ভারত ফাইনালে

ঢাকা:–
ভারতীয় স্পিনারদের দাপটে কেঁপেছে সবাই। সেই স্পিনারদের উল্টো কাঁপিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা গড়েছিল ৪ উইকেটে ১৭২ রানের পাহাড়। কিন্তু তারা যে চিরকালের ‘চোকার’। তাই বিশ্ব টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে কেউ ১৭২ রান করে না হারলেও বিরাট কোহলির ফিফটিতে ভারতের কাছে তারা হেরে গেল ৮ উইকেটে। বড় ম্যাচের খেলোয়াড় কোহলির ৪৪ বলে ৭২ রানের ইনিংসেই ১৭২ রানের পাহাড় ৫ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় ভারত। এজন্য ‘বিশ্বকাপ’ ও ‘সেমিফাইনাল’ দুঃস্বপ্নই হয়ে রইল চোকারদের। ৬ এপ্রিলের ফাইনালে এখন খেলবে ভারত-শ্রীলঙ্কা।

বিশ্ব টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৭২ কিংবা তার বেশি রান করে ম্যাচ হারেনি কোনো দল। কিন্তু ওই যে, ঘর পুড়লে সিঁদুরে মেঘেও যে বড্ড ভয়। সেই ভয়েই শুরু থেকে বোলরার বল করছিল ভুল লাইনে। তাই পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ভারত করেছিল ৫৬ রান। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে দুই ওপেনার হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল  ৪৪ রান।  ১০ ওভার শেষে ২ উইকেট  হারিয়ে ভারত করেছিল ৮০ রান। ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৬৬। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩তম ওভারে পেরিয়েছিল ১০০। ভারত ১০০ ছুঁয়ে ফেলে ১২.৩ ওভারে। বুঝতেই পারছেন শুরু থেকেই ভারত ছিল এগিয়ে।

জয়ের জন্য শেষ ৪২ বলে ভারতকে করতে হতো ৬৯ রান,হাতে তখনও ৮ উইকেট। বিরাট কোহলির ফিফটিতে শেষ ২৪ বলে সেটা কমে আসে ৪০-এ। যুবরাজ অবশ্য ফিরে গিয়েছিলেন ততক্ষণে। তারপরও হাতে ৭ উইকেট। লক্ষ্যটা আর যাই হোক পাহাড় ছিল না। কোহলি তো ছিলেনই। এই টুর্নামেন্টেই এ নিয়ে তৃতীয় ফিফটি করলেন দূরন্ত ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গে যোগ হন সুরেশ রায়না। পারনেলের এক ওভারে ১৭ রান নিয়ে শেষ ১৮ বলে লক্ষ্যটা ২৩-এ নামিয়ে আনেন রায়না। রায়না ১০ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংসের পর হেনরিকসের বলে ফিরলেও বাকিটা হয়ে পড়ে আনুষ্ঠানিকতা।

১৭৩ রানের লক্ষ্যে ৪ ওভারের আগেই গড়েছিলেন ৩৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ২৪ করা রোহিত শর্মাকে দু’প্লেসিসের ক্যাচ বানিয়ে জুটিটা ভাঙ্গেন হেনরিকস। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি গড়েন রাহানে ও কোহলি। ৩০ বলে ৩২ করা রাহানেকে ডি ভিলিয়ার্সের ক্যাচ বানিয়ে জুটিটা ভাঙ্গেন পারনেল। যুবরাজকে নিয়ে কোহলি ভারতকে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রায় জয়ের কিনারায়। কিন্তু জয় থেকে ৪০ রান দূরে থাকতে ১৭ বলে ১৮ করা যুবরাজ সিং ফিরেন ইমরান তাহিরের বলে ডি ভিলিয়ার্সের ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হয়ে।

এর আগে ভূবনেশ্বর কুমারের বলে প্রথম ওভারেই ধোনিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছিলেন ৬ রান করা ডি কক। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের লড়াইটা মূলত ভারতীয় স্পিনারদের সাথে। অশ্বিন প্রথম ওভারেই আমলাকে বোল্ড করে বুঝিয়েছেন স্পিনারদের সামলানোটা সহজ হবে না তাদের। ১৬ বলে ২২ করেছিলেন আমলা। কিন্তু এরপর স্পিনারদের ভালোভাবেই সামলান অধিনায়ক দু’প্লেসিস ও জেপি দুমিনি। ১০ ওভারে তাদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৬৬। উইকেট না হারানোয় এরপর ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হন দুজন। অধিনায়ক দুপ্লেসিসের ফিফটিতে ১৩তম ওভারেই ১০০ পেরিয়ে গেছে তারা। দুপ্লেসিস ক্যারিয়ারের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করে ৫৮ রানে অশ্বিনের বলে বোল্ড হন । এরপর ১৫তম ওভার শেষে ৩ উইকেটে স্কোরটা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭। ভয়ংকর ডি ভিলিয়ার্স চড়াও হলে স্কোরটা বাড়তে পারত আরও। তবে ৮ বলে ১০ করেই অশ্বিনের বলে রোহিতকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। দুমিনি করেন ৪০ বলে ৪৫। মিলার করেন ২৩।অশ্বিন ২২ রানে নেন ৩ উইকেট। প্রথম দুই ম্যাচের সেরা খেলায়াড় অমিত মিশ্র ৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে দেখা পাননি উইকেটের।

আগের দিন শিলাবৃষ্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বৃষ্টি আইনে হেরে যাওয়াতেই পরে ব্যাট করার ঝুঁকি নিল না প্রোটিয়ারা। বৃষ্টি অনেকবারই কাঁদিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এমনকি আজ বৃষ্টিতে খেলা না হলে ফাইনালে যাবে ভারত,এমন একটা অঙ্কও ছিল! তবে এ পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ম্যাচ জিতেই ফাইনালে যেতে মুখিয়ে আছে প্রোটিয়ারা।

Check Also

শেষ ষোলোতে চোখ ফ্রান্সের

  রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ সি’র লড়াইয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ পেরুর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।ইয়েবাতেরিনবার্গের অ্যারেনায়া ...

Leave a Reply