ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ যেন মরণ ফাঁদ : ১ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১৮

মাসুমুর রহমান মাসুদ,চান্দিনা(কুমিল্লা):–
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ যেন মরণ ফাঁদ। প্রতি বছরই মহাসড়কের এ অংশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে লাশের সংখ্যাও। অকালে ঝরছে বহু তাজা প্রাণ। আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবারের জন্য বোঁঝায় পরিণত হচ্ছে।
দেশের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রতি বছরই দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। কিন্তু বছর ঘুড়ে ওই সংখ্যার হিসাব কষা অনেকেরই সম্ভব হয় না।
২০১৩ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার এলাকায় ৩২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৮জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৯জন পুরুষ, ২৬জন নারী ও ৩০জন শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে প্রায় ৪৫৫জন।  যা গত ২০১২ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।  ২০১২ সালের এক বছরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৮৭টি দুর্ঘটনায় ৯৯জন নিহত হয়েছিল। আর এক বছর ঘুড়তেই ওই সংখ্যা দ্বিগুনের বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ২০১৩সালের জানুয়ারী মাসের ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৪জন নিহত ৩৭জন আহত হয়, ফেব্র“য়ারী মাসের ২৭টি দুর্ঘটনায় ১৭জন নিহত ও ৪৮জন আহত হয়, মার্চ মাসের ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৫জন নিহত ও ৩৩জন আহত হয়, এপ্রিল মাসের ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৩জন নিহত ও ২২জন আহত হয়, মে মাসের ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮জন নিহত ও ২৯জন আহত হয়, জুন মাসের ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২০জন নিহত ও ৩৭জন আহত হয়, জুলাই মাসের ২২টি দুর্ঘটনায় ১০জন নিহত ও ২২জন আহত হয়, আগস্ট মাসের ৪৬টি দুর্ঘনটায় ২৪জন নিহত ও ৮৩জন আহত হয়, সেপ্টেম্বর মাসের ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৭জন নিহত ও ৪২জন আহত হয়, অক্টোবর মাসের ৪৪টি দুর্ঘটনায় ১৯জন নিহত ও ৫৬জন আহত হয়, নভেম্বর মাসের ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৪জন নিহত ও ১৮জন আহত হয়, ডিসেম্বর মাসের ১২টি দুর্ঘটনায় ১৩জন নিহত ও ১৯জন আহত হয় এবং ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসের ১০টি দুর্ঘনায় ১২জন নিহত ও ১৯জন আহত হয়।
এর মধ্যে জুন মাস থেকেই সড়ক দুর্ঘটনা বড়তে শুরু করে। শুধুমাত্র জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ২২১টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৪জন নিহত ও ২৫৮জন আহত হয়। এর মধ্যে আগষ্ট মাসেই নিহত হয় ২৪জন এবং আহত হয় ৮৩জন। তবে ওই মৌসুমে বেশি দুর্ঘটনার জন্য বর্ষা ও শীতের প্রচন্ড কুয়াসাকেই দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জেলার কুমিল্লার ৯৭ কিলোমিটারের মহাসড়কের মধ্যে শুধুমাত্র চান্দিনাই ৫০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
অপরদিকে ২০১৩ সালের স্মরণীয় দুর্ঘটনা ঘটে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলাধীন ময়নামতি এলাকায়। বছরের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার ওভারব্রীজ ও কাকলি রেস্তোরা গেইটের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। ওই কাভার্ডভ্যানের চাপায় পিষ্ঠ হয়ে তিন নারীসহ পাঁচজন নিহত ও কমপক্ষে ২০জন আহত হয়।
এছাড়া ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখ দাউদকান্দিতে জিপ চাপায় মা-মেয়েসহ ৪জন, একই মাসের চৌদ্দগ্রামে বাস চাপায় পুলিশ সদস্য, নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখ দাউদকান্দিতে যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিক্সাকে চাপা দিলে নারী নেত্রী শাহনাজ, অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ দাউদকান্দিতে কৃষকলীগ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। নিহত ও মারাত্মক আহত হয়ে পঙ্গত্ববরণ করাদের মধ্যে অনেকে রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসিনক কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং সংবাদকর্মীও রয়েছে।
এব্যাপারে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ পূর্বাঞ্চল কুমিল্লা জোনের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম পিপিএম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, ‘পুরো বছরের হিসাবটি এই মুহুর্তে আমার জানা নেই। তালিকা না দেখে কিছুই বলতে পারবো না’।

সুলতানপুরে কাশেম আলী ও উমেদা খাতুন ফাউন্ডেশন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
(ছবি-আছে)
মাসুমুর রহমান মাসুদ
প্রতিনিধি, চান্দিনা (কুমিল্লা)
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার প্রতি বছরের ন্যায় কাশেম আলী এন্ড উমেদা খাতুন ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বার্ষিক এওয়ার্ড ও শিক্ষা বৃত্তি সনদ প্রদান করা হয়। এতে ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৬ জনকে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। নগদ ১,২০,০০০/= (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা সহ বিভিন্ন বই ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরন করা হয়। কুরছাপ, চান্দিনা পাইলট এবং তুলাগাওঁ উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২৫ জন, সুলতানপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে ৫ জন, শিশু বিদ্যা নিকেতন কিন্ডার গার্টেন থেকে ১৮ জন, ব্র্যাক স্কুল থেকে ৫ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ১২৩ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তপন চন্দ্র দাস এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ১৪ নং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন।  বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মোহাম্মদপুর সিরাজুল ইসলাম কলেজ এর অধ্যাপক মোঃ হুমায়ূন কবির, ডাঃ আব্দুল খালেক, মৃত কাশেম আলী সাহেবের বড় মেয়ে মোসাম্মৎ ফরিদা বেগম।
এসময় অন্যান্যদের মাধ্যে উপস্থিত ছিলেন-মো. মাসুদ আলম, মো.ছিদ্দিকুর রহমান মেম্বার, মো. ময়নাল হোসেন, মোহাম্মদপুর সিরাজুল ইসলাম কলেজ এর অধ্যাপক মো. এনামুল হক, সুলতানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রেহেনা বেগম, অনীল মাষ্টার, রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মামুনুর রশিদ সরকার, মো.জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply