নাঙ্গলকোটের গোহারুয়া হাসপাতালটি এখন গো-চারন ভূমি

মোঃ আলাউদ্দিন, নাঙ্গলকোট(কুমিল্লা):–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার গোহারুয়া গ্রামে ২০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করার পর ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো চালু করা হয়নি। ফলে নাঙ্গলকোট, সোনাইমুড়ী, মনোহরগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সু-চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা অধ্যুষিত ওই অঞ্চলের মানুষ যুগ যুগ ধরে হাতুড়ে ডাক্তার আর কবিরাজী চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। অবহেলিত এই গ্রামীন জনগোষ্ঠীকে সু-চিকিৎসা দিতে ৪টি উপজেলার সংযোগস্থল গোহারুয়া নামক স্থানে গত জোট সরকারের আমলে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ মোশারফ হোসেন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির নির্মান কাজ শুরু করে। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এ হাসপাতালটি নির্মান করে। ২০০৬ সালের ২৪শে অক্টোবর সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমান উল্যা আমান ও স্থানীয় এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন কালে হাসপাতালটি চালু দেখানো হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে হাসপাতালটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঐ অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দরিদ্র অসহায় মানুষ লাকসাম, কুমিল¬া, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অধিক টাকা ব্যয় এবং সময় নষ্ট করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল এলাকাটি গরু-ছাগল বেধে রেখেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। হাসপাতাল ভবন ও আবাসিক ভবন গুলোতে আগাছা জম্মিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রয়োজনীয় জনবলের ব্যবস্থা না করে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় হাসপাতালের অনেক যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র চুরি হয়ে গেছে। তাই প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব ও বিভিন্ন সমস্যার কারনে হাসপাতালটি কোন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না। এখন সকল সমস্যা সমাধান করে হাসপালটি চালু করা হলে মানুষের দূর্ভোগ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লেয়াকত আলী জানান, আমরা বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বত্মন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি অচিরেই হাসাপাতালটির স্বাস্থ্য সেবা পুনঃরায় চালু হবে।
এমতাবস্থায় হাসপাতালটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরী হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন নাঙ্গলকোট, সোনাইমুড়ী, মনোহরগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলাবাসী।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply