আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার রফিকুল ইসলামের নামে কুমিল্লা শহরে রাস্তার নামকরণের দাবী

ষ্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণপাড়া:–
১৯৫২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী হানাদারদের নির্মম আক্রমনে ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষার জন্য শহীদ হওয়া রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার সহ বহু শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও  শ্রদ্ধা জানিয়ে ওই দিনকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য যিতি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানাচ্ছি। তিনি কুমিল্লাবাসীর গর্ভ ২১শে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। যিনি তার বিচক্ষনতা ও দূরদৃষ্টি দিয়ে প্রতিক্ষিত কুমিল্লার মান উজ্জল করেছেন। পাকিস্তান পার্লামেন্টে বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রামকারী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের উত্তরসূরী হয়ে প্রমান করেছেন কুমিল্লার উপাধি প্রতিক্ষিত হওয়ার যথার্ত ছিল। প্রকৃতপক্ষেই উনি আমাদের কুমিল্লাবাসীর গর্ভ । তিনি জন্ম না হলে হয়তো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে কোন দিবস পালন হতো না কিংবা স্বীকৃতি পেত না। ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের একজনের নাম রফিক। অলৌকিক ভাবে ১৯৯৮ সালে যিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফর হয়েছেন তার নামও রফিক। যার বাড়ী কুমিল্লার উজির দীঘির পাড়ে। এ বছর প্রথম সংসদ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেষ হাসিনা যে ৪জন শহীদের নাম উচ্চারণ করে শোক প্রস্তাব করেছিলেন। তাদের একজন ছিলেন আমাদের কুমিল্লার রফিকুল ইসলাম। আমরা তার জন্য গর্বিত, উনার নামে কুমিল্লা শহরে সড়কের নামকরণ চাই।
সকলের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এ’প্রতিনিধির নিকট মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে সাবলিল ভাবে এ দাবী উথ্থাপন করেন রফিকুল ইসলাম এর খুব কাছের মানুষ ব্রাহ্মণপাড়া মোশাররফ খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আমেরিকা প্রবাসী মোশাররফ খান চৌধুরী। তিনি বলেন, রফিক ভাই মারা যাবার পূর্বে জীবনের শেষ ২১শে ফেব্রুয়ারী আমেরিকা (নিউ ইয়র্ক) আমার সাথে পালন করেছেন। কুমিল্লার মানুষ হিসেবে আমার সাথে রফিক ভাইয়ের খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি বাঙ্গালী হিসেবে সকল বাংলাদেশীকে ভালবাসলেও কুমিল্লাবাসীর জন্য ছিলেন বেশী উদার। আমি তখন, যুক্তরাষ্ট্রের কুমিল্লা সোসাইটির উত্তর আমেরিকা ইনক এর সভাপতি। আমি জানতাম রফিক ভাই মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবুও সাহস সরে ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীতে একটু ঘটা করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্যে কুমিল্লা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর কুন্ডু গোপী দাস এবং রফিকুল ইসলাম ভাইকে আমন্ত্রন জানাই। আমি ভাবতের পারিনি তিনি এত অসুস্থ্য অবস্থায় আমার নিমন্ত্রনে সুদুর ক্যানাডা থেকে স্বস্ত্রীক নিউইয়র্কে আমার বাসায় আসবেন। আমার ভাগ্যক্রমে উনাদের দুজনকে সাথে নিয়ে বেধনা মাখা আনন্দ নিয়ে ঘটা করে পালন করেছিলাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
যিনি বাংলা ভাষা তথা কুমিল্লবাসীর জন্যে এত কিছু করেছেন, আমরা উনার জন্য আরও বেশী কিছু করা উচিৎ। কুমিল্লাবাসী হিসেবে ২১শে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম ভাইকে স্বরনীয় করে রাখতে কুমিল্ল শহরে উনার নামে রাস্তার নামকরণ করতে জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply