সাংবাদিকদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজশাহী

মোঃ মেহেদী হাসান, রাজশাহীঃ–
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বৃহত্তর রাজশাহীর সকল জেলা ও উপজেলায় ঘোষণা করা হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচির। এছাড়া আজ সোমবার মিছিল ও সমাবেশ করেছেন রাজশাহীর সাংবাদিকরা। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে বের হয়। পরে মনিচত্বর মোড় ঘুরে একই স্থানে গিয়ে  বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী সংবাদিক কল্যাণ তহবিলের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি স ম সাজু, সাধারণ আহসান হাবিব অপু, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। সমাবেশ থেকে আগামী কাল মঙ্গলবার রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও উপজেলায় সকাল ১১টায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। একই সঙ্গে অবিলম্বে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার, ক্ষতিপুরণ এবং রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নিবার্হী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, রাজশাহী ব্যবসায়ি ঐক্য পরিষদ নেতা সেকান্দার আলী, ফুটপাত ব্যবসায়ি ঐক্য পরিষদ নেতা আইয়ুব আলী তালুকদার প্রমুখ। রাজশাহী টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু জানান, বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বৃহত্তর রাজশাহীতে একযোগে ওই কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি। সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক হয়। এরপর এক দফা শেষের পর আরেক দফায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক চলছে। আলাদা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, রামেক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এসময় হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ওই সব বৈঠকে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি।  তবে  বৈঠক শেষে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকেই হাসপাতালে অঘোষিত কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ফলে দূর্ভোগে পড়েছেন শত শত রোগী। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ১০, ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন রোগী মারা গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে স্বাভাবিক দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তারা। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে বাকবিতন্ডায় জড়ালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের বেধড়ক পেটায়। খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে গেলে দফায় দফায় সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন চিকিৎসকরা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন তারেক মাহমুদ রাসেল, চ্যানেল ২৪ এর ক্যামেরাপারসন রায়হান, রিপোর্টার আবরার শাইর, দৈনিক সোনার দেশের ফটো সাংবাদিক সালাউদ্দিন, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মাসুদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন জাফর ইকবাল লিটন, এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন রুবেলসহ ১০ সাংবাদিক আহত হন। ওই সময় ভাংচুর করা হয় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের ক্যামেরা। এদিকে, রাতেই গুরুতর আহত যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন তারেক মাহমুদ রাসেলকে ঢাকায় নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালের আসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। রাসেলের মাথায় প্রচণ্ড জখমের চিহ্ন রয়েছে। আঘাত করা হয়েছে তার নাক ও পিঠেও। একদিন পর্যবেক্ষণে থাকার পর চিকিৎসার পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রাসেলের সঙ্গে থাকা যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহীর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সোহরাব হোসান জানান। অন্যদিকে, ওই সময় ঘটনাস্থলে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। পরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে রাতেই বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান ভুঁইয়াকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা উপস্থিত হয়ে আজ সোমবারের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়ায় বিক্ষোভ স্থাগিত করেন সাংবাদিকরা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply