বিদ্যালয়ে যাওয়া হলো না তুহিনের

লাকসাম(কুমিল্লা) প্রতিনিধি:–

বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া হলো না স্কুল ছাত্র তুহিনের। রেল লাইনের ওপর পড়ে ছিল নিথর দেহ। পাশে পড়ে রয়েছে বই-খাতা,সেন্ডেল। একটু অদূরে তার সাইকেলটিও রয়েছে। রক্তে ভিজে গেছে বই-খাতা। গতকাল শনিবার সকালে লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে একটি ডেমু ট্রেনটি কেড়ে নিল তানিমুল আহমেদ তুহিনের প্রাণ।
তুহিন লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি পৌর শহরের নশরতপুর গ্রামে। তার বাবা মতিউর রহমান লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের একজন ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকাল ৮.১৫ মিনিটের সময় লাকসাম থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী ওই ডেমু ট্রেনটি দৌলতগঞ্জ বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের প্রায় ৪০০ ফুট উত্তরে বালু ভর্তি একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘন্টা পর ট্রেনটি পুনরায় লাকসাম জংশন ফেরার পথে সকাল পৌনে দশটার দিকে পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ওই স্কুল ছাত্র নিহত হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা এবং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধের মাধ্যমে ট্রেনটি আটক করে। এ সময় ট্রেনের চালক পালিয়ে যায়। পরে লাকসাম ও রেলওয়ে থানা পুলিশ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দিলে বিক্ষুদ্ধ লোকজন ও শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

এদিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ওই ছাত্রের লাশ একটি ভ্যানে করে এনে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে রাখলে শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমায়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।

ওই দিন বেলা ১১টায় নিহত ওই ছাত্রের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ছেলের মৃত্যুর শোকে তার মা নাছরিন বেগম বুক চাপড়িয়ে বিলাপ করছে। বাবা মতিউর রহমান অনেকটা বাকরুদ্ধ। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো. শাহজাহান কবির জানান, পনের-বিশ মিনিট আগে যে ছেলেটি কোচিং শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি গেছে এবং দশটায় পুনরায় ক্লাশে আসার কথা। ঠিক কিছুক্ষণ পর সহপাঠিরা একটি ভ্যানে করে তার লাশ নিয়ে আসবে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে। এটি ভাবতেই পারছিনা। এ কথা বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
ওই দিন বিকেল পাঁচটায় জানাযা অনুষ্ঠান শেষে ওই ছাত্রের মরদেহ পৌর শহরের নশরতপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাষ্টার (এসএম) মো. দিদার হোসেন জানান, ট্রেন-ট্রাক্টরের সংঘর্ষে ডেমু ট্রেনের চারটি দরজা ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, এই ব্যাপারে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান হাবিব জানান, এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বালু ভর্তি ট্রাক্টরটি আটক এবং ট্রাক্টরের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে এবং স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply