দেবিদ্বারে ২য় দিনেও গৃহবধূর লাশ উদ্ধার হয়নি; ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার: পাইপ উত্তোলনে ব্যয় হবে ৮০ হাজার টাকা

মাসুমুর রহমান মাসুদ,চান্দিনা (কুমিল্লা):–
কুমিল্লার দেবিদ্বারে গৃহবধূর শাহিনা’র লাশের সন্ধান মিললেও দ্বিতীয় দিনেও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। উদ্ধারকর্মী এবং উদ্ধারের সরঞ্জামাদি না পাওয়াসহ নানা কারণে মৃত দেহ উদ্ধার করা যায়নি। এদিকে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে গভীর নলকূপের পাইপ উত্তোলন করা হলে তারপর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব। এতে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হবে বলেও জানাগেছে।
এদিকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার কাজ দেখতে ঘটনাস্থলে শনিবার (৮ মার্চ) সকাল থেকে হাজার হাজার উৎসুক জনতা  দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ছেঁচরাপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন গভীর নলকূপ এলাকায় ভীড় জমায়। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা থেকে দেবিদ্বার থানা পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা দিতে শুরু করে। শনিবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।  দেবিদ্বার থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) তারেক মোহাম্মদ হান্নান জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
এদিকে নিহত শাহিনার মৃত দেহ উদ্ধারে পুলিশ কয়েক দফায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত গভীর নলকূপ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ৮০ হাজার টাকা চুক্তি করে।  আজ রবিবার থেকে খনন কাজ শুরু করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গৃহবধূ শাহিনা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) শাহ্ কামাল আকন্দ জানান, শাহিনার স্বামী মোবারক হোসেন এর ভাড়াটিয়া খুনিদের মধ্যে একজনকে আটক করার পর তার স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। হত্যাকারীর স্বীকারোক্তিতে জানাযায়, স্বামী মোবারক হোসেন এর সাথে দুই লক্ষ টাকা চুক্তিতে শাহিনাকে হত্যার পর পাশ্ববর্তী একটি অব্যবহৃত গভীর নলকূপের ১৪ইঞ্চি গোলার্ধ পাইপের ভেতরে ফেলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আমরা গভীর নলকূপের পাইপের ভেতরে রড ও বাঁশ দিয়ে প্রায় ৩৬ফুট গভীরে লোকিয়ে রাখার নিহতের অস্তিত্বের আলামত পাই। তারপর থেকে ফায়ার সার্ভিস, মাটি কাটার সদস্যসহ বিভিন্ন ভাবে উত্তোলনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। আমাদের কাছে উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত পর্যন্ত যন্ত্রাংশ, জনবল না থাকায় এবং গভীর নলকূপ স্থাপন-উত্তোলন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার সকাল কুমিল্লা জেলা সদর থেকে নলকূপ স্থাপন ও উত্তোলন প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই মুক্তা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ’ এর কর্তপক্ষ ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাদের সাথে ৮০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। তারা  শনিবার থেকেই উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদী সরবরাহ করে রবিবার থেকে কাজ শুরু করবেন।
এব্যাপারে নলকূপ স্থাপন ও উত্তোলন প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই মুক্তা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ’ এর সত্বাধিকারী মো. আলী আকবর জানান, ‘শনিবার বিকাল থেকে উত্তোলন সরঞ্জামাদী সরবরাহ করে শনিবার সেগুলো স্থাপন করা হবে। রবিবার থেকে কাজ শুরু হলেও সম্পূর্ণ পাইপ উত্তোলন করতে অন্তত আরও ৪-৫ দিন সময় লাগবে’।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply