লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ২৮টি গ্রামের সাড়ে ৯ হাজার মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:–
কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ২৮টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৯ হাজার লোক আর্সেনিক বিষে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আর্সেনিক নামের মহাদূযোর্গে আক্রান্ত রোগীদের মাঝে গবেষনা ও রোগ প্রতিরোধে সরকারি- বেসরকারী এনজিও ও বিদেশী আর্থিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, আমেরিকার সিকাগো ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আর্সেনিক গবেষনা প্রকল্প বাংলাদেশে ২০০৭ সালের মে মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ব্র্যাক ও ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ একাধিক দাতাসংস্থার মাধ্যমে লাকসাম- মনোহরগঞ্জে আর্সেনিক মুক্তকরণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে।ওইসময় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় শতাধিক লোককে আর্সেনিক রোগী হিসাবে চিহ্নিত করে ।
বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ভিশন এ দুই উপজেলায় ২৬ হাজার লোক নিয়ে গবেষনা ও আর্সেনিকমুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করে। এ পর্যন্ত লাকসাম উপজেলায় সাড়ে ৫ হাজার ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার লোককে আর্সেনিক আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত  করেন।
এনজিও সূত্রে জানা যায়, লাকসাম পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১১৭টি গ্রামের প্রায় ৮ ভাগ মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত। বিশেষ করে লাকসাম উপজেলা সদর, ভাকড্ডা, কামড্ডা, পাশাপুর, বামন্ডা, শিংজোড়, সালেহপুর, কান্দিরপাড়, আউশপাড়া, গোবিন্দপুর, মোহাম্মদপুর, আতাকরা, ডুমুরিয়া ও পৌর এলাকার পশ্চিমগাঁও, গাজীমুড়া, ফতেপুর গ্রাম এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভোগই, দাঁড়াচৌ, বাকরা, লক্ষনপুর, ভাউপুর, হাটিরপাড়, খানাতুয়া, মৈশাতুয়া, তাহেরপুর, দিশাবন্দ, চিকোটিয়া, বড়কেশতলা ও রাজাপুর গ্রামে আর্সেনিক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আর্সেনিক রোগীর মাঝে গবেষনা ও রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন বেসরকারী আর্থিক সংস্থা প্রায় দেড় হাজার সনোফিল্ডার এবং বিপুল পরিমান ঔষধ বিতরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতায় সভা সেমিনার মাধ্যমে এ রোগের প্রতিকারের বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আইসিডি. ডিআরবি. র্ভাটমাউন্ট, মেডিকেল স্কুল এ গবেষনা কার্যক্রমের সাথে জড়িত এবং ইউনিসেফ ও ভিপিএইচইর সহায়তায় আর্সেনিক গবেষনা কাজে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সহযোগিতার কথা থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এদের কোন কার্যক্রম চোখে পড়ার মত নয় ।
লাকসাম এডিবি ওয়ার্ল্ড ভিশন সূত্র জানায়, এ অঞ্চলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে আর্সেনিক মহাদূযোর্গ হিসেবে দেখা দিবে। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ প্রায় ৯৮ ভাগ টিউবওয়েল আর্সেনিকযুক্ত হলেও ৫৬ ভাগ টিউবওয়েল মল যুক্তে আক্রান্ত। এ সংস্থাটি ৩ বছর মেয়াদে আর্সেনিক মুক্ত ৯টি টিউবওয়েল স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে এর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩১টিতে। প্রতিটি টিউবওয়েল থেকে আর্সেনিক মুক্ত বিশূদ্ধ পানির সুবিধা ভোগ করছে প্রায় ১২০-১৫০ জন মানুষ।
অন্যদিকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব অতি মুখ্য হলেও এ মহাদূর্যোগ আর্সেনিকের ভয়াবহতায় রোধে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply