মুরাদনগরে একটি ব্রীজের অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর (কুমিল্লা) :–
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নে উত্তর পেন্নই গ্রামে একটি ব্রীজের অভাবে কয়েক হাজার মানুষ ভাগ্য পাল্টাতে পারছে না। বর্তমানে উক্ত ব্রীজের স্থলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। প্রতিদিন এ ভাবেই পারাপার হচ্ছে স্কুল, কলেজ মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ। পার করতে হচ্ছে বাইসাইকেল ও মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজার। ওই বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রাম। এখানে রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী দাখিল মাদরাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কালিসীমার খালে ব্রীজ নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী। ব্রীজটি নির্মিত হলে পাল্টে যাবে শ্রীকাইল, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নবাসীসহ এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য। বাড়বে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার।
এলাকাবাসীরা জানায়, চুলুরিয়া, কুরুন্ডি, উত্তর পেন্নই, রোয়াচালা ও বরিয়াচরাসহ আশ-পাশের প্রায় ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয় এবং রামচন্দ্রপুর বাজারে আসে। তাছাড়া স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় পড়–য়া ছেলে-মেয়ে ও অসুস্থ্য রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি অচিরেই সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ এ দিকে নজর দিবে। ব্রীজ সংলগ্ন মোস্তফা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানায়, উত্তর পেন্নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেকেই এই ব্রীজ দিয়ে পারাপারের সময় প্রতি নিয়তই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া জানান, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে কালিসীমরি খালে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য বেশ কয়েকবার উপজেলা প্রকৗশলীর নিকট আবেদন করেও পুরণ হয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, এ অঞ্চলের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী রামচন্দ্রপুর ও শ্রীকাইল কলেজ, রামচন্দ্রপুর ও চন্দ্রনাইল হাইস্কুল ও সোনাকান্দা ও উত্তর পেন্নই মাদরাসাসহ হাজার হাজার মানুষ রামচন্দ্রপুর বাজারে হাট করতে আসে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে প্রতি বছরই এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে ও সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়ে থাকে।
উত্তর পেন্নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুবায়ের আহমেদ ও পাশের গ্রামের সফিকুল ইসলাম মাস্টার জানান, কালিসীমার খালে ব্রীজ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পোহাতে হয় এ এলাকার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের। কারণ বাধ্য হয়ে তারা প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ এলাকায় কোন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ নেই। তাই বাধ্য হয়ে খালের ওপাড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখা-পড়া করতে হয়। বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষ, পা ফসকে বই-খাতা পড়ে যায় খালে, অনেকে আহত হয়ে ভয়ে লেখা-পড়া বন্ধ করে দিয়েছে।
শ্রীকাইল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বেগ জানান, জরুরী ভিত্তিতে উক্ত ব্রীজ করার জন্য স্থানীয় এমপিকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী সহসাই ব্রীজটি নির্মাণ করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply