কুমেক হাসপাতালের আবাসিক ভবন থেকে ডাক্তারের লাশ উদ্ধার : থানায় হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি :–

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক ভবন থেকে মো. হাসিবুল হক হাসান নামে এক ডাক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। ডা. হাসিব কুমেক হাসপাতালের বহি:বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। লাশটি যে কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই কক্ষের দরজা বাইরের দিক থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। তাই ওই ডাক্তারের মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে হাসপাতালের পরিচালক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা যায়, পাবনা জেলার সদর হাসপাতাল সড়কের শালঘড়িয়া গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের পুত্র ডা. মো. হাসিবুল হক হাসান (৩৬) ঢাকা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে ২০১২ সালের ১৩ জুন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহি:বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার পদে যোগদান করেন। তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে পরিচালকের সরকারি বাসভবন সংলগ্ন হাসপাতালের মেঘনা নামক ৪র্থ তলা আবাসিক ভবনের (ডরমেটরী) নীচতলার একটি বাসায় বসবাস করতেন। গত বুধবার বিকালে তিনি কর্মস্থল থেকে ওই বাসায় যান। হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিব আবদুল্লাহ সোহেল জানান, আবাসিক ওই ভবনে আরও ৩ ডাক্তারসহ ৪ জন ডাক্তার থাকেন। গত বৃহস্পতিবার বিকালে অপর ৩ জন ডাক্তার বাড়ি চলে যান। শনিবার সকালে ওই ডাক্তাররা তাদের বাসায় ফিরে দুর্গন্ধ পায়। বিষয়টি তাকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ডা. হাসিবের বাসার নিজ বেড থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। লাশটি ডি-কম্পোজড (গলিত) হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ এ মুহুর্তে বলতে পারছি না। তবে একাধিক সূত্র জানায়, ডা. হাসিবের এ মৃত্যু রহস্যজনক। ওই আবাসিক ভবনের অপর ৩ ডাক্তার বৃহস্পতিবার বাড়ি চলে গেলেও ডা. হাসিব বৃহস্পতিবার তার কর্মস্থলেও যাননি, কিংবা তিনি কোথায় ছিলেন তাও কারো জানা নেই। অপরদিকে ডা. হাসিবকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিব আবদুল্লাহ সোহেল সাম্প্রতিক সময়ে তিন-চারবার শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে পরিচালক শোকজের কারণ সাংবাদিকদের না জানালেও মৃত ওই ডা. হাসিবের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সামছুজ্জামান জানান, লাশটি যে বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাসার দরজা বাইরের দিক থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। লাশের সুরতহাল লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিব আবদুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে ডা. হাসিবের লাশ তার পিতা আবদুল হামিদসহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডা. হাসিবের পিতা মো. আবদুল হামিদ জানান, তার ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে। এদের মধ্যে ডা. হাসিব দ্বিতীয়। বর্তমানে তিনি পারিবারিকভাবে ঢাকার ৫৬-সবুজবাগ এলাকায় বসবাস করেন। এদিকে বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার কোন রহস্য বের করতে পারেনি। সুরক্ষিত আবাসিক এলাকায় ডাক্তারের অস্বাভাবিক এ মৃত্যুও ঘটনায় আশপাশের ডাক্তার ও তাদের স্বজনদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় কুমেক হাসপাতালের ডাক্তার, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সেখানে ভীড় জমায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply