মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন : নাঙ্গলকোটে একাধিক প্যানেল না থাকার রহস্য

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নির্বাচনে একাধিক প্যানেল প্রতিদ্বন্ধিতা না রহস্য জানা গেছে। আগামী ৪জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কোন প্যানেল না থাকায় শেষ পর্যন্ত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসহাক মিয়ার প্যানেল পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভোটার তালিকায় ২৫৩ ভোটের মধ্যে ৮০ থেকে ১শ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। সাথে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত প্যানেলে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল খালেকের নাম অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। ভোটার তালিকায় একাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের নামে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতা মঞ্জুর হওয়ায় একাধিক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আত্ম-সম্মানের কারণে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন না। এমনকি একাধিক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান করাও এর অন্যতম কারণ। সাথে সাথে ওই প্যানেলের প্রার্থীরা প্রভাবশালী এবং তারা উপজেলা সদরের বাসিন্দা হওয়ায় অনেকেই তাদের বিরোধীতা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে রাজি নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু এক অমুক্তিযোদ্ধা যখন ভাতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায় তখন সেটা আমাদের আত্ম সম্মানে আঘাত হানে। যা আমরা সহ্য করতে পারিনা। একজন অমুক্তিযোদ্ধা কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা নাম অর্ন্তভুক্ত করেন ? তাদের এ কাজে কে কে সাহায্য করেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- টাকা দিলে কি না হয় ? মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্যরা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে। যেহেতু উপজেলা ভিত্তিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি রয়েছে, সেহেতু উপজেলা কমান্ডের কারও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া যাচাই-বাছাই কমিটির চোখ ফাঁকি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অর্ন্তভুক্ত করা সম্ভব নয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কিভাবে স্বীকৃতি দেয়, তা আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় তথা রাষ্ট্রীয় ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়া জানান, আমাদের প্যানেলে কোনো অমুক্তিযোদ্ধা নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা পূর্বেও কমিটিতে ছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, অভিযুক্তদের সবাই গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। এখানে আমার করার কিছুই নেই।

 

 

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply