মুরাদনগরে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া লন্ডন প্রবাসীসহ ৪ পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার:–
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর (কালাপাইলা) গ্রামের একটি চি‎হ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের ভয়ে লন্ডন প্রবাসীসহ ৪টি পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তাদের অনুপস্থিতিতে পুকুরের মাছ, গাছ-গাছালি, ফল-ফলাদি ও জমির ফসল লুটসহ জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগি পরিবারগুলো বিষয়টির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাস্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Muradnagar-002

জানা যায়, মোহাম্মদপুর (কালাপাইলা) গ্রামের মৃত ডাক্তার আব্দুল খালেকের ছেলে ব্রিটিশ বাংলাদেশী শাহাব উদ্দিন শামীম, লন্ডন প্রবাসী সোহেল সরকার, মালয়েশিয়া প্রবাসী জয়নাল আবেদীন ও ঢাকার ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম সরকার ওরফে সিয়াম প্রবাসে থাকা ও ব্যবসা বানিজ্য করার ফলে তাদের সম্পদের উপর কু-নজর পড়ে একই গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (২৭), আবু সালেহ ওরফে শাহআলম (৩৫), মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মফিজুল ইসলাম (৩৮), মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) ও সুলতান ভুইয়ার ছেলে রাফিউদ্দিন ভুইয়া ওরফে তুরিন (৪৫)। এ চক্রটি ওই প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের নিকট দীর্ঘদিন যাবত ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ২৮ মার্চ বিকেলে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে গালমন্দ করে ব্রিটিশ বাংলাদেশী শাহাব উদ্দিন শামীমকে ডেকে এনে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ১ সপ্তাহের মধ্যে চাদা না দিলে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন করবে বলে শাসিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান সাড়ে ৭টায় ওই সন্ত্রাসীরা বাড়িতে গিয়ে লন্ডন প্রবাসী সোহেল সরকারের নিকট আবারো ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়ির গেট ভেঙ্গে গালমন্দ করতে করতে ভিতরে প্রবেশ করে। তখন সোহেলের মা তারা বেগম (৬২) ও বোন শিল্পী আক্তার (২৫) বাঁধা দিলে তাদেরকে মারধর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আলমিরার তালা ভেঙ্গে নগদ ৫ লাখ টাকা, সাড়ে ৩ ভড়ি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। পরে সন্ত্রাসীরা সোহেল সরকারের অনুমান আড়াই লাখ মুল্যের একটি এফজেড মোটর সাইকেল পেট্টোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে জ্বলিয়ে দেয়। ঘটনার পরপরই বিষয়টির ব্যাপারে থানায় খবর দিয়ে পুলিশের এস আই জালাল উদ্দিন ও এএসআই সবুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ার পরও প্রকৃত অপরাধ গোপন রেখে বাদীকে অভিযোগ বুঝতে না দিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ সাধারণ ধারায় মামলা রেকর্ড করে। উক্ত দায়সারা মামলার আসামীরা জামিনে এসে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমসহ মামলা তুলে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। উক্ত মামলার কোন ফল না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত ২৩ এপ্রিল ব্রিটিশ বাংলাদেশী শাহাব উদ্দিন শামীম বাদী হয়ে হেলাল মিয়া, আবু ছালেহ ওরফে শাহআলম, রিদয় ও রফিউদ্দিন ভুইয়া ওরফে তুরিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতে আরেকটি মামলা করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের সমন জারি করেন।
ঘটনার পর থেকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের অমানবিক অত্যাচার, নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে প্রাণ ভয়ে বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে ভূক্তভোগিরা অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সুযোগে তাদের ২টি পুকুরের মাছ, ৫/৬টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি, ১০/১২টি গাছের ফল-ফলাদি ও ৩শ’ শতক জমির ফসল লুটসহ ২শ’ শতক জমি দখল করে নিয়েছে। এলাকার সর্দার-মাতাব্বররা এসব দেখেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাতাব্বর জানায়, ‘নিজের খাইয়া ওদের বিরুদ্ধে মুখ খুইল্লা আমরা কি মরমু, তাদের টাকা আছে ঢাকায় গিয়ে থাকতে পারে, আমরা যাব কই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা প্রকৃত ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য থানা পুলিশের যোগসাজসে পরিকল্পিত ভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ দিকে উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত আবু ছালেহ ওরফে শাহআলম, মফিজুল ইসলাম ও মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা যতটুকু পাওয়া গেছে, সে মোতাবেক মামলা নেয়া হয়েছে। তারপরও বিষয়টির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনার কোন সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না।
এ দিকে উক্ত ঘটনায় জড়িত সুলতান ভুইয়ার ছেলে রাফিউদ্দিন ভুইয়া ওরফে তুরিনকে ১৬ মে দেবিদ্বার থানা গেইট থেকে সিএনজি তল্লাশী করে পুলিশ ৪ পিছ ইয়াবা ও ৫ পুরিয়া গাঁজাসহ আটক করে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দাউদ হোসেন চৌধুরী। বর্তমানে সে কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অপর দিকে মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে পুলিশ ২০১১ সালে পুলিশ বিপুল পরিমান ফেনসিডিলসহ আটক করে মামলা নিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে এসে সে পূনরায় মাদক ব্যবসা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply