মুরাদনগরে গোমতী নদীর লোপ কাটিংয়ের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর :–
ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ না করেই ক্ষমতাধর এক ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির জন্য কুমিল্লার মুরাদনগরে তড়িঘড়ি করে গোমতী নদীর লোপ-কাটিং (নদীর গতিপথ সোজাকরণ) প্রকল্প উদ্ধোধন করা হয়েছে।  যে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি গ্রামসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে এলাকার কয়েক হাজার কৃষক ও সাধারণ জনগণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোমতী নদীর লোপ কাটিং করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপজেলার রহিমপুর মৌজার ২ হেক্টর, নোয়াকান্দি মৌজার ০.৪২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়।  এই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ৩৮৭ মিটার লোপ কাটিং ও ক্লোজারের (নদীর পুরাতন মুখ বন্ধকরণ) কাজের জন্য ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়া হয় । কিন্তু ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ না করেই গত ১৯ মে তড়িঘড়ি করে ওই প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন স্থানীয়রা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে গোমতী বেড়িবাঁধ নির্মানের সময় উপজেলার ভুবনগড় দিয়ে এই লোপকাটিং প্রকল্প হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তখন ধণাঢ্য এক ব্যক্তির বাড়িঘর হুমকীর মুখে পড়বে বলে প্রকল্প এগোয়নি। এরপর গত বিএনপির সময়ে গোমতীর লোপ কাটিং করার উদ্যোগ নেয়া হলে স্থানীয় জনগনের দাবির মুখে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তির ঘরবাড়ি রক্ষায় অপরিকল্পিতভাবে লোপকাটিং করার প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। বিতর্কিত ওই লোপকাটিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রকল্প এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন গোলাম মোস্তফা, রাজন, মোশারফ হোসেন ও মোখলেছুর রহমান।
বক্তারা বলেন, ওই বিতর্কিত লোপকাটিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আশপাশের চৌধুরীকান্দি, নোয়াকান্দিসহ কয়েকটি গ্রাম, পুলিশ স্টেশন (থানা), উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস, রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদনগর বালিকা বিদ্যালয়, বাজারসহ অনেক সরকারি-বেসরকারি অফিস গোমতী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করে প্রকল্প কাজের উদ্বোধন নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবিলম্বে স্থানীয়রা এই বতির্কিত প্রকল্প বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবদুল মতিন জানান, অধিগ্রহণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এ কাজ শেষ হতে আরও ২/৩ মাস সময় লাগবে। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অধিগ্রহণের কার্যক্রম শেষ হলে জমি মালিকদের টাকা পরিশোধের পর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দখল বুঝিয়ে দেয়া হবে। এর আগে প্রকল্পের উদ্বোধন বা কোন কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসন অবহিত নয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply