কুবিতে ছাত্রলীগ নেতা সবুজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:–
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে সবার সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর দায়ে বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আমিন সবুজের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পেজে ছাত্রলীগ নেতার এমন ঘটনার নিন্দার ঝর উঠে। সবার একটাই দাবী সবুজকে আইনের আওয়তায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। দুই বছর আগে একই অভিযোগে ক্যাম্পাস থেকে বহিস্কার হওয়া সবুজ কি করে আবাসিক হলে থাকে এবং তার আধিপত্য বজায় রাখে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকারও সমালোচনা করেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। গতককাল সাধারণ শিক্ষার্থী ও একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা এসব কথা বলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাংলা বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ও প্রেমে ব্যার্থ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ একই বিভাগের এক ছাত্রীকে ছুড়িকাঘাত করে। এ ঘটনায় ওই ছাতওীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশে সবুজকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়। অন্যদিকে সবুজের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে একাধিকবার ক্যাম্পাসে আন্দোলন ডাকে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাস অচল থাকে দিনের পর দিন। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় ভূমিকায় মাঠে মারা যায় ছাত্রলীগের আন্দোলন। এদিকে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েও ক্যাম্পাস ছাড়েনি সবুজ। ছাত্রলীগের সহযোগীতায় আরো ব্যাপরোয়া হয়ে উঠে সে। বহাল তবিয়তে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে থেকে চালাতে থাকে একের পর এক অপকর্ম। ২০১২ সালের মার্চে সবুজ তৎকালীন বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মনিরুজ্জামানকে রামদা দিয়ে মারতে যায়। এসময় মনিরুজ্জামান প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে  কবি নজরুল ইসলাম হলে আশ্রয় নেয়। ক্যাম্পাস এলাকায় চাঁদাবজী এবং পর্যটকদের হয়রানীর মূল হোতা ছিল সবুজ। আজীবন বহিস্কার হওয়া সবুজ কেমন করে হলে ধাকে তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কখনোই কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত শনিবার সবুজ ঘটায় বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা। পরীক্ষার হলে ঢ়–কে সবার সামনে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী করে। তার আঘাতে ওই ছাত্রীর মুখে রক্তাক্ত হয়। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরীক্ষা স্থগিত করে আহত ছাত্রীকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রলীগ নেতার এমন ঘটনায় বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতারাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন সবুজের সাথে ছাত্রলেিগর কোন সম্পর্ক নেই। তবে ছাত্রলীগ নামধারী একটি গ্র“প সবুজকে ব্যাবহার করছে। একাধীক ছাত্রলীগ নেতা জানান, সবুজ যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দেয়া হোক যাতে পরবর্তীতে এ ঘটনার পূনরাবৃত্তি করতে কেউ সাহস না পায়।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুম জানান, সবুজ ক্যাম্পাসেরই ছাত্র না। সুতরাং তার সাথে ছাত্রলীগের দূরতম সম্পর্কও নেই। সে কেমন করে হলে থেকে এ ঘটনা করেছে আমরা প্রশাসনের কাছে এর জবাব চাই। যদি প্রশাসন এ ঘটনায় মামলা দায়ের না করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেও বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন এটা একটি পরিকল্পিত ঘটনা, এবং এ ঘটনায় কারা তাকে সাথে ছিল এবং অতি দ্রুত পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে তদন্তের মাধ্যমে আমরা তাদেরও বিচার চাই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, উপাচার্য এবং প্রক্টোরিয়াল বডির সাথে  বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply