সৌদি আরবে অগ্নিদগ্ধে মৃত্যুর ঘটনা : লাশের অপেক্ষায় স্বজনরা, থামছে না বুকফাটা আহাজারি

কুমিল্লা প্রতিনিধি :–
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা সানাইয়া এলাকায় আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে নির্মমভাবে কুমিল্লার ৭ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় থামছে না স্বজনদের আহাজারি। পরিবারের লোকজনের বুক ফাঁটা কান্নায় ভারি হয়ে ওঠেছে পরিবেশ। শোকে মূহ্যমান এসব ভাগ্যাহত শ্রমিকদের মা-বাবা, স্ত্রী, অবুঝ সন্তান ও স্বজনদের প্রতিটি মুহুর্ত এখন শুধুই কাটছে লাশের অপেক্ষায়। থামছে না তাদের আহাজারি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সকল মহলের লোকজন শান্তনা দিতে যাচ্ছেন শোকার্ত ওই বাড়িগুলোতে। তাদের শান্তনা দেয়ার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন এলাকার লোকজন। এদিকে তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে কবে নাগাদ পৌঁছাবে তা সঠিকভাবে জানাতে পারছেন না স্থানীয় প্রশাসন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত আগুনের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া কুমিল্লার অপর ৩ শ্রমিক দুলাল, রাজু ও মাসুদের সাথে মোবাইল ফোনে কথার বরাত দিয়ে মারা যাওয়া শ্রমিক তিতাসের জালাল উদ্দিন, নজির হোসেন, শাহ আলমের পরিবারের লোকজন ও তাদের স্বজনরা জানায়, আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় লাশগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মঙ্গল ও গতকাল বুধবার ২ দিনে স্থানীয় হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। আগুনে লাশগুলো ঝলসে এতোটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে- কার লাশ কোন্টি তা চেনার কোন উপায় নেই। তাই লাশগুলোর ডিএনএ টেস্ট করা হতে পারে। মরদেহগুলো স্থানীয় সমোচি নামের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাশগুলো দেশে পাঠাতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে বলেও তারা মারা যাওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, মারা যাওয়া মতিউরের বাবা আবদুল করিম ও মা দেলোয়ারা বেগম ছেলের শোকে চোখের জলে বুক ভাসান। তারা তাদের বুকের ধন পুত্রের চেহারা চেনা না গেলেও এক টুকরো হাঁড় হলেও দেখতে চান। অঙ্গার মরদেহে হাত বুলাতে চান। পুত্রশোকে তারা এখন পাগলপ্রায়। স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া নজিরের মা জুলেখা শোকে পাথরের মতো কেবলই কাঁদছেন। দীর্ঘ বছর ধরে দেখছেন না আদরের সন্তানকে। ছেলের মরদেহ আগুনে জ্বলে অঙ্গার হয়ে চেনা না গেলেও তা একবার ছুঁয়ে দেখতে চান। এদিকে মারা যাওয়া ওই শ্রমিকদের অনেকে এখনো বিদেশে যাওয়ার ঋণ পরিশোধ করতে পারেন নি। এসব পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকদের মরদেহ আমাদের দেশে পাঠানোর ব্যাপারে ওই দেশের বিধি অনুযায়ী কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে। তা শেষ করার পর যথাসম্ভব কমসময়ে মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারিভাবে চেষ্টা চলছে। এ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়াদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারেও সরকারি বিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত: সৌদি আরবের রিয়াদে আসবাবপত্র তৈরির একটি কারখানায় গত সোমবার রাতে আগুন লেগে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে৷ মৃতদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি এবং ওই ৯ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁরা হলেন- জেলার তিতাস উপজেলার মো. জালাল উদ্দিন, নজির হোসেন, শাহ আলম, হোমনার মতিউর রহমান, বাহাউদ্দিন, মো. সেলিম ও মেঘনার আবদুল গাফ্ফার। মারা যাওয়া ৯ জনের অপর ২ জন হলেন- মাদারীপুরের শিবচরের মো. আক্কাস ও ফেনীর জাকির হোসেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply