একতরফা পরাজয়ে সিরিজ হারাল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক:–
ফাগুণে আগুণ রাঙ্গা জয়ের প্রত্যাশায় ছিলেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। চার ক্যাচ মিসে শ্রীলঙ্কা ২৮৯ করে বসলে ধাক্কা খায় স্বপ্নটা। জবাবে ভালো শুরু করেও ১৫৩ রানে ৫ ও ১৭০ রানে ৭ উইকেট হারালে ছন্দপতন হয় বাংলাদেশের।  হারানো ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি আর। মুশফিকের দৃঢ়তায় স্কোর ২০০ পেরুলেও শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হল ৬২ রানে। বাংলাদেশ ৪৩ ওভারে অলআউট হয় ২২৮ রানে।

চাপের পাহাড় নিয়েও অধিনায়কের মতই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তার ৮৩ বলে ৭৯ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত হারের ব্যবধানটা ১০০ হয়নি। দুটি টি-টোয়েন্টির পর প্রথম ওয়ানডেতেও নাটকীয়ভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার একতরফা হারে সিরিজ হারাল তারা। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিল লঙ্কানরা।

৪০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৮৯। বিপরীতে বাংলাদেশ করেছিল ৭ উইকেটে ২০৭। তবে রান বেশি হলেও উইকেট হারানোয় চাপ বেশি বাংলাদেশের। এই চাপটা কাটাতে মেন্ডিসকে ছক্কা মারতে গিয়ে ১৭ করা মাশরাফি ক্যাচ দেন পেরেরাকে।  চাপটা আসলে  বেড়েছে সাকিবের আত্মাহুতির পর।চতুর্থ উইকেট ৫৩ রান যোগ করেছিলেন মুশফিক ও সাকিব। কিন্তু ইনিংস মেরামতের বদলে নিজের উইকেটটি ছুঁড়ে আসেন সাকিব।

২৩ বলে ২৪ করার পর প্রিয়ঞ্জণের বলে যেভাবে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ক্যাচ দিয়েছেন তাকে সেনানায়েকেকে তাকে আত্মহত্যাও বলা যায়। আউট হওয়ার আগের ওভারেও ম্যাথুজকে অযথা ডাউন দ্য উইকেটে এসে বিগ শট খেলেছেন সাকিব। এমন অভিজ্ঞ ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাটিং দেখে ধারাভাষ্যে আতাহার আলি খান বলছিলেন, ‘দলের নয় নিজের জন্য খেলছেন সাকিব।’ সাকিবেরে ফেরার পর  লড়াই শুরু করেন মুশফিক ও নাসির। দূর্দান্ত শুরু করা নাসির ফিরেন ২৪ বলে ২৫ করে। এর পরপরই রান আউট হয়ে যান মাহমুদুল্লাহ।

এর আগে মালিঙ্গার চতুর্থ বলেই কোন রান না করে শামসুর ক্যাচ দেন সেনানায়েকেকে। দ্বিতীয় উইকেটে এনামুল ও মমিনুল গড়েন ৫৫ রানের জুটি। ১৫ করা মমিনুলকে উইকেটের পেছনে সাঙ্গাকারার ক্যাচ বানিয়ে জুটিটা ভাঙ্গেন সেনানায়েকে। কিছুক্ষণ পরই ৪৬ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৪২ করা এনামুলকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান থিসারা পেরেরা। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

কাকতালীয়ভাবে শ্রীলঙ্কাও ৬৩ রানে হারিয়েছিল ৩ উইকেট। এরপর বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসে চতুর্থ উইকেটে ১১৪ রানের জুটি গড়ে চাপটা কাটান সাঙ্গাকারা ও প্রিয়ঞ্জন। বাংলাদেশের বিপক্ষে কুমার সাঙ্গাকারার টেস্ট ব্যাটিং গড় ৯৫.৫৭ (১৫ ম্যাচের ২১ ইনিংসে ৯৫.৫৭ গড়ে ১৮১৬ রান)। স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের (৯৯.৯৪) কাছাকাছিই! ওয়ানডেতেও হাসছে এ লঙ্কানের ব্যাট। চট্রগ্রাম টেস্টে ট্রিপলের পর মিরপুরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে করলেন সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে এটা তার ১৭তম সেঞ্চুরি যা শ্রীলঙ্কার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তিলকরত্নে দিলশানেরও ওয়ানডে সেঞ্চুরি ১৭টি। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮ সেঞ্চুরি সনৎ জয়াসুরিয়ার।

সাঙ্গাকারার সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ২৮৯ করে লঙ্কানরা যা মিরপুরে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। ১১৫ বলে ১৪ বাউন্ডারিতে ১২৮ করে সাঙ্গাকারা আরাফাত সানির বলে ক্যাচ দেন মাহমুদুল্লাহকে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটি পূরণ করে প্রিয়ঞ্জন ৬০ করে এলবিডব্লিউ হন সাকিবের বলে। এছাড়া ম্যাথুজ ৩৯ বলে ৫৬ ও দুই জীবন পেয়ে ভিথাঙ্গে করেন ১৩ রান। রুবেল হোসেন ৩ উইকেট পেলেও ১০ ওভারে দিয়ে বসেন ৭৬ রান। সোহাগ,সানি ও সাকিব নেন ১টি করে উইকেট।

Check Also

কুমিল্লার বিপক্ষে ১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক :– বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে রাজশাহী কিংসকে ১৫৩ রানের টার্গেট দিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ...

Leave a Reply