মহানবী (সঃ)কে কটাক্ষের জের : হোমনায় হিন্দু বাড়িঘর ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার আতঙ্ক, পুরুষ শূণ্য গ্রাম

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :–
মহানবী (সঃ)কে কটাক্ষ করে হিন্দু যুবকের ফেইস বুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগের জের ধরে তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুরের মামলায় হোমনা ও মুরাদনগরের অন্তত ১৩টি গ্রামের পুরুষ সদস্যরা রয়েছে গ্রেফতার আতঙ্কে। বাড়িঘর ভাংচুর এবং তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনে হোমনা থানায় পৃথক দু’টি মামলায় রিমান্ডে নেয়া ব্যক্তির নিকট থেকে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উপজেলার বাগশিতারামপুর গ্রামের জেলে পাড়ায় বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে গত রোববার উপজেলার বাগশিতারামপুর গ্রামের জেলে পাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের ঘটনায় রাম পদ দাসের দায়ের করা মামলায় পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এতে গ্রেফতার আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে উপজেলার চান্দেরচর ইউপির বালুয়াকান্দি, নাগেরচর, শিতারামপুর, চানপুর, ভিটিকান্দা, রামপুর, তালিমনগর, পদুয়ারামপুর, নিজ গ্রাম, তাতুয়াকন্দি, চান্দেরচর এবং মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকিত্তা, মোস্তফাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে ওই সব এলাকা। স্থানীয়রা জানায়, ওই সব গ্রামের পুরষ সদস্যরা দিনের বেলায় মাঠের কাজ কর্ম করলেও রাতের বেলায় কেউই ঘরে ঘুমাচ্ছেন না।

পুলিশের দায়ের করা তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনে আটক উদ্দব চন্দ্র দাস ও শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস এবং হিন্দু বাড়িঘর ভাংচুর মামলায় ৯জনকে গত মঙ্গলবার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেনের আদালত। ভাংচুরের মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষে অনেক বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধ কাজে লাগিয়ে সাধরণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে হিন্দু যুবকের মহানবী (সঃ) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট সম্বলিত একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের অভিযোগে শনিবার দায়িদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকে মিমাংসা না হওয়া সত্বেও পুলিশকে না জানানোয় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল বলেন, তড়িৎ প্রশাসনকে জানালে হিন্দু বাড়িতে আক্রমনের ওই ঘটনা ঘটত না।

এব্যাপারে হোমনা থানার ওসি আসলাম সিকদার জানান, হিন্দু যুবকের ফেইস বুকের পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্য পাওয়া গেছে। এজন্য আইসিটি আইনে উদ্দব চন্দ্র দাস এবং শ্রীনিবাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাগশিতারামপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। বিষয়টি আমাদের আগেই জানালে তরিৎ ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এ ঘটনায় পুলিশ কর্তৃক কোনো সাধারণ নিরীহ মানুষ হয়রানি হবে না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply