সাত খুন, নেতাদের বানী এবং মায়ার মায়াবী মুখ !

বর্তমানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো নারায়নগঞ্জের সাত-সাতটি হত্যাকান্ড, যেটা স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডের অধ্যায় হয়েই থাকবে বলে অনায়াসে বলা যায়। নারায়নগঞ্জের সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক এবং দায়িত্বরত স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং দেশের অন্যতম স্বনামখ্যাত একজন আইনজীবী চন্দন সরকারসহ মোট সাত-সাতটি তাজা প্রাণকে কিভাবে? কি পাষন্ড কায়দায়? কি নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে যেটা দেশের সচেতন কোন মানুষেরই অজানা নয়। তবে এখন যখন এই নির্মম হত্যার পর শুধু নিহতদের অসহায় পরিবারই না পুরো দেশের বিবেকবান মানুষ এই পাষন্ড হত্যার সুষ্ট বিচার চায় তখন শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহান নেতাদের রাজনীতির টকশো এবং সুন্দর ভাষায় একে অন্যকে দোষ দেয়ার ফুলছড়ি।
sat khun-544
দেশের চাঞ্চল্যকর সাত-সাতটি লোহমর্ষক খুনের ব্যাপারে তিন ধরণের নেতার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, যে দিন লাশগুলো শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো সেদিনই নারায়নগঞ্জ সিটির মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ঘটনাস্থলে এসে অপকটে নারায়নগঞ্জের একটি বিশেষ পরিবার অর্থ্যাৎ শামীম ওসমানের পরিবারকে পরোক্ষভাবে দোষী করলেন। কেন শামীম ওসমানকে দোষী করছেন আইভীরা তার সঠিক কারণ সবারই জানা তবে এর কোন প্রমান নেই তাই আইভী সাহেবের কাছে অনুরোধ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে খুনের একটা প্রমাণ দেন তাহলে জাতি শান্তি পায় আর গডফাদারদেরও ভালোভাবে চেনা যায়।আর যদি প্রমান নাই দিতে পারেন তাহলে চুপ থাকাটাই ভাল মনে হয়।

শামীম সাহেবের বিপক্ষে তেমন কিছু বলতে চাই না কারণ তিনি অনকেটা স্বীকৃত বাংলার দামাল সৈনিক, কখন কি করে বসেন বলা মুশকিল। তবে এতটুকু বলা যায় সাত-সাতটি খুনের দু-দিন পরই শামীম ওসমান কিভাবে সেই খুনের পরিকল্বনার অডিও প্রকাশ করলেন? এবং খুনগুলো সম্পর্কে অনেক তথ্য উপস্থাপন করলেন যাহা অনকেটাই রহস্য। আরেকটি যেটি হাস্যকর এবং মজার ব্যাপার শামীম ওসমানের মতো মানুষ যিনি তার নিজ এলাকায় নিজের জীবন রক্ষায় থানায় জিডি করেন এবং জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকেন যেটা নিছকই একটা কৌতুকের বিষয়ই বটে।

এছাড়া বর্তমান আওয়ামী সরকারের সম্মানিত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী জাতির চাচা এরশাদ সাহেবের সুযোগ্য পত্নী জনাবা রওশন এরশাদ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, দু-একটা গুম খুন হতেই পারে, এটা স্বাভাবিক বিষয়, দু-একটা গুম খুন নিয়ে এতোটা ভাবার কিছু নেই এ রকমই হলো তাদের বক্তব্য। তবে এখন তাদের কাছে জানতে চাই গুম অথবা খুন যদি আপনাদের ছেলে কিংবা মেয়ে হয় তাহলে আপনাদের কেমন লাগবে? তখন কি আপনাদের ভাষন ঠিক থাকবে না-কি শুর পাল্টে যাবে? তবে শুরতো তখন অবশ্যই পাল্টে যাওয়ারই কথা কারণ সে যে আপনাদের ছেলে/মেয়ে, অনেক দামী সাধারণ মানুষের সাথে তুলনা হয় কিভাবে?

এছাড়া দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারায়নগঞ্জের এই সাত-সাতটি খুনের পরে বেশ কয়েকবার বক্তব্য দিয়েছেন, সেই অসহায় পারিবারেদর সাথে দেখাও করেছেন দুই নেত্রী এবং একটি সুষ্ঠ বিচারের আশাও দিয়েছেন বলে আমাদের সকলেরই জানা। তবে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার কাছে অনুরোধ রইল প্রত্যকটি ঘটনা, প্রত্যকটি কাজকর্মে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে  এবং প্রত্যকটি বিষয়কে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাখ্যা এবং অপব্যাখ্যা না করে দেশের মানুষকে আর ভূয়া আশার বানী না শুনিয়ে এমন কিছু করার চেষ্টা করুন, যাতে করে দেশের সাধারণ মানুষ একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারে। একটু স্বাধীনভাবে বাঁচার নিশ্চয়তা পায় এবং গুম-অপহরণ এবং হত্যা থেকে রেহায় পেয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবযাপন করার একটু অধিকার পায়।

এদিকে সাত খুনের পর থেকেই ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা র‌্যাব-১১ এর নারায়নগঞ্জের জোনের সিও তারেক সাঈদ জড়িত থাকার অভিযোগের পর থেকেই জনাব মায়া সাহেবের সেই বাগ্নী মুখাবয় খানা কেমন যেন মায়াবী হয়ে গেছে। যে মায়া সাহেব রাজপথে, জনসভায় এবং তার প্রত্যকটি আলোচনায় বিরোধীজোট সম্পর্কে ব্যাপক সমালোচনা, কঠোর হুশিয়ারী এবং হুমকি দিয়ে বিরোধীজোটকে সর্বদা আতঙ্কে তঠস্থ রাখতে অভ্যস্থ অথচ সেই মায়া সাহেব আজ নারায়নগঞ্জে সাত খুনের পর তার জামাতা তারেক সাঈদ এবং তার ছেলে জড়িত থাকার অভিযোগ আসলে তিনি বলেছেন, হাতি গর্তে পড়লে চামচিকাও না-কি কি যেন করে? এছাড়া অন্য একদিন তিনি সাংবাদিকদের কাছে দোয়াও চাইলেন । তাহলে কি জনাব মায়া সাহেবের আচরণ থেকে আমরা সাধারণ বাঙ্গালী বুঝতে পারি না যে নারায়নগঞ্জে সাত খুনের ব্যাপারে মায়া সাহেব তেমন কিছু না জানলেও তার জামাতা তারেক সাঈদ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত বলেই মায়া সাহেব এতোটা হতাশাবোধ করছেন।

ছয় কোটি টাকার লোভ সামলানো একটু না অনেকটাই মুশকিল, কারণ টাকার সংখ্যাটা ছয় কোটি টাকার বিশাল অংকের, আর সেই টাকার মোহে পরেই সম্মানিত র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও সাহেব জনাব তারেক সাঈদ যিনি সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবেন অথচ সেই তিনিই সাত-সাতটি মানুষকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন বলে অনেকটা বলাই যেতে পারে। যদিও তদন্ত রিপোর্টের আগে এভাবে বলা উচিত নয় তবে এতটুকু বলা যায় তাহলে কেনই-বা তারেক সাঈদকে র‌্যাব থেকে চাকরিচ্যুত করার পর গ্রেফতার করা হলো? আর কেনই-বা মায়ার মতো একজন বাঘা নেতার মায়াবী মুখ হয় যেগুলো অনেক কিছুরই প্রমান করে বলেই অপকটে বলা যেতেই পারে। এছাড়া গনমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম সেদিনের সেই সাতজনকে অপহরণের একজন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী বলেছেন, সেদিন  অপহরণের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন এবং প্রায় ৭/৮ জন র‌্যাব অপহরণের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাহলে অবশ্যই বলা যায় তারেক সাঈদ যেহেতু নারায়নগঞ্জ জোনের র‌্যাবের দায়িত্বে ছিলেন অতএব এতবড় বিশাল ঘটনা তিনি জানবেন না যেটা ভাবা একজন পাগলের পক্ষেও খুব একটা কষ্টকর হওয়ার কথা নয়। এছাড়াও পুলিশ বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে তারেক সাঈদ এবং অন্যান্য আরো কয়েকজন র‌্যাবের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।তো এখন দেথা যাক বাংলার সম্মানিত শাষক গোষ্ঠী এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ কতটুকু বিচার করেন সেই দিকেই তাঁকিয়ে রইলাম।

আমি আমার প্রায় প্রত্যকটি লেখার শেষে দেশের সম্মানিত দুই নেত্রী শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া এবং অন্যান্য নেতা-নেত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছি আপনারা আপনাদের রাজনীতির নোংরা রক্তের হলি খেলা থেকে বাংলার সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিন। প্রকৃতভাবে হৃদয় থেকে দেশকে একটু ভালোবাসার চেষ্টা করুণ, ভালোবাসতে চেষ্টা করুন দেশের মানুষকে। তবে আজ নেতাদের কোন অনুরোধ নয়, এই সোনার বাংলার সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, প্রত্যক মানুষের অধিকার আছে সুষ্ঠ সুন্দরভাবে বাচাঁর, জীবনধারণ করার এবং নিজের চাহিদা পূরণের। তো তাই আসুন আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে রুথে দাঁড়াই, আসুন আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে সকলে একত্রিত হই, আপাদত স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করি। হ্যা আমরা এক সময় পরাধীন ছিলাম কিন্তু বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমাদের পূর্বসূরীরা এবং আমরা সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে অনেক রক্ত, সম্ভ্রম আর অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে স্বাধীন হয়েছি, পেয়েছি এক সাগর লাল রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক লাল–সবুজ পতাকা।কিন্তু আজ স্বাধীনতার প্রায় ৪যুগ পর স্বাধীন দেশে যে গুম-হত্যা-ধর্ষন-রাহাজানি শুরু হয়েছে তাতে অনেকটাই পরাধীনতার সেই ছায়াটাই যেন বার বার স্বরণে আসছে। কিন্তু আমরা দিপ্ত কন্ঠে বলতে চাই, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়ে চাই না পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে। চাই স্বাধীনতার আলোকে আলোকিত হয়ে জীবনটাকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে দেশ এবং জাতির উন্নয়নে সামান্য হলেও অবদান রাখতে।

=========================
লেখক :- এস.এম সাজু আহমেদ      (সাংবাদিক)

Mail-smshaju7@gmail.com

প্রয়োজনে: ০১৯১৭-৫২০৮৯৭

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply