নাঙ্গলকোটে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:–
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) কে জানানোর পরও দলীয় নেতা হওয়ার সুবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়নি এক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম। সাথে তালিকায় রয়েছে এশাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম।
জানা যায়, ওই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম মোঃ ফয়েজ কবির। তিনি উপজেলার বক্সগঞ্জ ইফপির অষ্টগ্রাম গ্রামের মৃত মোকছেদুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় আ’লীগ নেতা। তার বিশেষ মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ন- ৬৬১০, ভাতা বই নং- ৪১০ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের ভোটার নং- ২৪৭।
এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সদস্য সচিব আবুল হাসেম ভূঁইয়া বলেন- ফয়েজ কবির যুদ্ধকালীন সময়ে ক্লাস নাইনে পড়ত। এছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য তখন প্রক্রিয়াগত ভাবে কোনো আবেদন করেনি। নাঙ্গলকোট উপজেলার সাবেক নির্বাহি কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহিদ উল্ল্যাহর নের্তৃত্বে  ৭ সদস্যের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর ১০১জন মুক্তিযোদ্ধার যে তালিকা প্রদান করে, তাতে ফয়েজ কবিরের কোনো নাম নেই। আমিও উক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ছিলাম। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি- ফয়েজ কবির প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়। আমি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়াকে একাধিক বার বলেছি যে- ফয়েজ কবিরকে ভাতা দিলে মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাতার তালিকা থেকে আমার নামটা কেটে দেন। কিন্তু তিনি কোনো এক অদৃশ্য কারণে ফয়েজ কবিরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এরপর আমি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) কে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু মন্ত্রী সাহেবের আস্থা ভাজন হওয়ায় তিনিও কোনো  ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই ফয়েজ কবির কিভাবে? এবং কার সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করেছেন? তা এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছে। বিষটি তদন্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন- শুধু ফয়েজ কবির নয়। এ তালিকায় আবদুর রহমান মিয়াজী (গেজেট নং-৬৫৫৩, ভাতা বই নং-৩৫৫ ও ৪২২), গোলাম রহমান চৌধুরী (গেজেট-৬৫৩৪, ভাতা-৩৫৬), আবদুল হাকিম (গজেট-৬৫০১, ভাতা-৩২৫), মোঃ হোসেন চৌধুরী (গেজেট-৬৭২১, ভাতা-৩৬৩ ও ৪২৩), মোঃ মজিবুর রহমান (গেজেট-৬৫৭৭, ভাতা-৩৯৫), মোঃ ইলিয়াস মজুমদার (গেজেট-৬৬৯২, ভাতা-৪১২), এটিএম আফছার উদ্দিন ভূঁইয়া (গেজেট-৬৭৯২, ভাতা- ৪১৬), ডাঃ আলী আহম্মদ মোল্লা (গেজেট-৬৭৩১, ভাতা- ৪১৯), ছিদ্দিকুর রহমান (গেজেট-২০৭০, ভাতা-১৬৬ ও ৩৯৩), জয়নাল আবেদীন (গেজেট ২১০৩, ভাতা- ১৭৪) সহ আরও অনেকের নাম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রয়েছে।
এদের মধ্যে আবদুর রহমান মিয়াজী, ছিদ্দিকুর রহমান, মোঃ হোসেন চৌধুরী এবং জয়নাল আবেদীন মৃত্যু বরণ করেছেন। অমুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। তদন্ত করলে সব কিছু জানা যাবে। বিষয়গুলো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খুবই লজ্জাস্কর এবং দুঃখজনক। সাথে সাথে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেছেন।
এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফয়েজ কবির বলেন- এশটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার মানসম্মান ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব গুজব রটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়ার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply