সাইনবোর্ড বাংলায় লেখার নির্দেশ…… হাইকোর্টের নির্দেশকে জানাই সাধুবাদ

মোঃ আলাউদ্দিন:–

আমাদের এই দেশের নাম বাংলাদেশ। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট। আর আমাদের এই স্বাধীন দেশের রাষ্ট ভাষা হচ্ছে বাংলা। এই বাংলা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে  হয়েছে বহু আন্দোল ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে। তার পরেই আমরা পেয়েছি আমাদের এই বাংলা ভাষা। চলছে ভাষা আন্দোলনের ৬২তম বছর। এত ত্যাগ-তীতিক্ষার বিনিময়ে পাওয়া বাংলা ভাষা আমরা প্রায় ভূলতে বসেছি। চোখ মেলে চারদিকে তাকালেই আমরা এর সত্যতা দেখতে পাব। ষাটের দশকে দেশের প্রায় সব সাইনবোর্ডের অক্ষরগুলো লেখা হতো বাংলায়। প্রায় আশির দশক পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে ফেব্র“য়ারী ঘিরে বাংলা ভাষাকে নিয়ে আবেগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইংরেজী ভাষার ছড়াছড়ি চলছে। বর্তমানে সাইকেল থেকে আরম্ভ করে সিএনজি, প্রাইভেট কার, বাস, মিনিবাসের নাম্বার প্লেট, নেইম প্লেট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাড়ি ঘরের সাইনবোর্ড লেখাসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই ইংরেজী ভাষণার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এ বিষয়ে ঢাকা সিটি করপোরশেন ও বাংলা একাডেমীর উদ্যোগের ফলে প্রায় সাত বছর আগে একটি আইনও করা হয়। এ আইনে বলা হয় রাজধানীরসকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দোকান অফিস-আদালত, বাড়ির নেইম প্লেটসহ সকল প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বাংলায় লেখতে হবে। কিন্তু ডিসিসির এ আইনের তোয়াক্কা করছেনা কেউ। সংবিধান, আইন আর সরকারি নির্দেশনার পরেও সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট ভাষা হচ্ছে অবহেলিত। গাড়ির নম্বরফলক, বাড়ির নাম, বিপনীবিতানের নাম, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও আদালতের রায়ও লেখা হচ্ছে ইংরেজীতে। অন্যদিকে আধুনিকতার নামে চলা বাণিজ্য নির্ভর শিক্ষার দাপটে শিক্ষাঙ্গন থেকেও বিদায় নিচ্ছে আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর নামে ইংরেজী, আরবী ও উর্দূর দাপট। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকায়ও যেন বাংলা নাম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সম্প্রতি জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের  (নিমকো) প্রশিক্ষণার্থীদের জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় ২৯৫টি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ইংরেজীতে লেখা হয়েছের্ । অথচ বাংলায় লেখা হয়েছে মাত্র ৬০টি সাইনবোর্ড। বাংলা ও ইংরেজী মিশ্রিত সাইনবোর্ড রয়েছে ১৭৯টি। এখন বাড়ির নাম থেকে শুরু করে সবখানে ইংরেজী শব্দের বাহুল্য। এতে বাঙালির প্রাত্যাহিক জীবনে ভাষা চর্চার বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।
ভাই একুশের চেতনায় প্রতিফলনে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন পাস হওয়ার ২৭বছর কেটে গেলেও এর বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইউনুস আলী আকন্দের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ফেব্র“য়ারী দূতাবাস ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব সাইনবোর্ড, নেইমপ্লেট ও গাড়ির নম্বর প্লেট বাংলায় লেখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমসহ সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ কেন দেয়া হবেনা- তা জানতে চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ, আইন, স্বরাষ্ট ও সংস্থাপন সচিবকে দুই সপ্তাহের একটি রুলও জারি করেছে হাইকোর্ট। আদালতে ইউনুস আলী আকন্দ নিজেই শুনানী করেন। তাই ইউনুস আলী আকন্দকে অভিনন্দন জানাই। এছাড়া একুশের চেতনা রক্ষায় সাইনবোর্ড, নম্বরপ্লেট বাংলা লেখার হাইকোর্টের আদেশকেও জানাই সাধুবাদ।

মোঃ আলাউদ্দিন
সাধারণ সম্পাদক- নাঙ্গলকোট লেখক ফোরাম
দপ্তর সম্পাদক- নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাব
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।
মোবাইল- ০১৯১১৫৩৮০৭৯
তারিখ- ২০/০২/২০১৪ইং

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply