০ বছর বয়সেই মর্যাদাপূর্ণ সেবাধর্মী সম্ভাবনাময় পেশা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হওয়ার সুযোগ যে কেউ গ্রহণ করতে পারে। এ ছাড়া  উচ্চশিক্ষা গ্রহণ যেমন বিএসসি, এমএসসি সুযোগ রয়েছে আমাদের দেশেই। এইচএসসি পাস করার পরে, সংশি¬ষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা করা থাকলে বিএসসি কোর্সে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। কারণ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে পাশকৃত ছাত্র- ছাত্রীরা পাচেছ বিজ্ঞান সহ সমমানের এইচএসসি বৈধ সাটিফিকেট ।
যোগ্যতা : যেকোন বিভাগ থেকে এসএসসি-তে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ পাওয়া সাপেক্ষে যে কোন ছাত্র-ছাত্রী তাদের পছন্দের একটি কোর্সে ভর্তি হয়ে সম্ভাবনাময় এ পেশা গ্রহণ করতে পারে। পড়াশোনা করা অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এই সময় আপনার বাস্তব কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে নিতে পারে। একাডেমিক রেজাল্ট এর পাশাপাশি কার্যদক্ষতা যত ভালো হবে তত ভালো অবস্থানে অথবা ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরী পেতে পারে।
কোথায় পড়বেন? : মেডিকেল টেকনোলজি বিষয়ে পড়ার জন্য সরকার কর্তৃক নিবন্ধকৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স (বিমস) যার কলেজ কোড ৫০২১৬  সংশিষ্ট কোর্সগুলি পরিচালনা করে আসছে। কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে ১) ডিপ্লোমা ইন প্যাথলজি, ২) ফামের্সী , ৩) রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ,৪) ডেন্টাল, ৫) ফিজিওথেরাপী , ৬) নার্সিং  ও ৭) প্যারামেডিকেল এখানে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা শুরু করতে পারেন সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের পথচলা। বিমস্ প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ভবনে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের  স্বির্কৃত প্রথম মেডিকেল টেকনোলজি ইন্সটিটিউট । এতে রয়েছে যাতায়তের উওম ব্যবস্থা , অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলি, সমিদ্ব লাইব্রেরী, শিক্ষা সমাহার ও বিনোদন ব্যবস্থা । এ ছাড়াও  ইংরেজী শিক্ষা উপর বিশেষ গুরুত্ব সহকারে  শিক্ষা দেওয়া।  স্বপরি উওম শিক্ষা  ব্যবস্থা ও ভাল ফলাফল।
বি:দ্র: প্রতিষ্ঠানের কর্মকতাগনের আন্তরীক সহযোগীতায় বিমস্ এর ওয়েব সাইট  থেকে ফরম নিয়ে ভর্তি হতে পারবে । (www.bims-bd.com)বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স (বিমস্)  কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে সুষ্ট অবদান রাখায় স্বকৃতি স্বরুপ বিজনেস  ইনেসিয়েটিভভ  ডাইভারশান কর্তৃক  ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটি ক্রাউন এ্যাওয়ার্ড, লন্ডল ২০১২ হতে ভুষিত হয় । পৃথিবীতে শিক্ষা, শিল্প, উদ্যাগতাকে কাজের স্বকৃতিস্বরুপ বিমস্ সহ কেবলমাত্র ১৭ টি দেশে কে দূর্লভ স্বকৃতি প্রদান করেছে । বিমস্ গৌরবউজ্জল সম্মান লাভের জন্য কর্তৃজ্ঞতা প্রকাশ করছে ।

============================
অধ্যাপক ডাঃ এম এ বাসেদ – পিএইচ ডি ( ইতালি)
চেয়ারম্যান / নিঃস্তান দম্পতিদের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
এন /২৩ নুরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা -১২০৭
মোবাইল : ০১৭১৪৩০১৯২৫, ০১৯১৭১৬৩৩০৭
E-mail:drmabashed@yahoo.com,
w. site www.bims-bd.com

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply