শীঘ্রই চালু হচ্ছে কুমিল্লা বিমানবন্দর : পাইলট ট্রেনিং স্কুল করার অনুমতি দিলেন বিমানমন্ত্রী

কুমিল্লা :–
৩৬ বছর যাবত বিমান চলাচল বন্ধ থাকলেও অবশেষে এ সরকারের আমলে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান।
রোববার বিকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমি বিগত ৩/৪ মাস পূর্বে এ বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের স্টিমিট করাসহ বিমানবন্দরটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশ দিয়েছি। বর্তমানে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যেতে যানজটে আটকা পড়ে ৩-৪ ঘন্টা সময় অতিবাহিত হয়। এ বিমানবন্দরটি চালু হলে ২০ মিনিটেই ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এ বিমানবন্দরকে চালু করতে ইতিমধ্যে একটি কোম্পানীকে কুমিল্লায় পাইলট ট্রেনিং স্কুল করার জন্য অনুমতি দিয়েছি। কুমিল্লার সাথে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলের জন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সাথে কথা বলেছি। এসব রুটে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস্ থেকে ২০ সিটের ছোট বিমান (পাইপারসাইন) চালুর বিষয়ে চিন্তাধারা সরকারের রয়েছে। এ বিমানবন্দরটি শীঘ্রই চালু করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিমানবন্দর। এখানে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করেছে। পরে অজ্ঞাত কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিমান বন্দরের সকল যন্ত্রপাতি থাকার পরেও কুমিল্লা বিমান বন্দর থেকে ৩৬ বছর ধরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ৭৭ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিমান বন্দর এখন আন্তর্জাতিক রুটের সিগনালিংয়ের কাজ করছে। এ বিমানবন্দর থেকে প্রতি মাসে এখন সিগনালিং বাবদ আয় করছে ২৫-৩০ লাখ টাকা। বিমান বন্দরে রয়েছে ৩০ জনের জনবল। এর মধ্যে ১৫ জন স্থায়ী এবং ১৫ জন দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করছেন। সম্প্রতি এ বিমান বন্দরে ৮ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এদিকে, বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত রানওয়েতে এখন প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেল চালনায় আগ্রহীরা প্রশিক্ষণ নেন। স্থানীয়রা জানান, বিমান বন্দরটি চালু হলে বিমান বন্দর সংলগ্ন কুমিল্লা ইপিজেডে আরো অনেক বিদেশী বিনিয়োগ আসতো, কর্মসংস্থান হতো বিপুল সংখ্যক মানুষের। কুমিল্লার অর্থনীতিতে যোগ হতো নতুন মাত্রা।
কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বলেন, শিল্পক্ষেত্রকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা অবশ্যই দরকার। বিমানবন্দর সংলগ্ন ইপিজেড-এ যেসব খালি প্লট রয়েছে এ বিমানবন্দরটি চালু হলে কুমিল্লা ইপিজেডে বিদেশী বিনিয়োগ আরো বেড়ে যাবে। বিমান চলাচল এখন সময়ের দাবি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মো. ওমর ফারুক বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধকে এগিয়ে নিতে কুমিল্লা বিমানবন্দর দ্রুত চালু হওয়া প্রয়োজন। এটি চালু হলে কুমিল্লার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এ বিমানবন্দরে পাইলট ট্রেনিং স্কুল চালু হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা খুব কমখরচেই প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে কুমিল্লা বিমান বন্দর চালু করা জরুরি। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকারও আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কুমিল্লা বিমান বন্দর চালু হয়। দীর্ঘদিন যাবত বিমান বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লা অনেক পিছিয়ে গেছে। এ বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে চালু হলে কুমিল্লায় বিনিয়োগসহ ব্যবসায় ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সূচীত হবে। কুমিল্লা ইপিজেডের জিএম আবদুস সোবহান জানান, বিমানবন্দর চালু হলে কুমিল্লা ইপিজেডে আরো বেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারী আসতো, কর্মসংস্থান হতো বিপুল সংখ্যক মানুষের। ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু বলেন, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে বিমান বন্দর চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কুমিল্লা বিমান বন্দর চালু হলে মুমূর্ষূ রোগীরা এয়ার এম্বুলেন্সের মাধ্যমে জরুরী সেবা পাবে। কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকট জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট থাকে। এজন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কুমিল্লা আসতে চায়না। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হলে ইপিজেডে বিনিয়োগের পাশাপাশি রোগীরা জরুরী সেবা পেতো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply