দেবিদ্বারে নলকূপের ৭০ ফুট গভীরে গৃহবধূর লাশের সন্ধান মিলেছে

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :–
কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্বামীর ভাড়াটিয়াদের হাতে চাঞ্চল্যকর শাহিনা হত্যা মিশনে অংশ নেয় ৩ খুনী। তাকে হত্যা করতে স্বামী মোবারক হোসেনের দেয়া ১লাখ টাকা ভাড়াটিয়া ৩ খুনী ভাগাভাগি করে নেয়। প্রেমের অভিনয় করে ঘর থেকে বের করে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গৃহবধু শাহিনাকে ৮০ ফুট গভীর নলকূপে নিক্ষেপ করে ঘাতকরা। আদালতে চাঞ্চল্যকর এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে প্রধান ঘাতক আব্দুল করিম। এদিকে দেবিদ্বার থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান রবিবার বিকেলে জানান, ৭০ ফুট গভীরে নলকূপের ভিতরে গৃহবধু শাহিনার লাশের সন্ধান পেয়েছে উদ্ধারকারী দল।
পুলিশ জানায়, গভীর এ নলকূপের পাইপ উত্তোলনের জন্য যেসব ভারী মেশিনারীজ ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তা কুমিল্লা শহর এনে শনিবার থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়। গতকাল রবিবার ভোর থেকে খনন ও পাইপ উত্তোলনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়। গতকাল রবিবার বিকালে দেবিদ্বার থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, নলকূপের ৭০ ফুট গভীরে শাহিনার লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে লাশ উপরে তুলে আনতে আরো দুদিন সময় লাগতে পারে। এদিকে গ্রেফতারকৃত ঘাতক আবদুল করিম পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘাতক আবদুল করিম তার জবানবন্দিতে জানিয়েছে, স্বামী মোবারকের পরামর্শে সে ও আরো ২ ঘাতক শাহিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক আব্দুল করিমের পার্শ¦বর্তী বাড়ির গৃহবধু শাহিনার সাথে সে প্রেমের অভিনয় করে। একপর্যায়ে তাকে রাতে বাড়ি থেকে বের করে ঘাতকরা গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেবিদ্বারের ধামতী ওরশে নিয়ে যায়। গভীর রাতে ওরশ থেকে ফিরে বাড়ির পাশে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আব্দুল করিমসহ ওই ঘাতকরা তাকে মাথা নিচে ও পা উপরে রেখে ৮০ ফুট গভীর নলকুপে নিক্ষেপ করে। পরে নলকূপের মুখ মাটি চাপা দেয়। তাকে হত্যার জন্য স্বামী মোবারক হোসেন দুবাই থেকে কুমিল্লার মুরাদনগরে জসিম উদ্দিন নামে তার এক বন্ধুর ব্যাংক একাউন্টে ১লাখ টাকা প্রেরণ করে। প্রধান ঘাতক আবদুল করিম ওই টাকা উত্তোলনের পর শাহিনাকে হত্যা করে সে নিজে ৪০ হাজার টাকা ও অপর দুই ঘাতককে ৩০ হাজার টাকা করে ভাগ করে দেয়। চুক্তি মোতাবেক অবশিষ্ট ১ লাখ টাকা বুঝে পাওয়ার আগে সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের স্বার্থে অপর দুই ঘাতকের নাম-পরিচয় গোপন রেখেছে। এদিকে ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম দেখতে রবিবারও জেলা শহরসহ দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার জনতা ভীড় জমায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply