বঙ্গোপসাগরে সফল মিসাইল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বার্ষিক নৌ মহড়া সমাপ্ত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:–  
বঙ্গোপসাগরে সফল মিসাইল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া “এক্সারসাইজ সী থান্ডার-২০১৪” আজ সোমবার         সমাপ্ত হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আরসিডিএস, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে নৌবাহিনীর আধুনিক জাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু থেকে সমাপনী দিবসের মহড়াসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। এসময় নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, এনডিসি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধান অতিথি জাহাজে এসে পৌঁছালে কমডোর কমান্ডিং বিএন ফ্লোটিলা কমডোর এম খালিদ ইকবাল, (এনডি), এনডিসি, পিএসসি, বিএন এবং বানৌজা বঙ্গবন্ধুর অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এস এম মনিরুজ্জামান, (সি), পিএসসি, বিএন তাঁকে স্বাগত জানান। নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল জাহাজে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ ১৬ দিনব্যাপী আয়োজিত এ মহড়ায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সদ্য সংযোজিত সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রজয়, ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইনসুইপার, পেট্রোলবোট, গানবোট, টর্পেডো বোটসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ এবং নৌবাহিনীর মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফট ও হেলিকপ্টার। এছাড়াও, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাসমূহ এ মহড়ায় প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। মোট চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত এ মহড়ার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিল নৌ বহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিষ্টিক অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত নৌ স্থাপনাসমূহের প্রতিরক্ষা মহড়া প্রভৃতি। নৌবাহিনীর এ বার্ষিক মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য ছিল সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ সমুদ্র পথে চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ। চূড়ান্ত দিনের মহড়ার উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ হতে মিসাইল উৎক্ষেপণ, সাবমেরিন বিধ¦ংসী গোলা নিক্ষেপ, বিমান বিধ¦ংসী কামানের গোলাবর্ষণ ও নৌ যুদ্ধের বিভিন্ন কলাকৌশল। এবারের মহড়ায় প্রথমবারের মতো নৌবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও প্রযুক্তিতে তৈরীকৃত টার্গেট ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মহড়ায় টার্গেট ড্রোনের উপর বিমান বিধ্বংসী মিসাইল ও কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়।

মহড়ার সফল সমাপ্তির পর প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের সকল কর্মকর্তা ও নাবিকদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি সফল মহড়ার জন্য সকল নৌ সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানান এবং নৌ সদস্যদের পেশাগতমান, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধান অতিথি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নৌ ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন এবং সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন সমূদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকায় বাংলাদেশের কর্তৃত্ব স্থাপন করে জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দেশের এ বর্ধিত সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

নৌ মহড়ার সমাপনী দিনে অন্যান্যের মধ্যে উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ, নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল ষ্টাফ অফিসারগণ, কমডোর কমান্ডিং বিএন ফ্লোটিলা সহ পদস্থ নৌ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply