গজারিয়ায় এমভি মিরাজ-৪ লঞ্চ ডুবি : ১৫জনের লাশ উদ্ধার

শামসুজ্জামান ডলার :–
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা নদীর দৌলতপুরে সুরেশ্বরগামী লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪ তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে ৮০ ফিট গভীর পানির নিচে ডুবে যায়। লঞ্চডুবির ঘটনায় মেঘনার তীরে এখন শোকের মাতম চলছে। মেঘনায় ট্রলার, বোট, লঞ্চ, সি-বোট দিয়ে পুলিশ নৌ-বাহিনী, দমকল বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অর্ধ ঘন্টা পূর্বে উদ্ধার কারী জাহাজ দুর্বার ও প্রত্যয় দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিমজ্জিত যাত্রীবাহি লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার স্থান চিহ্নিত হয়েছে। এ পর্যন্ত স্থানীয় ডুবরীরা ১৫টি মৃত দেহ উদ্ধার করেছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চের ৬০-৭০ জন যাত্রী সাঁতার কেটে নদীর পাড়ে উঠে প্রাণে বাঁচে। ঘটনার পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এম.পি, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বাদল, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্যাহ খান তোতা, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. এটিএম মাহাবুব উল করিম, বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান খাঁন ঘটনারস্থল পরিদর্শনে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেলা ১ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা সুরেশ্বরগামী লঞ্চ এম.ভি মিরাজ-৪ মেঘনা নদীর গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর নামক স্থানে বিকাল ৩টায় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। লঞ্চটিতে ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে সুরেশ্বরে যাওয়ার পথে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এমভি মিরাজ-৪ এর কেরানি দোলন মিয়া (৪৩) সাঁতার কেটে নদীর পাড়ে উঠতে পারলেও লঞ্চের সারেং জীবিত কিংবা মৃত কিছুই জানেন না তিনি।
দোলন জানান, আনুমানিক বেলা ৩ টায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি। কিছু বুঝার পূর্বেই লঞ্চটি বাম দিক কাত হয়ে ডুবে যায়। লঞ্চের বেঁচে যাওয়া যাত্রী মোবারক হোসেন জানান, সে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। ঢাকা থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে লঞ্চে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এদিকে লঞ্চে বাড়ী ফিরছিল শরিয়তপুর নরিয়া থানার পাঁচগাঁও গ্রামের লিটন মিয়া (৪২), স্ত্রী টুম্পা (২৬), ছেলে সুমন (৮) অপর ছেলে মাহিন (৪)। স্ত্রী টুম্পা ও ৪ বছরের  ছেলে মাহিন লঞ্চ ডুবিতে মারা যায়। লিটন মিয়া স্ত্রী সন্তান হারিয়ে পাগল পায়। সুরেশ্বর গ্রামের হোটেল ব্যবসায়ী জামাল সিকদার (৫৫) ছেলে আবিদ সিকদার (২৮) লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী কর্মীরা। নরিয়া থানার রাহা পাড়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী আখন্দের স্ত্রী সেতারা বেগম (৫৫) এর লাশ উদ্ধার করেছে লঞ্চের ভিতর থেকে। এছাড়া অজ্ঞাত পুরুষ (৬০) মুখে দাড়ি আছে, অজ্ঞাত শিশু (২), অজ্ঞাত মহিলা (৫৬), হযরত আলী (৫০) এর লাশ উদ্ধার করেছে কর্মীরা। এদিকে নড়িয়া থানার নান খালা গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে রোমান (৬) মেঘনায় ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভিতর থেকে সাঁতার কেটে পাড়ে উঠে বেঁচে যায়। এদিকে মেঘনা নদীর পাড়ে হাজার হাজার লোক উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছে, আর আহাজারী করে ঘুরছে নদীর পাড়ে।
সদরঘাটের বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) মো. মাহমুদ হোসেন জানান, দুপুর ১টার সময় মিরাজ-৪ সদরঘাট টার্মিনাল ছেড়ে যায়। মাঝারি আকারের লঞ্চটিতে কত যাত্রী ছিল তার সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি। এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার এ এস এম সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল হাসান ও একই অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুর রহমান। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply