সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত : তিতাসের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম

নাজমুল করিম ফারুক :–
সৌদি আরবের রিয়াদের সিফা সানাইয়া এলাকার হিলা সোফা ফ্যাক্টরীতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশীদের মধ্যে তিতাসের ৩ জনের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। সোমবার রাত ৩টা উক্ত নিহতদের খবর এলাকায় পৌছলে পরিবারগুলোতে নেমে আসে শোকের ছায়া। সরেজমিনে ঘুরে জানা য়ায,
পরিশোধ করা হলো না নজিরের ঋণের টাকা

Titas Photo-03
অসহায় পরিবারের পিতাহারা ব্যাথাটা কাটিয়ে উঠে যখন আলোর মুখ দেখেছিল তিতাস উপজেলার দক্ষিণ নারান্দিয়া চকের বাড়ীর মৃত জমসের আলীর পরিবার। কিন্তু সেই আলো আর বেশিদিন স্থায়ী হলো না, পরিশোধ করা হলো না ঋণের টাকা। ছোট ভাইকে হারিয়ে বড় ভাই কবির হোসেন যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন ছেলে হারা মায়ের আত্মনাথ কে আটকে রাখে? সন্তানের মৃত্যুর খবর শোনে মা জুলেখা বেগম গভীর রাতেই ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফিরে আসেন অন্য ছেলেদের কাছে। উপজেলা দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামের মৃত জমসের আলীর ছেলে নজির (২৭) বার বছর যাবৎ সৌদিতে চাকরীরত। অভাব অনটনের কারনে ১২ বছরের মধ্যে একবারও দেশে আসেনি নজির। ৫ ভাইয়ের মধ্যে নজির দ্বিতীয়। ছোট ভাই আজিজুল হক জানায়, সোমবার বিকাল ৫টায় ভাই ফোন করে বাড়ীর সকলের খোঁজ খবর নেয় এবং আগামী ঈদে বাড়ী আসবে বলে জানায়।

Titas Photo-02
জন্মের পর বাবা জালালের মুখ দেখেনি ৫ বছরের ঝুমুর
উপজেলার দুলারামপুর চাঁনপুর গ্রামের হাজী রোস্তম আলীর ছেলে জালাল (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছে স্ত্রী সখিনা বেগম। স্বামী হারানো ব্যাথা তাকে যে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে চোখ দেখলেই তা ভেসে আসে। আট বছরের ছেলে সন্তান সাজ্জাদ ও পাঁচ বছরের মেয়ে সন্তান ঝুমুরের দিকে তাকিয়ে বার বার কেঁধে ফেলে। সাংবাদিকদের দেখে সখিনা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং জন্মের পর ঝুমুর তার বাবা মুখ দেখেনি বলে জানান। তিনি আরো জানান, সোমবার রাতে ঝুমুর তার বাবার সাথে কথা বলেছে, বাবাকে বলেছে এ ঈদে বাড়ী আসতে। বাবাও মেয়ের বায়নাকে ফেলে দেয়নি বলেছে আসবে। সন্তানের মৃত্যুর খবর শোনে বাবা রোস্তম আলী ও মা মিনরা বেগম পাগল প্রায়। জালালের বোনের জামাই ডাঃ মোঃ রুহুল আমিন জানান, জালাল ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। আট বছরের প্রবাস জীবনে প্রায় ৫ বছর আগে বাড়ীতে এসেছিল।
অকালে স্বামী শাহ আলমকে হারিয়ে সংসার সাজানো হলো না রুমির
উপজেলার কালিপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে শাহ আলম (২৬) আড়াই মাস হয়েছে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে। শাহ আলম বিদেশ যাওয়ার এক মাস পূর্বে বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী কাশিপুর গ্রামের রুমি আক্তারকে। সোমবার রাতে স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনে মেনে নিতে পারছেনা তার স্বামী মারা গেছে। লাশ হয়ে বাড়ীতে ফিরবে। বোবাকান্না বুকে বেঁধে ছলছল চোখে সবার দিকে তাকিয়ে থাকে আর বলতে থাকে সাজানো হলো না আমার সংসার। ছেলেমেয়েহীন রুমি আক্তার এখন পাগল প্রায়। বাবা হাবিবুর রহমান ছেলেকে হারিয়ে বিছানায় সজ্ঞাহীন। মা জায়ফলের নেছা পুত্রশোকে এ বাড়ী থেকে ও বাড়ী, ও বাড়ী থেকে এ বাড়ী। আত্মীয় স্বজনকে দেখলেই বলে আমার সোনা হারিয়ে গেল। ময়নাল আমার সোনাকে বিদেশ নিয়ে মেরে ফেলেছে।
এদিকে সৌদি আরবের রিয়াদের সিফা সানাইয়া এলাকার হিলা সোফা ফ্যাক্টরীর মালিক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ময়নাল জানান, উক্ত ফ্যাক্টরীতে বাংলাদেশের প্রায় ১৩ জন কাজ করে। এদের মধ্যে তার ভাই রাইজুদ্দিন ও বিল্লাল আছে। ঘটনারপর থেকে তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, ৬ মাসের ছুটিতে সে দেশে এসেছে। তবে অগ্নিকান্ডের কারণ সম্পর্কে সে কিছুই বলতে পারেনি। তিতাসের নজির, শাহ আলম ও জালাল ছাড়া আর কেউ মারা যায়নি বলে তিনি জানান। তবে নিহত পরিবারগুলোর দাবী সরকার যেন তাদের সন্তানদের মৃত দেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply