ভারত-শ্রীলঙ্কার ফাইনালের অপেক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক :–

২০০৭ সালের পরে যখন আরেকটি ফাইনাল, তখন প্রথম ফাইনালের আগেরদিনের স্মৃতিচারণ করার অনুরোধ গেল। কিন্তু ধোনি রীতিমতো নিরাশ করলেন, ‘চার দিন আগের কথাই মনে রাখা মুশকিল। আর আপনারা কিনা বলছেন সাত বছর আগের কথা! ২০০৭ ফাইনালের আগেরদিনের অনুভূতির কথা মনে করা তাই সত্যিই খুব কঠিন।’ ভুল কিছূ বলেছেন বলেও দাবি করার সুযোগ নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের সন্ধ্যা সাতটার বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ফাইনালে তাই বর্তমান নিয়েই ভাবছেন ধোনি। সাফল্যের ফুলে বিতর্কের জ্বালামুখ বন্ধ করার খ্যাতিও আছে তার নেতৃত্বাধীন দলের। খুব কাছের উদাহরণ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। এর আগে একের পর এক হারে সমালোচনায় রীতিমতো চিড়ে-চ্যাপ্টা হওয়ার মতোই অবস্থা হয়েছিল ভারতীয় দলের।

এই দলের সিংহভাগ সদস্য ছিলেন ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলেও। বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা সফল সেই অভিযানের একেকজন দক্ষ সেনানী। তুলনায় লঙ্কান শিবিরে এমন কেউ নেই যার বিশ্ব আসরের শিরোপায় হাত রাখার সৌভাগ্য হয়েছে। অধিনায়ক মালিঙ্গা অনেকটা নির্ভার হয়েই নেতৃত্ব দিতে পারেন। কারণ তার ওপর ছায়া হয়ে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও তিলকরতে দিলশানের মতো সাবেক অধিনায়করা। আছেন টেস্ট এবং ওয়ানডে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজও।

দলে রীতিমতো পারফরমারের ভিড়। কিন্তু একটা জায়গায় লঙ্কানরা দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই। আসল সময়ে ঝলসে উঠতে না পারার জন্য প্রোটিয়াদের ‘চোকার্স’ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু শ্রীলঙ্কাও তো কম কিছু নয়। গত সাত বছরে তারাও তো চারটি বিশ্ব আসরের ফাইনাল খেলেছে। ২০০৭ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং টি-টোয়েন্টির ফাইনালে খেলেছে ২০০৯ ও ২০১২ সালে। একবারও শিরোপার নাগাল না পাওয়া লঙ্কানরা যখন পঞ্চম ফাইনালে খেলতে চলেছে, তখন ভারত একই সময়ে তিনবার ফাইনাল খেলে হারেনি একবারও। ২০১১-র ফাইনালে এই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই ২৮ বছর পর পুনরুদ্ধার করেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপাও।

এই যখন অবস্থা, তখন ট্রফি হাতে পোজ দিলেন ধোনি ও মালিঙ্গা। এর আগে বাকি ১৪ দলের অধিনায়কও এই ট্রফি নিয়ে ছবি তুলেছেন। আজকের ফাইনালের পর এ ট্রফি ছোঁবেন শুধু একজন। বিজয়ী দলের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে আজ একটি দলের ফটোশুটও করা হবে না নিশ্চিত। তবে এ ফাইনালকে ঘিরে দু’দলের বাইরেও উত্তেজনার শেষ নেই কোন। ফাইনাল দেখার জন্য আজ সকালেই ঢাকায় প্রচুর শ্রীলঙ্কান এসে নেমেছেন। এরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালকও, ‘শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকে প্রচুর লোক আসছে। তারা টিকিটের চাহিদাও দিয়ে রেখেছে। একারণেই যে পরিমাণ টিকিট পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছি না।’

কালোবাজারেও চড়ামূলে দেদার বিকোচ্ছে টিকিট। জমজমাট ফাইনাল দেখার প্রত্যাশায় যখন কাঁপছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব, তখন আশাবাদী করে তুলছেন ধোনিও, ‘এটা বলতে পারি যে দু’দলই খুব রোমাঞ্চিত। আশা করছি খুব রোমাঞ্চকর একটা ফাইনালই হবে।’ আর এ ফাইনালের মধ্য দিয়েই দুই জীবন্ত কিংবদন্তী মাহেলা ও সাঙ্গাকারাকে আন্তর্জাতিক টি- টোয়েন্টি থেকে বিদায় দিচ্ছে লঙ্কানরা। এই সময়ে বিশেষ একটা উপহার দেয়ার চিন্তাও লঙ্কানদের তাড়না বাড়িয়ে দিচ্ছে আরো।

Check Also

কুমিল্লার বিপক্ষে ১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক :– বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে রাজশাহী কিংসকে ১৫৩ রানের টার্গেট দিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ...

Leave a Reply