চান্দিনায় স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা; ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক অনিময়

মাসুমুর রহমান মাসুদ,চান্দিনা (কুমিল্লা):–
চান্দিনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল। ডাক্তার, ভিজিটর, ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টরা যে যার মতো করে আসা যাওয়া করেন। অনেকেই অফিস সময়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেননা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র এলাকার সাধারণ রোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তাররা সপ্তাহে ২/১ দিন আসেন। মাসের শেষে কয়েকদিন এসে হাজিরা খাতাপত্র মেইন্টেন করে সরকারি বেতন-ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন তারা। কিন্তু জনগণকে তেমন সেবা দেননা। ভুক্তভোগীরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও রহস্যময় কারণে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন- সাধারণ রোগীদের ঠিকমত ঔষধ-পথ্যও দেওয়া হয় না। সরকারি বরাদ্দকৃত ঔষধ কোথায় যায় তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি চার্ট দেওয়া থাকলেও ঔষধের জন্য সেই চার্টের অতিরিক্ত টাকা নেন কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত উপজেলার মাইজখার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অবস্থান করে দেখা যায়, অফিসে কেউ নেই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ১১টায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার সুমাইয়্যা মোহাম্মদ অফিসে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর ইনচার্জ ডাক্তার রুহুল আমিন আসেন। কোন ছুটি না নিয়ে পরিদর্শক রীণা বেগম অনুপস্থিত। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন- ডাক্তার সুমাইয়্যা ঢাকায় থাকেন। মাসে কয়েকদিন অফিস করেন তিনি। ডাক্তার রুহুল আমিন কুমিল্লায় থাকেন। তিনিও নিয়মিত অফিসে আসেন না।

এবিষয়ে ডাক্তার সুমাইয়্যার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন। এমনকি তিনি বলেন- ‘ডাক্তারারা আসে, না আসে সেই নিউজ করতে আসেন, হাসপাতালের বেহাল দশার নিউজ করতে পারেন না ?’
ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন- ‘এখানে থাকার পরিবেশ নেই। তাই কুমিল্লায় থাকি।’

গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌনে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায় ক্লিনিকে তালা ঝুলছে। কোন ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারি নেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন প্রায়ই ওই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। মাসে কয়েকদিন অফিসাররা আসেন। কিন্তু বেশি সময় থাকেন না। ওই ক্লিনিক থেকে স্থানীয় রোগীরা কোন সেবা পান না।

একই ইউনিয়নের কেশেরা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় ওই ক্লিনিকটিও বন্ধ। স্থানীয় শেখ সেলিম, অব. সৈনিক লেয়াকতসহ কয়েকজন এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ডাক্তার ও কর্মকর্তারা একেবারে আসেন না বললেই চলে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয় না।

একই ইউনিয়নের কংগাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা থাকলেও কোন ডাক্তার নেই। ইনচার্জ আবুল খায়ের ভূইয়া জানান, দীর্ঘ ৫-৬ মাস ধরে ডাক্তার নেই। ফলে স্থানীয় অনেক রোগীরাই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ- ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন- ‘তারা অফিস করে, তবে কখনও কখনও হয়তো কিছুটা বিলম্ব হয়।’ তবে অনিয়মের কথা তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন- ‘ছুটি না নিয়ে যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দায়িত্ব পালনে আপনার কোন ব্যর্থতা আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ‘আমি ব্যর্থ হলে তোমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বল। আমার চাকরি করার এতো ইচ্ছা নাই।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান বলেন- ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply