আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যামু——-নেছা বিবি

নিজস্ব প্রতিনিধি :–

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা মারুকা ইউনিয়নের কাটারাপাড়া গ্রামের নেছা বিবি (৯৪) বয়স্কভাতার জন্য এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এখন বড়ই ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্বামীহারা এই বিধবা নারীর আপন বলতে কেউ নেই। স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই খেয়ে না খেয়ে চলে তার জীবন। তার চেয়ে অনেক কম বয়সী নারীরাও বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু তার বেলায় এই দ্বৈতনীতি এলাকাবাসীকে বড়ই হতবাক করেছে।
এ ব্যাপারে নেছা বিবি বলেন,‘ ভোডার কার্ডে আমার বয়স ৯৪ হইলেও আমার বয়স আরো বেশি। আমি কেরে বয়স্কভাতা পাইতাম না? এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান ও দরবাইরাগ কাছে গেলে তারা আমারে পাত্তা দেয় না। আমি কি এই দেশের মানুষ না? আমার কি কোন অধিকার নাই। ভোটের সময় ভোট দেয়নের লাইগা হগলতে আইয়ে, আমারে নিয়া টানাটানি করে। আমিও তাগো কতা মত ভোট দেই। এখন তারা কেউ আমারে চিনে না। আল্লায় তাগো বিচার করবো। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যামু, কতা কমু তার লগে। দেহি মন্ত্রী কি হয়। আমাগো মন্ত্রীও তো একজন মাইয়া লোক, আমার লাইগা কি তার কোন দয়া মায়া হইতো না?
এব্যাপারে কাটারাপাড়ার সমাজসেবক কাজী মোস্তফা কামাল বলেন,‘ নেছা বিবির বয়স ৯৪ বছর। তারপরও কেনো তিনি বয়স্কভাতা পাবেন না? এর অনেক কম বয়সী লোকেরাও বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। তাহলে কি আমরা বলবো, দুর্নীতির কালো ছায়ায় ঢেকে গেছে নেছা বিবির প্রাপ্য বয়স্ক ভাতা? তিনি আর কত বয়স হলে কিংবা মারা গেলে কি মিলবে তার এই প্রাপ্য বয়স্ক ভাতা?

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply