মুরাদনগরে দুই জোটের ভোট যুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি:–
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে পুরো উপজেলা এখন উৎসব মুখর। চলছে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণা। উভয় জোট থেকে প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ থাকলেও শেষ মুহর্তে এসে প্রার্থী তালিকায় এসেছে নাটকীয় অনেক পরিবর্তন। শুরুতে চেয়ারম্যান পদে দলের একক প্রার্থী নিয়ে বিএনপি-আ’লীগে মতবিরোধ থাকলেও দলীয় সমঝোতায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ গ্যাস সমৃদ্ধ উপজেলা খ্যাত এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২২ ইউনিয়নে ১৩০ ভোট কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২ জন। এ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে দলীয় সমঝোতায় প্রার্থী হিসেবে মূল প্রতিন্দিতায় রয়েছেন মহাজোটের সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের উপদেষ্টা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু (হেলিকপ্টার), ভাইস চেয়ারম্যান পদে একই জোটের রফিকুল ইসলাম সরকার (টিয়া) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে  সানোয়ারা বেগম লোনা (হাসঁ)। ১৯ দলীয় জোট থেকে কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া সরকার (কাপ-পিরিচ), একই জোট থেকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াতের  ইউছুফ হাকিম সোহেল  (মাইক) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে  কাজী তাহমিনা আক্তার (প্রজাপতি)। তবে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদেও মধ্যে নাটকীয় সমঝোতা হওয়ায় এখন শুধু কাগজে কলমে উভয় জোট ও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ নেতা হাজী আ.ক.ম গিয়াস উদ্দিন (দোয়াত কলম),বিএনপি অষ্ট্রেলিয়া শাখার সাবেক সভাপতি ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল হক জজ মিয়া (টুপি), বাঙ্গরা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন অঞ্জন (ঘোড়া), উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মিনাজুল হক মিনহাজ (টেলিফোন) ও আল মামুন ( আনারস), স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাক আহম্মেদ মাসুদ (মোটর সাইকেল)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি জাকির হোসেন (তালা), মোরশেদ খান (টিউবওয়েল), মো. এনামুল আলম (উড়োজাঁহাজ),মো.খলিলুর রহমান (চশমা), মোহাম্মদ আলম (জাহাজ), আব্দুল মতিন (বই) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুলেখা খাতুন (কলস)। জোটগত সিদ্ধান্তের কারনে এসব প্রার্থীরা মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা নেই। মাঠে পোষ্টার কিন্তু জোটগতভাবে একক প্রার্থী দেয়ার কারনে এসব প্রার্থীদের মাঠে প্রচারণা নেই। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর এসব প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা অনেকটা পোষ্টারেই সীমাবদ্ধ। এদিকে মনোনয়নপত্র দাখিলের পরও দলীয় প্রার্থী নিয়ে টানাপড়েন থাকায় দফায় দফায় অনুষ্ঠিত মুরাদনগর আ’লীগের ইউছুফ  হারুন বনাম জাহাঙ্গীর সরকারের গ্রুপের বৈঠকে নাটকীয় সমঝোতার বর্তমান সাংসদ ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং জেলা আ’লীগের সমাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের উপস্থিতিতেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট শিল্পপতি সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরুকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়া হয়। এ উপজেলায় আ’লীগে বিরাজমান কোন্দল নিরসনে একক প্রার্থী  সমর্থন দেয়ায় দলের তৃণমুলের নেতাকর্মীরা কাইয়ুম খসরুকে বিজয়ী করতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে। অপরদিকে ১৯ দলের সমর্থিত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া সরকারকে বিজয়ী করতে বিএনপি-জামায়াতসহ জোটের অন্যান্য শরীক দল গুলি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে জানাগেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply