কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ইনসাফ হোটেলে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট: থানায় মামলা

 কুমিল্লা প্রতিনিধি :–

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড হাজারী পাম্প সংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় অবস্থিত ইনসাফ হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ইনসাফ হোটেলের মালিক মো: নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৫/১৫০। তারিখ ০৮/০৪/১৪ইং। মামলার বিরবণ সূত্রে জানাযায়, হোটেলের মালিক বিগত আড়াই বছর পূর্বে তার শাশুড়ী হাজী জাহানারা বেগম এর নিকট হইতে ইনসাফ হোটেল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। শনিবার দুপুরে দিশাবন্দ এলাকার বাদশার নাতি সোহাগ মিয়া, মোসলেম, আবুল বাশার, সাদ্দাম মিয়ার নেতৃত্বে কাউছার, হুমায়ন কবির, আলমগীর হোসেন, সাইফুল ইসলাম সহ ১০/১২ জনের একটি দল হোটেলের ভিতরে ঢুকে মাদক সেবন সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হলে হোটেলের মালিক তাদের বাঁধা প্রদান করিলে তারা উত্তেজিত হইয়া ওই স্থানে তাকে ব্যবসা করতে দিবেনা বলে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এর কিছুক্ষন পর সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হাতে লাঠি সোটা, লোহার রড ও অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ৫/৬টি মোটর সাইকেল যোগে হোটেলে আসিয়া হোটেলের মালিকের নাম উচ্চারণ করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করলে হোটেলের মালিক প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে  গলাচিপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় দিশাবন্দ গ্রামের বাদশার নাতি সোহাগ মিয়া হোটেলের ক্যাশ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং মোসলেম একটি নকিয়া মোবাইল সেট জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। হোটেলে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল কুপিয়ে এবং ভেঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। ওই সময় সাদ্দাম মিয়া, কাউছার, ও হুমায়ুন কবিরের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হোটেল মালিক নুরুল ইসলামকে বুকে, পিঠে, মাথায় ও পায়ে পিটিয়ে মারাÍক জখম করে।  হোটেলে থাকা পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্রিজ সহ অন্যান্য মালামাল লুটপাট করে পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে যায়। হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের শোর চিৎকার শুনিয়া আশপাশের লোকজন সহ তাদের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌছলে সন্ত্রাসীরা মামলার দুই নং স্বাক্ষী মো: জিল্লুর রহমানের প্রাইভেটকার (কুমিল্লা-গ ১১-০০৩২) পিটিয়ে ভেঙ্গে ওই স্থান ত্যাগ করে। পরে হোটেলের মালিক নুরুল ইসলামকে তার স্বজনেরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হোটেলের মালিক বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার আসামীরা হলো- দিশাবন্দ গ্রামের অলী আহমেদ এর ছেলে ও বাদশার নাতি মো: সোহাগ মিয়া, আব্দুস সোবহানের ছেলে মো: মোসলেম, আবুল বাশার(২৪), সাদ্দাম মিয়া(২২), কাউছার(২২), হুমায়ুন কবির(৪২), আলমগীর হোসেন(৩২), মো: সাইফুল আলম সহ অজ্ঞাত নামা ১০/১২জন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply